Bartaman Logo
২৮ মে, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

মিলগুলির কাছে রাজ্যের চাল প্রাপ্য ১২.৫ হাজার টন

সেপ্টেম্বর মাসে নির্ধারিত সময় পার হয়ে যাওয়ার পরেও ১২ হাজার ৫৩০ টন চাল রাইস মিলের কাছে পাওনা রয়ে গেল রাজ্য খাদ্যদপ্তরের।

মিলগুলির কাছে রাজ্যের চাল প্রাপ্য ১২.৫ হাজার টন
  • ১৮ অক্টোবর, ২০২৫ ০৪:০০

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সেপ্টেম্বর মাসে নির্ধারিত সময় পার হয়ে যাওয়ার পরেও ১২ হাজার ৫৩০ টন চাল রাইস মিলের কাছে পাওনা রয়ে গেল রাজ্য খাদ্যদপ্তরের। খাদ্যদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, বীরভূম ও পুরুলিয়ার দুটি রাইস মিলের কাছেই পাওনা রয়ে গিয়েছে ১০ হাজার টনের বেশি চাল। দুটি রাইস মিল একই মালিকানার। কিছু পরিমাণ চাল বকেয়া আছে উত্তর ২৪ পরগনা জেলা থেকে। ২০২৪-২৫ খরিফ মরশুমে সরকারি উদ্যোগে চাষিদের কাছ থেকে ৫৬ লক্ষ টনের কিছু বেশি ধান কেনা হয়। এই পরিমাণ ধান থেকে প্রায় ৩৮ লক্ষ টন চাল পাওয়ার কথা। এই নিরিখে বকেয়ার পরিমাণ খুব একটা বেশি নয়। সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে রাইস মিলগুলির কাছ থেকে সরকারি উদ্যোগে কেনা ধান থেকে উৎপাদিত চাল নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করেছিল খাদ্যদপ্তর। সেন্ট্রাল পুল বা কেন্দ্রীয় সরকারের মজুত ভাণ্ডারের জন্য যে পরিমাণ চাল পাওয়ার কথা সেটা আগেই হয়ে গিয়েছিল। বকেয়া থাকল স্টেট পুলের চালের সামান্য অংশ। খাদ্যদপ্তরের সম্প্রতি পর্যালোচনা বৈঠকে বকেয়া চালের প্রসঙ্গ নিয়ে আলোচনা হয়। প্রাপ্য চাল দ্রুত উদ্ধার করার জন্য খাদ্যদপ্তরের জেলা অধিকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জানা গিয়েছে, খাদ্যদপ্তর এখন চাল যাতে পাওয়া যায় তার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। যে চাল বকেয়া আছে তার আর্থিক মূল্য ৩০ কোটি টাকার বেশি। সরকারের কাছে চাল জমা না দিলে একাধিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া যায়। সংশ্লিষ্ট রাইস মিলগুলিকে কালো তালিকাভুক্ত করে ভবিষ্যতে ধান দেওয়া বন্ধ রাখা যায়। সরকারি ধান থেকে চাল উৎপাদন করার জন্য রাইস মিলগুলিকে নির্দিষ্ট অঙ্কের ব্যাংক গ্যারান্টি জমা রাখতে হয়। চাল না পেলে ব্যাংক গ্যারান্টি বাজেয়াপ্ত করতে পারবে খাদ্যদপ্তর। তাছাড়া রাইস মিলগুলির বিরুদ্ধে পুলিশে এফআইআর করা হয়। তবে আইনি পথে প্রথমেই চলে গেলে চাল পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। তাতে আর্থিক ক্ষতি হয়ে যায় সরকারের। এই কারণে রাইস মিলগুলিকে চাপ দিয়ে বকেয়া চাল আদায়ের উপর প্রথগে জোর দেয় খাদ্যদপ্তর। এদিকে ১ নভেম্বর থেকে ২০২৫-২৬ খরিফ মরশুমে চাষিদের কাছ থেকে ধান কেনার কাজ শুরু করতে জোর কদমে প্রস্তুতি চলছে। স্থায়ী ক্রয়কেন্দ্রের পাশাপাশি প্রথম থেকে যাতে ধান কেনার অস্থায়ী শিবিরগুলি চালু করা যায় তার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত সরকারি সংস্থাগুলিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এবার সরকারি সংস্থাগুলির মাধ্যমে ২০২০টি গ্রামীণ কৃষি সমবায় সংস্থা অস্থায়ী শিবির খুলে ধান কেনার জন্য নথিভুক্ত হয়েছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ