নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: হাওড়ার বেলগাছিয়া সংলগ্ন তিনটি জলমগ্ন ওয়ার্ডের পরিস্থিতি ক্রমশই খারাপ হচ্ছে। নিকাশির দুর্গন্ধযুক্ত নোংরা জল ঘরে ঘরে ঢুকে পড়ায় পানীয় জলের সঙ্কট তৈরি হয়েছে। প্রকোপ বাড়ছে ডায়ারিয়ার। আক্রান্তের তালিকায় শিশুদের সংখ্যাই বেশি। প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার ফের বামনগাছি মোড় অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান বাসিন্দারা। বিক্ষোভের জেরে দীর্ঘক্ষণ অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে বেনারস রোড। পরে বিশাল পুলিস বাহিনী গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
মাইক্রো টানেল বসিয়ে উত্তর হাওড়ার জমা জলের সমস্যা দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দিয়েছিল হাওড়া পুরসভা। কেএমডিএ’র শীর্ষকর্তার সঙ্গে বেলগাছিয়া ভাগাড়ের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে এমনটাই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কার্যকরের আগেই বামনগাছি এলাকার গোটা পরিবেশ অস্বাস্থ্যকর হয়ে উঠেছে।
বেলগাছিয়া ভাগাড়ে ভূমিধসের কারণে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে উত্তর হাওড়ার অন্যতম মূল নিকাশি ব্যবস্থা। যে কারণে গত ১৫ দিন ধরে নর্দমার নোংরা জল ঘুরপথে ঢুকে জলমগ্ন করেছে ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বিস্তীর্ণ এলাকাকে। মাইক্রো টানেল করে কেএমডিএ আজ অর্থাৎ শুক্রবার থেকে ড্রেনেজ সিস্টেমের কাজ শুরু করবে, এমনটাই আশ্বাস দিয়েছিলেন হাওড়া পুরসভার মুখ্য প্রশাসক ডাঃ সুজয় চক্রবর্তী। কিন্তু জল-যন্ত্রণা আর সহ্য করতে নারাজ বাসিন্দারা। এদিন দুপুরে বামনগাছি মোড়ে বিক্ষোভে শামিল হন বি রোড এবং সি রোড এলাকার বাসিন্দারা। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, কখনও হাওড়া পুরসভার মুখ্য প্রশাসক, আবার কখনও উত্তর হাওড়ার বিধায়ক এসে জল যন্ত্রণার থেকে সুরাহার আশ্বাস দিয়ে যাচ্ছেন। ওই আশ্বাসই সার! পরিস্থিতি দিনে দিনে আরও খারাপ হয়ে উঠছে। বিশেষ করে সি রোড বাজার, বালক সঙ্ঘ, বিবেকনগর, বি রোডের আমতলা, কলাবাগান, হরিশ কলোনির বাসিন্দারা বাড়ি থেকেই কার্যত বেরতে পারছেন না। অফিস-বাজার যাওয়াই একপ্রকার বন্ধ হয়ে গিয়েছে।
বাসিন্দারা বলেন, ‘ড্রেনের নোংরা জল পানীয় জলের সঙ্গে মিশছে। জল ফুটিয়ে খেতে হচ্ছে আমাদের। ঘরে ঘরে বাচ্চাদের ডায়ারিয়া হচ্ছে। বাড়ছে পোকামাকড়ের উপদ্রব। নরকের থেকেও খারাপ অবস্থা। ধৈর্য্যের বাঁধ ভাঙছে। এই অবস্থায় অবরোধ করা ছাড়া উপায় কী?’ অবরোধের ফলে তীব্র যানজট হয় বেনারস রোডে। লিলুয়া থানার পুলিস বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলতে গেলে উভয়পক্ষের মধ্যে তর্কাতর্কি হয়। এরপর বিশাল পুলিস বাহিনী নামানো হয়। হাওড়া সিটি পুলিসের পদস্থ কর্তারা গিয়ে দ্রুত সুরাহার আশ্বাস দেন। এরপর বিক্ষোভ তোলেন বাসিন্দারা।
হাওড়া পুরসভার তরফে জানানো হয়েছে, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব মাইক্রো টানেলের কাজ শেষ করা হবে। এই নোংরা জল গিয়ে পড়বে অক্সিডেশন পুকুরে।