Bartaman Logo
৩১ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ২১ মে তলবি সভার ডাক তিন কাউন্সিলারের, চর্চা

পুর আইন অনুযায়ী সময় পেরিয়ে গেলেও রঘুনাথপুর পুরসভার চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান কেউ অনাস্থা বিষয়ে তলবি সভা ডাকেননি। তাই আইন অনুযায়ী এবার রঘুনাথপুর পুরসভার তিন কাউন্সিলার চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনাস্থার তলবি সভা ডাকলেন।

চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ২১ মে তলবি সভার ডাক তিন কাউন্সিলারের, চর্চা
  • ১৮ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, রঘুনাথপুর: পুর আইন অনুযায়ী সময় পেরিয়ে গেলেও রঘুনাথপুর পুরসভার চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান কেউ অনাস্থা বিষয়ে তলবি সভা ডাকেননি। তাই আইন অনুযায়ী এবার রঘুনাথপুর পুরসভার তিন কাউন্সিলার চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনাস্থার তলবি সভা ডাকলেন। আগামী ২১ মে রঘুনাথপুর পুরসভার মিটিং হলে এই সভা ডাকা হয়েছে। শুক্রবার প্রশাসনের সর্বস্তরে বিষয়টি জানানো হয়েছে। ফলে পুরসভার অনাস্থা ঘিরে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। রঘুনাথপুর মহকুমা শাসক বিবেক পঙ্কজ বলেন, অনাস্থার সভা বিষয়ে চিঠি এসেছে। আইন অনুযায়ী সভা নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে, চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনাস্থা আসার পরেই দল পক্ষে ও বিপক্ষে‌ থাকা কাউন্সিলারদের নিয়ে বৈঠক করে সমস্যার সমাধান করার চেষ্টা করেছে। কিন্তু বৈঠক সফল হয়নি। ফলে অনাস্থা যে আটকানো সম্ভব হচ্ছে না, তা কাউন্সিলারদের চিঠি থেকে পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রঘুনাথপুর পুরসভায় মোট ১৩টি আসন রয়েছে। তার মধ্যে তৃণমূল কংগ্ৰেসের দখলে আছে ১০টি। দু’টি কংগ্ৰেস ও ১টিতে বিজেপি রয়েছে। দীর্ঘদিন পুরসভার বোর্ড গঠনের কয়েক মাস পরেই চেয়ারম্যানের সঙ্গে কয়েকজন দলীয় কাউন্সিলারের কাজ নিয়ে মতবিরোধ দেখা দেয়। দল বিষয়টি জানার পরেও পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। চেয়ারম্যানের ওপর আস্থা রেখে জেলা নেতৃত্ব অনাস্থা আনা কাউন্সিলারদের দূরে সরিয়ে রেখেছিল। শেষ পর্যন্ত সেই বিবাদ অনাস্থায় গড়ায়। চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে দলের ৬ ও কংগ্ৰেসের এক কাউন্সিলার অনাস্থা আনেন। গত ২৪ এপ্রিল অনাস্থা প্রস্তাবের চিঠি দেওয়া হয়। সেই পরিপ্রেক্ষিতে ২ মে রঘুনাথপুর মহকুমা শাসক পুরসভার চেয়ারম্যানকে অনাস্থা প্রস্তাব নিয়ে আলোচনার জন্য সভা ডাকার নির্দেশও দেন। প্রশাসনের একটি সূত্র থেকে জানা গিয়েছে, পুর- আইন অনুযায়ী অনাস্থা প্রস্তাব আনার ১৫ দিনের মধ্যে চেয়ারম্যানকে সভা ডাকতে হয়। সেই সময় সীমা পার হয়ে গেলে সাতদিনের মধ্যে ভাইস চেয়ারম্যানের সভা ডাকার কথা। কেউ সভা না ডাকলে পুরসভার ৩ জন কাউন্সিলার অনাস্থার বিষয়ে তলবি সভা ডাকবে। সভা ডাকার তিনদিন আগে প্রশাসন ও চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও কাউন্সিলারদের চিঠি দিয়ে বিষয়টি জানাতে হবে। সেক্ষেত্রে অনাস্থার দিন সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলেই অনাস্থা হয়ে যাবে। রঘুনাথপুর পুরসভায় অনাস্থা আনা কাউন্সিলারদের মধ্যে প্রণব দেওঘরিয়া, মৃত্যুঞ্জয় পরামাণিক বলেন, সময় পেরিয়ে গেলেও চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান অনাস্থা বিষয়ে কোনও সভা ডাকেনি। তাই তিনজন কাউন্সিলার সভা ডেকেছি। কয়েকজন কাউন্সিলারকে সভার চিঠি হাতে দিয়ে দেওয়া হয়েছে। বাকিদের হোয়াটসঅ্যাপ ও রেজিস্ট্রি করে পাঠানো হয়েছে। চেয়ারম্যান তরণী বাউরি বলেন, এখন পর্যন্ত কোনও চিঠি পাইনি। বিজেপি কাউন্সিলার দিনেশ শুক্লা বলেন, চিঠি পেয়েছি। অবশ্যই সভার দিন উপস্থিত থাকব। আমি অনাস্থার পক্ষে রয়েছি। কংগ্রেসের এক কাউন্সিলার অনাস্থার পক্ষে সই করেছেন। তবে অপর কংগ্রেস কাউন্সিলার দেবযানী পরামাণিক বলেন, এখনও পর্যন্ত কোনও চিঠি পাইনি। তৃণমূলের জেলা সভাপতি রাজীব লোচন সরেন বলেন, দল কখনওই অনাস্থার পক্ষে নয়।

Advertisement
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ