সঞ্জিত সেনগুপ্ত, শিলিগুড়ি: অক্ষয় তৃতীয়া আজও ধুমধাম করে পালন হয়। দোকানে দোকানে পুজো, নতুন দোকান, ব্যবসা শুরুর ক্ষেত্রে অনেকেই এই দিনটি বেছে নেন। পয়লা বৈশাখে হালখাতার মতো করে অক্ষয় তৃতীয়াও পালন করা হয়। তবে সময়ের পরিবর্তনে অক্ষয় তৃতীয়া উদযাপনে চমক ও আধুনিকতা এসেছে। তবে অক্ষয় তৃতীয়ার এই বিশেষ দিনে বাঙালির ঘরে ঘরে কাসুন্দি তৈরির রেওয়াজ হারিয়ে গিয়েছে। এই দিনে ফাস্ট ফুড, হোম ডেলিভেরির কল্যাণে অনেক ‘ছোট সংসার, সুখী সংসার’ এ রান্নার পাট সেভাবে নেই। হোটেল থেকে খাবার কিনে এনে বাড়িতে অতিথি আপ্যায়ন হয়। ফলে আজকের আধুনিক নারীদের অনেকে রান্নার ঝামেলা থেকে দূরে সরে গিয়েছেন। তাই চর থোর, মোঁচার মতো সব্জিও অনেকে কাটতে পারেন না।
এই হারিয়ে যাওয়ার প্রবাহে কাসুন্দি তৈরিও যুক্ত হয়েছে। এই বিশেষ দিনটি শুদ্ধভাবে পুজো অর্চনার মধ্যদিয়ে বাঙালির ঘরে ঘরে কাসুন্দি তৈরি শুরু হতো। সারা বছরে কাসুন্দি তৈরির জন্য এই দিনেই সর্ষের বীজ হামান দিস্তা বা ঢেঁকিতে কুটে রাখা হতো। তারপর প্রযোজন মতো কাঁচা আম বা আমচুর, মসলা জল দিয়ে কাসুন্দি তৈরি করা হতো। যাঁরা কাসুন্দি বানাতে পারতেন না তাঁদের কথা ভেবে মাটির হাঁড়িতে কাসুন্দি নিয়ে বাড়ি বাড়ি ফেরি করে অনেক গরিব মানুষ উপার্জন করতেন।
সেসব এখন অতীত। যন্ত্রনির্ভর হয়ে ওঠার পাশাপাশি সময়ের অভাবে কেউ আর সেই পরিশ্রম করে নিয়মনিষ্ঠা মেনে কাসুন্দি তৈরির কথা ভাবতে পারেন না। প্রযুক্তির কল্যাণে কাসুন্দি তৈরি এখন সহজ হয়েছে। তৈরি হচ্ছে বাণিজ্যিক আকারে। এখন সারা বছরই তৈরি হয়। জনপ্রিয়তা ও চাহিদাও বেড়েছে। রাস্তার ধারের ফাস্টফুডের দোকান থেকে শুরু করে নামী রেস্তোরাঁ সর্বত্রই টেবিলে জায়গা করে নিয়েছে কাসুন্দি। নামী কোম্পানির আকর্ষণীয় প্যাকে দোকানে দোকানে কাসুন্দি বিক্রি হয়। ফলে অক্ষয় তৃতীয়ার অনেক দিক হারিয়ে গিয়েছে। এভাবেই বাঙালির উৎসবে বৈশিষ্ট্য, আনন্দ, মাটির টান হারিয়ে যাচ্ছে। অক্ষয় তৃতীয়ায় দোকানে পুজো নতুন খাতা খোলা সবই হচ্ছে। কিন্তু ঘরে ঘরে কাসুন্দি তৈরির সেই ব্যস্ততা, উৎসবে মেতে ওঠা নেই বললেই চলে। প্রতীকী চিত্র।