সংবাদদাতা, কালনা: এক নাবালককে গুজরাতে কাজে নিয়ে গিয়ে তার উপর অমানবিক অত্যাচারের অভিযোগ উঠেছিল। সেই ঘটনায় নাবালকের পাশে দাঁড়াল রাজ্য সরকার ও ইন্টারন্যাশানাল জাস্টিস মিশন। রাজ্য সরকারের উদ্যোগে নাবালকের শিক্ষা ও পারিবারিক আর্থিক উন্নতির লক্ষ্যে মাসিক চার হাজার টাকা সাহায্য দেওয়া হচ্ছে পরিবারকে। পাশাপাশি নাবালকের উপর ঘটে যাওয়া ঘটনায় কালনা মহকুমা আদালতে বিচার প্রক্রিয়া চলছে। রবিবার নাবালকের পরিবার ও মিশনের কর্তারা রাজ্যের মন্ত্রী স্বপন দেবনাথের সঙ্গে দেখা করে কৃতজ্ঞতা জানান। তাঁদের দাবি, প্রথম থেকে নাবালককে হাসপাতালে দেখতে যাওয়া, পাশে থাকা ও প্রশাসনিক তৎপরতায় শিশুটি সুস্থ হয়ে স্থানীয় স্কুলে ভর্তি হওয়া, সবেতেই স্বপনবাবু পাশে ছিলেন বলেই সম্ভব হয়েছে।
প্রসঙ্গত, কালনা থানার সুলতানপুর পঞ্চায়েতের উপলতি গ্রামের বাসিন্দা এক নাবালকের বাবা ও মাকে আর্থিক প্রলোভন দেখিয়ে তাঁদের বছর দশেকের ছেলেকে গুজরাতে কাজে নিয়ে যান এক ব্যক্তি। সেখানে কাজ না করায় নাবালকের উপর অমানবিক অত্যাচারের অভিযোগ ওঠে। গত বছর জুন মাসে নাবালক বাড়ি ফিরলে দেখা যায়, ওর পা থেকে মাথা পর্যন্ত সারা শরীরে ক্ষত দগদগে ঘা ও মারধরের চিহ্ন রয়েছে। শারীরিকভাবে সে খুবই অসুস্থ। তাকে কালনা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। নাবালককে দেখতে হাসপাতালে যান মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ। নাবালক ও পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেন। এরপরই কালনা থানা পুলিশ নিদিষ্ট ধারায় কেস রুজু করে একজনকে গ্রেপ্তার করে। গুজরাটের রাজকোটে পকসো আইনে কেস হয়। স্বপনবাবুর উদ্যোগে নাবালকের পাশে দাঁড়ায় রাজ্য সরকার ও ইন্টার ন্যাশানাল জাস্টিস মিশন। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে নাবালকের চিকিৎসা, শিক্ষা ও পরিবারের আর্থিক সমস্যায় মাসিক চার হাজার টাকা সাহায্য চালু হয়। ডিসেম্বর থেকে মাসিক সাহায্য পাচ্ছে শিশুটি।
স্বপনবাবু বলেন, ডবল ইঞ্জিন গুজরাটে এমন ঘটনা অমানবিক ঘটেছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুপ্রেরণায় ও ইন্টারন্যাশানাল জাস্টিস মিশনের সহযোগিতায় নাবালক আজ স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পেরেছে। মুখ্যমন্ত্রী আর্থিক সাহায্য ঘোষণা করেছেন। নাবালক ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ছে। তার পরিবারের পাশে আমরা আছি।
ইন্টারন্যাশানাল জাস্টিস মিশনের এক সদস্য রবীন পাল বলেন, নাবালকের উপর ঘটে যাওয়া ঘটনা খুবই মর্মান্তিক। আমাদের আইনি সেল পাশে আছে। রাজ্য সরকার মাসিক চার হাজার টাকা করে আর্থিক সাহায্য ঘোষণা করেছে। নাবালকের মা পূর্ণিমা দুর্লভ বলেন, ছেলেকে মৃতপ্রায় অবস্থায় আনা হয়েছিল। স্বপনবাবুর সহযোগিতায় ছেলে আজ সুস্থ হয়ে স্কুলে যাচ্ছে। আর্থিক সাহায্য পাচ্ছি। এরজন্য স্বপনবাবুর কাছে আমরা কৃতজ্ঞ।