Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / সম্পাদকীয়

পূজা

প্রাচীনকালে যখন প্রণবের উপাসনার অধিকার সঙ্কুচিত হইল তখন লোকহিতৈষী শাস্ত্রকারণগণ ঈশ্বরের উপাসনার জন্য নানা বীজমন্ত্র এবং সেই সেই মন্ত্রের দ্বারা সাধকের সাধনায় আবির্ভূত মূর্তির ধ্যান ও পূজাদির বিধির বর্ণনা তাঁহাদের শাস্ত্রসমূহের মধ্যে লিখিলেন।

পূজা
  • ২০ অক্টোবর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

প্রাচীনকালে যখন প্রণবের উপাসনার অধিকার সঙ্কুচিত হইল তখন লোকহিতৈষী শাস্ত্রকারণগণ ঈশ্বরের উপাসনার জন্য নানা বীজমন্ত্র এবং সেই সেই মন্ত্রের দ্বারা সাধকের সাধনায় আবির্ভূত মূর্তির ধ্যান ও পূজাদির বিধির বর্ণনা তাঁহাদের শাস্ত্রসমূহের মধ্যে লিখিলেন। নানা মূর্তির অবলম্বনে নানা মন্ত্র ধ্যানাদির দ্বারা উপাসনা হইলেও উপাস্য সেই এক পরব্রহ্ম এবং তাঁহারই অনন্ত নাম, রূপ ও মন্ত্র, ঐশ্বর্য ও মাধুর্য। একই ব্রহ্মের মুখ্যতঃ পঞ্চ মূর্তি গণেশ, সূর্য্য, বিষ্ণু, শিব ও শক্তি নামে পঞ্চ দেবতার উপাসনাই প্রাধান্য লাভ করিল। পর পর এই পঞ্চ দেবতার প্রত্যেকের আবার ভিন্ন ভিন্ন মূর্তির পূজাদি প্রচলিত হইল।

Advertisement

পঞ্চ দেবতার উপাসনার ভিত্তিতে গাণপত্য, সৌর, বৈষ্ণব, শৈব ও শাক্ত এই মুখ্য পঞ্চ উপাসক সম্প্রদায় অভিহিত। যেমন বীজ হইতে বৃক্ষ প্রকাশিত হয় তেমন সাধকগণ তন্ত্রোক্ত এক একটি বীজমন্ত্রের সাধনা করিতে করিতে ব্রহ্মের যে মূর্তির দর্শন লাভ করিলেন সেই মূর্তির ধ্যান ও পূজা পদ্ধতি রচিত হইল। বৈদিক যুগের যাগ যজ্ঞাদি এবং উপনিষদ্ যুগের ওঙ্কার ব্রহ্মের উপাসনায় পরবর্তী পৌরাণিক যুগ হইতে বর্তমান সময় পর্যন্ত পরব্রহ্মের বিবিধ মূর্তির উপাসনা পৌরাণিক ও তান্ত্রিক বিধিতে ভারতবর্ষের সকল স্থানে সনাতনী হিন্দুগণ করিয়া আসিতেছেন। সেই পরবর্তীকালের সংবাদেই বলা হইল "চিন্ময়স্যাদ্বিতীয়স্য নিষ্কলস্য শরীরিণঃ। উপাসকানাং কার্যার্থং ব্রহ্মণো রূপকল্পনা।।” ব্রহ্মের রূপকল্পনার অর্থ ব্রহ্মই সাধকের আরাধনায় প্রীত হইয়া যেমন যেমন রূপে আবির্ভূত হইলেন সেই সেই রূপ কিন্তু মানুষের মনঃকল্পিত রূপ নহে। ভাববন্ধু ও ভাবনিধি পরমেশ্বর তাঁহার প্রিয় ভক্তের ভাব অনুসারে বিভু বস্তু হইয়াও পরিচ্ছিন্ন বা সীমাবদ্ধ মূর্তি ধারণ করিয়া ভক্তের সেবা সানন্দে গ্রহণ করেন। বৈষ্ণবীয় সাধনায় তিনি শান্ত, দাস্য, বাৎসল্য ও মাধুর্য ভাবে ভক্তের নিকট বিরাট, পুরুষ, প্রভু, সখা, পুত্র ও প্রাণপতি রূপে সেবিত হন। শৈব ও শাক্ত সাধনায় তিনি পিতা ও মাতা আবার কন্যারূপেও পূজিত হন। "ত্বমেব মাতা চ পিতা ত্বমেব, ত্বমেব বন্ধুশ্চ সখা ত্বমেব” “পিতাহমস্য জগতো মাতা ধাতা পিতামহঃ” (গীতা)। ভক্তের হৃদয়ের ভাব অনুসারে ভগবানের মূর্তি ধারণের কথা ভাগবত বলেন, "ত্বং ভক্তিযোগপরিভাবিতহৃৎ সরোজ আস্‌সে শ্রুতেক্ষিতপথো ননু নাথ পুংসাম্। যদ্‌ যদ্‌ ধিয়া ত উরুগায় বিভাবয়ন্তি তদ্‌ তদ্‌ বপুঃ প্রণয়সে সদনুগ্রহায়।।" একই ঈশ্বর ভক্তের ধ্যান অনুরূপ। একই বিগ্রহে ধরেন নানাকার রূপ।।
পণ্ডিতপ্রবর জ্যোতির্ময় নন্দের ‘জ্যোতির্ময় রচনাঞ্জলি’ থেকে 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ