প্রদীপ্ত দত্ত, ঝাড়গ্ৰাম: ঝাড়গ্রামের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ ‘বড় পাহাড়’কে প্রচারে আনতে চাইছে পর্যটনদপ্তর। গভীর অরণ্য ও সবুজ উপত্যকায় ঘেরা এই পাহাড়। পাহাড়ের পাদদেশে মিলেছিল নব্য প্রস্তর যুগের মানুষের হাত কুঠার, তিরের ফলা, তুরপুন। রহস্যময় এই পাহাড় ঘিরে ছড়িয়ে আছে নানা বিশ্বাস, লোকশ্রুতি। বড় পাহাড় ছড়িয়ে আছে আমলাশোল থেকে আমঝর্ণা পর্যন্ত। জঙ্গলঘেরা গ্ৰাম দু’টির দক্ষিণে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে জেলার সর্বোচ্চ পাহাড়। উচ্চতা ৩৭০ মিটার। কাঁকড়াঝোড় ঢোকার আগে থেকেই পাহাড়টি চোখে পড়ে। আমলাশোলের দিক থেকে পাহাড়ের নৈসর্গিক দৃশ্য সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। বড় পাহাড়ের অপর প্রান্তে ঝাড়খণ্ডের মাকুলি জঙ্গল ও লকাইসিনি পাহাড় রয়েছে। সুউচ্চ পাহাড় ও গভীর জঙ্গল এই এলাকার আকর্ষণ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
রহস্যময় বড় পাহাড়কে ঘিরে নানা জনশ্রুতি রয়েছে। বিশ্বাস, পাহাড়-দেবতা নাকি জঙ্গলের পশুপাখিদের রক্ষা করেন। জঙ্গলে রাস্তা হারানো মানুষদের দেন পথের সন্ধান। পাহাড়ের দীর্ঘ পাদদেশ থেকে ১৯৭৮সালে নব্য প্রস্তর যুগের হাত কুঠার, তিরের ফলা, তুরপুন উদ্ধার হয়। যা নিয়ে গবেষক মহলে শোরগোল পড়ে যায়। বর্তমানে সংগৃহীত সামগ্ৰীগুলি রাজ্যের পুরাতাত্ত্বিক সংগ্ৰহশালায় রাখা হয়েছে। ঝাড়গ্রামকে রাজ্যের অন্যতম পর্যটনস্থল হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে। বড় পাহাড় তার মধ্যে অন্যতম। জেলা পর্যটনদপ্তরের আধিকারিক বিধান ঘোষ বলেন, পর্যটকদের একটা বড় অংশ বেলপাহাড়ী এলাকায় বেড়াতে আসেন। এই এলাকাতেই বড় পাহাড় রয়েছে। বড় পাহাড়কে পর্যটনের মানচিত্রে তুলে ধরার প্রচেষ্টা চলছে। বেশকিছু পদক্ষেপ আগে নেওয়া হয়েছিল। সেগুলি কার্যকর করা যায় কিনা তা দেখা হচ্ছে। জেলার মধ্যে সবচেয়ে উচ্চতম এই পাহাড়। পর্যটকদের সঙ্গে পর্বতারোহীদের কাছেও এই পাহাড় আকর্ষণীয় হয়ে উঠতে পারে। বিষয়টি মাথায় রেখে বড় পাহাড় নিয়ে প্রচার বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। ঢাঙ্গিকুসুম এলাকার বাসিন্দা দেবেশ হেমব্রম বলেন, বড় পাহাড়কে নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে নানা বিশ্বাস, লোকশ্রুতি ছড়িয়ে আছে। এখানকার উপজাতি সম্প্রদায়ের মানুষ দেবতা মারাং বুরুকে পুজো করেন। আক্ষরিক অর্থে, দেবতার নামের আর এক মানে ‘মহান পর্বত’। পাহাড়-পুজো ঘিরে এই এলাকার মানুষ উৎসবে মাতেন। পাহাড়, জঙ্গল আমাদের কাছে পবিত্র স্থান। বেলপাহাড়ী ট্যুরিজম অ্যাসোসিয়েশনের মুখপাত্র বিধান দেবনাথ বলেন, বেলপাহাড়ীকে ঝাড়গ্রাম জেলার পর্যটনের মুখ বলা যেতে পারে। বেলপাহাড়ীর পর্যটনের অন্যতম কেন্দ্রস্থল হল বড় পাহাড়। বড় পাহাড়কে আরও বেশি করে প্রচারের আলোয় আনা দরকার। পর্যটকদের সঙ্গে পর্বতারোহীদের আকর্ষণ করা গেলে এই এলাকার পর্যটনের চিত্রের আমূল বদল আসবে। নব্য প্রস্তর যুগের সংগৃহীত সামগ্ৰী নিয়ে জেলায় সংগ্ৰহশালা গড়া হলে, এই এলাকার আকর্ষণ আরও বাড়বে। রাজ্য ও জেলার পর্যটনদপ্তর অবশ্যই নানা উদ্যোগ নিচ্ছে। যার জেরে এখানে আগের তুলনায় পর্যটকদের আনাগোনা বেড়ে গিয়েছে।