সংবাদদাতা, কাঁথি: দীঘার সমুদ্রসৈকতের ঘাটে পর্যটকদের বিপদ ডেকে আনছে সবুজ শ্যাওলা। এক ঝলক দেখলে মনে হবে, সমুদ্রতটে যেন সবুজ কার্পেট পাতা রয়েছে। দূর থেকে দেখতে মনোরম লাগে ঠিকই। কিন্তু, দীঘার সৈকতে অনেক সময় এই শ্যাওলার আস্তরণই বিপদ ডেকে আনছে। দীঘার ব্লুভিউ ঘাট, এক নম্বর ঘাট সহ আরও কয়েকটি স্নানঘাটে পাথরে কিংবা সিমেন্টের চাঁইয়ের উপর শ্যাওলা জমেছে। না জেনে অনেক পর্যটক সেই শ্যাওলার উপর দিয়ে হাঁটছেন। অনেকে সেলফি তুলছেন, রিলস বানাচ্ছেন। বুঝতে না পেরে মুহূর্তের অসাবধানতায় পা পিছলে পড়ে জখম হচ্ছেন পর্যটকরা। গত কয়েকদিনে পাঁচজন পর্যটক জখম হয়েছেন। সবমিলিয়ে সমুদ্রের ধারে জমে থাকা এই সবুজ শ্যাওলাই কার্যত মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। পর্যটকরা প্রশাসনের কাছে অবিলম্বে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আর্জি জানিয়েছেন। তাঁদের দাবি, দ্রুত এই শ্যাওলা পরিষ্কারের উদ্যোগ নেওয়া হোক। প্রশাসনের তরফে অবশ্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, অনেকদিন ধরে পরিষ্কার না হওয়ায় বিভিন্ন স্নানঘাটে ক্রমশ শ্যাওলা জমছে। শ্যাওলার আস্তরণ অত্যন্ত পিচ্ছিল। একবার পা পিছলে গেলে নিয়ন্ত্রণ রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে। শুধু তাই নয়, শ্যাওলার ভিতরে লুকিয়ে রয়েছে অসংখ্য ছোট ঝিনুক। ঝিনুকগুলি ব্লেডের মতো ধারালো। অসাবধানতায় পড়ে গেলে সেগুলি শরীরে গেঁথে গিয়ে গভীর ক্ষতের সৃষ্টি করছে। পর্যটকদের অনেকেই পড়ে গিয়ে মাথায়, কোমরে চোট পেয়েছেন। জগন্নাথ মন্দির উদ্বোধনের পর দীঘায় পর্যটকের সংখ্যা বহুগুণ বেড়েছে। প্রতিদিন হাজার হাজার পর্যটক সৈকতে সমুদ্রের অপরূপ শোভা দেখতে ভিড় জমাচ্ছেন। তারই মধ্যে ঘাটের এহেন পরিস্থিতিতে পর্যটকদের মধ্যে আতঙ্ক বাড়ছে। পুলিশ-প্রশাসনের কর্তাদের দাবি, পর্যটকদের শ্যাওলার দিকে যেতে নিষেধ করা হয়। কিন্তু, অনেকেই সতর্কবার্তা শুনতে চান না। ছবি তোলা ও রিলস বানানোর নেশায় বিপদকে উপেক্ষা করছেন। ফলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বাড়ছে। স্থানীয় বাসিন্দা দেবব্রত দাস বলেন, দীঘার সৈকতে শ্যাওলা বিপদ ডেকে আনছে। পর্যটকদের নিরাপত্তার স্বার্থে সতর্কতামূলক বোর্ড লাগানো হোক। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে যেকোনও সময় বড়সড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। দীঘা-শঙ্করপুর উন্নয়ন সংস্থার(ডিএসডিএ) মুখ্য কার্যনির্বাহী আধিকারিক সুরজিৎ পণ্ডিত বলেন, আমরা বিষয়টি জানি। খুব শীঘ্রই বিচ ক্লিনিং কর্মসূচি নেওয়া হবে। সেখানে এব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে। পর্যটকদের যাতে কোনও সমস্যা না হয়, সেই বিষয়টি আমরা দেখব।