Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পহেলগাঁও পৌঁছে শেষমুহূর্তে ট্যুর প্ল্যান বাতিল, বরাতজোরে রক্ষা

জঙ্গি হামলার আগের দিন জলপাইগুড়ির ১৮ জন পর্যটককে নিয়ে কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে পৌঁছন ট্যুর অপারেটর শুভম দাস

পহেলগাঁও পৌঁছে শেষমুহূর্তে ট্যুর প্ল্যান বাতিল, বরাতজোরে রক্ষা
  • ২৬ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: জঙ্গি হামলার আগের দিন জলপাইগুড়ির ১৮ জন পর্যটককে নিয়ে কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে পৌঁছন ট্যুর অপারেটর শুভম দাস। যেদিন জঙ্গি হানার ঘটনা ঘটে, সেদিন তাঁদের বৈসরনভ্যালি যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু শেষমুহূর্তে বদল হয় ট্যুর প্ল্যান। বৈসরনভ্যালির পরিবর্তে তাঁরা চলে যান চন্দনওয়াড়ি, বেতাবভ্যালি। আর তারই জেরে বরাতজোরে রক্ষা পান সকলে। তবে জঙ্গি হামলার পর সেনার ঘেরাটোপ, মাথার উপর সেনা কপ্টারের টহল, চারদিকে আতঙ্কিত মুখ, সবমিলিয়ে অভিজ্ঞতা হাড়হিম করা। জলপাইগুড়ি পৌঁছে তারই বর্ণনা দিলেন শহরের কোরানিপাড়ার বাসিন্দা শুভম।

Advertisement

এদিকে, শিলিগুড়ি, জলপাইগুড়ি, ময়নাগুড়ি মিলিয়ে ১১ জনের টিম কাশ্মীর ট্যুর সেরে ফিরেছে গত সপ্তাহে। ওই টিমে সস্ত্রীক ছিলেন জলপাইগুড়ি শহরের ২২ নম্বর ওয়ার্ডের দেশবন্ধুপাড়ার বাসিন্দা সাগর রায়। বললেন, ঘোড়ার পিঠে চড়ে বৈসরনভ্যালি পৌঁছতে হয়। দেরি হয়ে যাওয়ায় আমরা আর সেখানে না গিয়ে চন্দনওয়াড়ি চলে যাই। এখন ভাবছি, আর কয়েকটা দিন পরে যদি ওখানে যেতাম, না জানি ভাগ্যে কী ছিল!
পেশায় মিউজিক শিক্ষক সাগর বলেন, এপ্রিলে টিউলিপের সৌন্দর্যের টানেই দেশ-বিদেশ থেকে মানুষজন কাশ্মীরে বেড়াতে যান। আমাদের সঙ্গে প্রচুর বাঙালির দেখা হয়েছে। জঙ্গি হামলার জেরে মানুষজনের কাশ্মীরে বেড়াতে যাওয়া নিয়ে যে আতঙ্ক তৈরি হল তা কতদিনে কাটবে, বলা মুশকিল। তাঁর দাবি, কাশ্মীরে যে সবসময় একটা আতঙ্ক বিরাজ করছে, তা সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলে বুঝেছি। তাছাড়া সব ট্যুরিস্ট স্পটে সেনাবাহিনীও চোখে পড়েনি।  এদিকে, জঙ্গি হামলার পর পহেলগাঁওয়ের ছবিটা কেমন ছিল, তা বলতে গিয়ে শুক্রবার রীতিমতো শিউড়ে ওঠেন শুভম। বলেন, সেনাবাহিনীর গোটা এলাকার দখল নিয়ে নেওয়া, মাথার উপর সেনা কপ্টারের চক্কর, গাড়ির লম্বা লাইন, লোকজনের ছোটাছুটি, সবার চোখেমুখে আতঙ্ক, এখনও ভাবলে হাত-পা ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে। তাঁর দাবি, জঙ্গি হামলার পরই পহেলগাঁওয়ে কারফিউ শুরু হয়ে যায়। হোটেলবন্দি করে দেওয়া হয় পর্যটকদের। পরদিন অনেক কষ্টে স্থানীয় এক বন্ধুর সহযোগিতায় কয়েকটা গাড়ি জোগাড় হয়। সেই গাড়িতে অর্ধেক রাস্তা এসে, অন্য গাড়ি জোগাড় করে বাকি অর্ধেক পথ পেরিয়ে শ্রীনগরে পৌঁছই। শুভমদের টিমে বেশ কয়েকজন বয়স্ক মানুষ ছিলেন। বৈসরনভ্যালি যাওয়া হলে কী যে হতো তা ভাবলেই গায়ে কাঁটা দিচ্ছে বলে জানান ওই ট্যুর অপারেটর।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ