Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

রিং বাঁধ তৈরিই হয়নি, পাথরপ্রতিমায় জলমগ্ন বাড়ি ছেড়ে উঁচু রাস্তায় আশ্রয়

প্রায় ৯০০ মিটার রিং বাঁধ তৈরি করার সিদ্ধান্ত হয়েছিল পাথরপ্রতিমার গোবর্ধনপুরে। ‘আরআইডিএফ ২০’ প্রকল্প থেকে বরাদ্দ হয়েছিল কয়েক কোটি টাকা।

রিং বাঁধ তৈরিই হয়নি, পাথরপ্রতিমায় জলমগ্ন বাড়ি ছেড়ে উঁচু রাস্তায় আশ্রয়
  • ৩১ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও সংবাদদাতা, কাকদ্বীপ: প্রায় ৯০০ মিটার রিং বাঁধ তৈরি করার সিদ্ধান্ত হয়েছিল পাথরপ্রতিমার গোবর্ধনপুরে। ‘আরআইডিএফ ২০’ প্রকল্প থেকে বরাদ্দ হয়েছিল কয়েক কোটি টাকা। যে জায়গায় সেটি তৈরি হওয়ার কথা সেখানে বসবাস ছিল বহু পরিবারের। তাঁদের মধ্যে বেশিরভাগ সরে গেলেও গুটিকয়েক পরিবার ভিটেমাটি ছাড়তে রাজি হয়নি। ফলে কাজ শুরু করতে পারেনি সেচদপ্তর। এর মাশুল গুনতে হচ্ছে দু’শতাধিক পরিবারকে। নিম্নচাপ ও অমাবস্যার কোটালের জোড়া ফলায় দুর্বল মাটির বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জল ঢুকছে গ্রামে। ২০০টির মধ্যে ৭০টি পরিবার সবথেকে কষ্টে দিন কাটাচ্ছে। তাঁদের ঘরের ভিতর হাঁটু সমান জল। তাঁরা বাড়ির ভিতর উঁচুতে মাচা বেঁধে দিন কাটাচ্ছেন। কয়েকটি পরিবার বাড়িছাড়া। গ্রামের একটি উঁচু রাস্তায় অস্থায়ী ছাউনি করে বসবাস করছেন।

Advertisement

গ্রামে গিয়ে দেখা গিয়েছে, নোনা জলে প্লাবিত বিঘের পর বিঘে কৃষিজমি। ডুবে গিয়েছে প্রায় ৩০টি পুকুর। প্রচুর মাছ মারা গিয়ে। মৃত মাছ নোনা জলে ভাসছে। দু’বেলা এক মুঠো খেয়ে কোনওরকমে দিন কাটাচ্ছেন দুর্গতরা। তাঁদের অভিযোগ, ‘ত্রাণ পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত তা এসে পৌঁছয়নি। পানীয় জলেরও সমস্যা তৈরি হয়েছে।’ বুলুরানি বাগ নামে এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, ‘পুরো বাড়ি জলে ডুবে। জোয়ারের সময় বাড়ির ভিতরে থাকা অসম্ভব। তখন উঁচু রাস্তায় চলে যাই।’ তবে পাথরপ্রতিমার বিধায়ক সমীরকুমার জানা বলেন, ‘একটা সমস্যা তৈরি হয়েছিল। তা এখন মিটে গিয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে গেলে নদী বাঁধ তৈরির কাজ শুরু হবে। দুর্গত এলাকায় ত্রাণ পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।’ মঙ্গলবার সকাল থেকে আজ বিকেল পর্যন্ত ক্যানিংয়ে ১০০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। এর মধ্যে গ্রামীণ এলাকায় তুলনামূলকভাবে বৃষ্টিপাত বেশি। - নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ