প্রীতেশ বসু, কলকাতা: পঞ্চায়েত এলাকার পর পুর এলাকার উন্নয়নের ন্যায্য প্রাপ্যও কেন্দ্রের থেকে ছিনিয়ে আনল রাজ্য। বহু দিন আটকে রাখার পর নগরোন্নয়ন খাতে পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষের প্রথম কিস্তির ৪০৬ কোটি টাকা রাজ্যকে দিল কেন্দ্র। একাধিক শর্ত চাপিয়ে এই বরাদ্দ দিনের পর দিন আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছিল তাদের বিরুদ্ধে। তবে কেন্দ্রের কোনও শর্তই শেষ পর্যন্ত রাজ্যকে ন্যায্য প্রাপ্য আদায় থেকে দূরে রাখতে পারল না বলেই দাবি প্রশাসনিক মহলের। কারণ, রাজ্যের জিএসডিপি বৃদ্ধির হারের তুলনায় সংশ্লিষ্ট পুরসভাগুলির সম্পত্তি কর আদায়ের হার বেশি হলে তবেই এই খাতের টাকা দেওয়া হবে বলে শর্ত বেঁধে দিয়েছিল কেন্দ্র। সেই শর্ত পূরণ করতেই মিলছে টাকা। প্রসঙ্গত, নভেম্বরের মাঝামাঝি গ্রামোন্নয়ন খাতের পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের ১০২১ কোটি টাকা পেয়েছে বাংলা। সেক্ষেত্রেও একাধিক অভিযোগ তুলে শেষ পর্যন্ত বাংলার টাকা আটকে রাখতে পারেনি কেন্দ্র।
সূত্রের খবর, জনসংখ্যা ১০ লক্ষের কম (নন মিলিয়ন সিটি), এমন ৯৭টি পুরসভার জন্য এই টাকা ছাড়া হয়েছে। রাজ্যে মোট পুরসভার সংখ্যা ১২৮। যার মধ্যে কলকাতা, হাওড়া, আসানসোলের মতো ‘মিলিয়ন প্লাস সিটি’র জন্য এই আর্থিক অনুদান নয় বলেই জানাচ্ছে প্রশাসনিক মহল। তবে বাকি ২৮টি ‘নন মিলিয়ন’ পুরসভার টাকা এখনও পাওয়া যায়নি বলেই সূত্রের খবর। কারণ, এই সমস্ত পুরসভার ২৪টিতে নির্বাচন না হওয়ায় স্থায়ী বোর্ড গঠন হয়নি। বাকি পুরসভাগুলি অন্যান্য শর্ত পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় তাদের জন্য বরাদ্দ ছাড়া সম্ভব হয়নি বলে কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়েছে।
সূত্রের খবর, ৮ ডিসেম্বর রাজ্যকে নগরোন্নয়ন খাতের পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের টাকা ছাড়ার বিষয়টি জানানো হয়েছে। শর্তাধীন এবং নিঃশর্ত তহবিল—দুই ক্ষেত্রেই টাকা ছাড়া হয়েছে। ‘শর্তাধীন তহবিল’ খাতে দেওয়া হয়েছে ২৪৩ কোটি ৭৮ লক্ষ টাকা। যা খরচ হবে মূলত পানীয় জল সরবরাহ এবং নিকাশি ব্যাবস্থা উন্নয়নের কাজে। ‘নিঃশর্ত তহবিলের’ ১৬২ কোটি ৫২ লক্ষ টাকা ছেড়েছে কেন্দ্র। যা খরচ হবে রাস্তাঘাট সহ অন্যান্য পরিকাঠামো সংস্কার বা নির্মাণে। রাজ্যকে জনসংখ্যা এবং নির্দিষ্ট হিসাব অনুযায়ী দু’টি ক্ষেত্রের টাকাই বণ্টন করে দিতে হবে ৯৭টি পুরসভার মধ্যে। অভিজ্ঞ আমলাদের মতে, কার্যত রাজ্যের চাপেই এই অর্থ বরাদ্দ করতে বাধ্য হল কেন্দ্র। পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের মেয়াদ শেষ হচ্ছে ২০২৬ সালের মার্চ মাসে। তার আগে অন্তত ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষের দ্বিতীয় কিস্তির টাকা কেন্দ্র দেয় কি না, সেটাই এখন দেখার।