স্টকহোম: অদ্ভুত সময়ের মধ্য দিয়ে চলেছে আধুনিক বিশ্ব। জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের জেরে ঘনীভূত হচ্ছে দূষণ-সংকট। প্রযুক্তির সাফল্য সত্ত্বেও ছিঁটেফোটা পরিবর্তন হয়নি উষর মরুভূমির। বস্তুত আজও এক ফোঁটা জলের জন্য লড়াই করতে হয় সেখানে। সভ্যতার এই সংকটে বিশল্যকরণী হয়ে উঠেছে সুসুমু কিতাগাওয়া, রিচার্ড রবসন এবং ওমর এম ইয়াঘির গবেষণা। তাঁরা আবিষ্কার করেছেন মেটাল অর্গানিক ফ্রেমওয়ার্ক (এমএফও)। এটি আসলে একটি আণবিক কাঠামো। এই কাঠামোগুলি ব্যবহার করা যেতে পারে মরুভূমির বাতাস থেকে জল সংগ্রহের পর তা পানের উপযোগী করার কাজে। দূষিত কার্বন ডাই-অক্সাইড বা বিষাক্ত গ্যাস সংরক্ষণ করে মানবজাতির কল্যাণে ব্যবহারের দিশা দেখিয়েছেন এই বিজ্ঞানী ত্রয়ী। সেই যুগান্তকারী কাজের স্বীকৃতি হিসেবে রসায়নে এবার নোবেল পুরস্কার পাচ্ছেন তাঁরা।
সুসুমু কিতাগাওয়া জাপানের কিয়োটো বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক। রিচার্ড রবসন অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত। অপর নোবেল জয়ী ওমর এম ইয়াঘির কর্মক্ষেত্র আমেরিকার বার্কলের ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়। এক সময় আম্মানে একটি ঘরে বড় হয়েছেন ওমর। সেই ঘরে ছিল না কোনও ইলেকট্রিক বা জলের সংযোগ। রসায়নে পুরস্কারের জন্য তাঁদের নাম ঘোষণা করে নোবেল কমিটি জানিয়েছে, ‘তাঁদের আবিষ্কৃত মেটাল অর্গানিক ফ্রেমওয়ার্ক রসায়নের নয়া দিগন্ত খুলে দিয়েছে।’ কী এই এমএফও? এটি আসলে ধাতব আয়ন এবং জৈব অণুর সংমিশ্রণে তৈরি ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র এক প্রকার ছিদ্রযুক্ত কাঠামো। যা নিমেষে শুষে নিতে পারে বাতাসের দূষণ কণা বা লুকিয়ে থাকা জল। আর সেই শুষে নেওয়া উপাদানকে সংরক্ষণ করে প্রয়োজনে তা ব্যবহারযোগ্য করা যায়। সবমিলিয়ে এর মাধ্যমে বিভিন্ন রাসায়নিক প্রক্রিয়া পরিবেশ সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।
নোবেল কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ৩৬ বছর আগে এমএফও তৈরির চেষ্টা চালিয়েছিলেন বিজ্ঞানী রিচার্ড রবসন। তামার আয়ন এবং জটিল অর্গানিক অণুকে একত্রিত করার প্রাথমিক সলতেটি পাকিয়েছিলেন এই অশীতিপর বিজ্ঞানী। তবে তাঁর তৈরি কাঠামোটি দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। তবু বিজ্ঞানের জগতে সেই গবেষণার গুরুত্ব অপরিসীম। সেবারই প্রথম জানা গিয়েছিল, নিষ্প্রাণ ধাতু এবং জৈব অণুর মধ্যে তালমিল সম্ভব। সেই গবেষণার সূত্র ধরে ১৯৯০ সালে সুসুমু কিতাগাওয়া জানিয়ে দেন, এই ধরণের কাঠামো গ্যাস শোষণ ও ছেড়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। আর ওমর ইয়াঘি প্রথম দীর্ঘস্থায়ী এমএফও তৈরি করতে সমর্থ হন। ছবি: এএফপি