নয়াদিল্লি: সন্ত্রাসবাদীদের বিরুদ্ধে পেগাসাসের মতো স্পাইওয়্যার ব্যবহার করতে সমস্যা কি আছে? মঙ্গলবার এমনই প্রশ্ন তুলল সুপ্রিম কোর্ট। প্রয়োজন পড়লে এই স্পাইওয়্যার ব্যবহারে কোনও ভুল নেই বলেও মন্তব্য করেছে শীর্ষ আদালত। বিচারপতিরা জানিয়েছেন, পেগাসাসের অপব্যবহার নিয়ে টেকনিক্যাল কমিটির রিপোর্টও প্রকাশ্যে আনা উচিত নয়। এদিন বিচারপতি সূর্য কান্ত ও বিচারপতি এন কোটিশ্বর সিংয়ের ডিভিশন বেঞ্চে পেগাসাস সংক্রান্ত মামলার শুনানি ছিল। শুনানি চলাকালীন ডিভিশন বেঞ্চ বলেছে, দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব জড়িয়ে রয়েছে, এমন কোনও রিপোর্টে হাত দেওয়া যাবে না। তবে যদি কেউ জানতে চান তিনি নজরদারির আওতায় আছেন কি না, তাহলে সেই ব্যক্তিকে তথ্য দিতে হবে। কিন্তু এই ধরনের রিপোর্ট রাস্তায় আলোচনার জন্য নয়। রিপোর্টের কোন অংশ প্রকাশ্যে আনা যাবে, তা খতিয়ে দেখবে শীর্ষ আদালত।
এদিন শুনানি চলাকালীন এক মামলাকারীর আইনজীবী দীনেশ দ্বিবেদী জানান, কেন্দ্র স্পাইওয়্যার ব্যবহার করছে কি না, সেটাই আসল প্রশ্ন। তিনি জানান, যদি কেন্দ্রের কাছে স্পাইওয়্যার থাকে, তাহলে তা এখনও ব্যবহার হয়ে চলেছে। আটকানোর কেউ নেই। এরপরই ডিভিশন বেঞ্চ বলে, যদি কোনও দেশ সন্ত্রাসবাদীদের বিরুদ্ধে স্পাইওয়্যার ব্যবহার করে, তাহলে ভুল কি আছে? স্পাইওয়্যার ব্যবহার ভুল নয়। কিন্তু কার বিরুদ্ধে তা ব্যবহার করা হচ্ছে, সেটাই আসল প্রশ্ন। সংবিধানে প্রত্যেকেরই গোপনীয়তা রক্ষার অধিকার দেওয়া হয়েছে। তবে আপনারা দেশের নিরাপত্তার সঙ্গে আপস করতে পারেন না। আর এক মামলাকারীর তরফে আইনজীবী কপিল সিবাল আদালতে জানান, হোয়াটসঅ্যাপ নিজেই স্বীকার করেছে যে, আড়ি পাতা হয়েছিল। এটাই তো যথেষ্ট প্রমাণ। যদিও কেন্দ্রের তরফে সলিসিটার জেনারেল তুষার মেহতা আদালতের সুরেই জানান, সন্ত্রাসবাদীদের বিরুদ্ধে স্পাইওয়্যার ব্যবহারে কোনও ভুল নেই। কারণ তাদের গোপনীয়তার কোনও অধিকার নেই। পেগাসাসের অপব্যবহার নিয়ে তদন্তের জন্য সুপ্রিম কোর্ট ২০২২ সালে একটি টেকনিক্যালি কমিটি তৈরি করে দেয়। তবে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে তদন্তে অসহযোগিতার অভিযোগ ওঠে।