নয়াদিল্লি: প্রধানমন্ত্রী ইন্টার্নশিপ স্কিম (পিএমআইএস)। ঘটা করে ঘোষণা হয়েছিল ২০২৪-২৫ সালের সাধারণ বাজেটে। লক্ষ্য, পাঁচ বছরে দেশের শীর্ষ ৫০০ সংস্থায় এক কোটি তরুণ-তরুণীর জন্য হাতে কলমে কাজ শেখার ব্যবস্থা। সঙ্গে মাসিক পাঁচ হাজার টাকা। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী মোদির সাধের এই প্রকল্পের হাল কেমন? মাসিক পাঁচ হাজার টাকায় এক বছরের এই ইন্টার্নশিপ কোর্সে আদৌ আগ্রহ দেখাচ্ছে অল্পবয়সিরা? কর্পোরেট বিষয়ক মন্ত্রকের তরফে লোকসভায় পেশ করা তথ্যে সামনে এসেছে করুণ চিত্র। জানা যাচ্ছে, গত অক্টোবর মাসে শুরু হওয়ার পর থেকে এই প্রকল্পে আবেদনকারীদের মধ্যে ইন্টার্নশিপের প্রস্তাব গ্রহণ করেছেন মাত্র ৩১ শতাংশ। অর্থাৎ প্রতি তিনজনের মধ্যে মাত্র একজন করে আবেদনকারী সরকার ও সহযাগী সংস্থাগুলির কাছ থেকে আসা ইন্টার্নশিপ অফারে আগ্রহ দেখিয়ে তা গ্রহণ করেছেন। এখনও পর্যন্ত মোট ১.৫৩ লক্ষ ইন্টার্নশিপের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তার মধ্যে ৫০,৭২৬ প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন লোকসভায় লিখিত জবাবে জানিয়েছেন, প্রথম রাউন্ডে সহযোগী সংস্থাগুলি থেকে ৬০ হাজারের বেশি প্রার্থীর জন্য ৮২ হাজারের বেশি ইন্টার্নশিপ প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তার মধ্যে মাত্র ২৮ হাজার প্রার্থী সেই প্রস্তাব গ্রহণ করেছিলেন। ইন্টার্নশিপে যোগ দিয়েছেন মাত্র ৮ হাজার ৭০০ জনের কিছু বেশি প্রার্থী। দ্বিতীয় রাউন্ডে গত ১৫ জুলাই পর্যন্ত এই প্রকল্পে ৭১ হাজারের বেশি ইন্টার্নশিপ অফার এসেছে। তার মধ্যে গৃহীত প্রস্তাবের সংখ্যা ২২,৫৮৪। এই ইস্যুতেই কর্পোরেট বিষয়ক মন্ত্রকের রাষ্ট্রমন্ত্রী হর্ষ মালহোত্রা জানিয়েছেন, ওই প্রকল্পে বর্তমানে ইন্টার্নশিপ করছেন ৯ হাজার ৪৫৩ জন। তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যাচ্ছে যে, ইন্টার্নশিপ প্রস্তাবে মাত্র ৩৪ শতাংশ গ্রহণ করা হয়েছে। আর প্রকৃতপক্ষে ইন্টার্নশিপে যোগ দিয়েছেন আবেদনকারীদের মাত্র ৩১ শতাংশ। বিশেষজ্ঞদের একটা অংশ মনে করছেন, মাসে মাত্র পাঁচ হাজার টাকায় এই ইন্টার্নশিপ প্রকল্পে আগ্রহ দেখাতে চাইছেন না অল্প বয়সিরা। এরইমধ্যে সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের একটি রিপোর্ট ঘিরে প্রশ্নের মুখে পড়েছে মোদি সরকারের কর্মসংস্থানের দাবি। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কেন্দ্র বেকারত্বের যে হিসেব দিচ্ছে, বাস্তব পরিস্থিতি তার থেকে অনেক বেশি ভয়াবহ। সরকারি পরিসংখ্যান বলছে, জুন মাসে দেশে বেকারত্বের হার ৫.৬ শতাংশ। যদিও সমীক্ষায় অংশগ্রহণকারী ৫০ জন অর্থনীতিবিদদের মধ্যে ৩৭ জনই (৭০ শতাংশের বেশি) মনে করছেন সরকারি এই পরিসংখ্যান সঠিক নয়।