Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বিষ্ণুপুরে পাঁচ বছর পর খুলল ষাঁড়েশ্বর মন্দিরের মূল দরজা

ভক্তদের দেবদর্শনের জন্য সোমবার থেকে বিষ্ণুপুরের ষাঁড়েশ্বর মন্দির খুলে দেওয়া হয়।

বিষ্ণুপুরে পাঁচ বছর পর খুলল ষাঁড়েশ্বর মন্দিরের মূল দরজা
  • ৮ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বিষ্ণুপুর: ভক্তদের দেবদর্শনের জন্য সোমবার থেকে বিষ্ণুপুরের ষাঁড়েশ্বর মন্দির খুলে দেওয়া হয়। তবে অভিষেক না হওয়ায় এবারের গাজনে ভক্তরা ওই মন্দিরে পুজো করতে পারবেন না। তাই অন্যান্য বছরের মতো এবারও শৈলেশ্বর মন্দিরে গাজন উৎসব হবে। তবে ভক্তদের আবেগের কথা মাথায় রেখে প্রশাসনের অনুরোধে দেব দর্শনের জন্য মন্দিরের দরজা খুলে দেওয়া হয়। গত কয়েক বছর ধরে আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়া কর্তৃপক্ষ ষাঁড়েশ্বর মন্দিরে সংস্কার কাজ করছে। তা প্রায় শেষ পর্যায়ে চলছে। তবে অভিষেক না হওয়ায় মন্দির কমিটি এবারে সেখানে সাধারণ ভক্তদের পুজো করতে দিতে নারাজ। তবে গাজনে হাজার হাজার ভক্ত যাতে দেব দর্শন করতে পারেন, তার জন্য মন্দিরের দরজা এদিন খুলে দেওয়া হয়। এদিন বিষ্ণুপুরের বিজেপি সাংসদ সৌমিত্র খাঁ ষাঁড়েশ্বর মন্দিরে পুজো দেন।  

Advertisement

আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়ার কনজারভেশন অ্যাসিস্ট্যান্ট সন্দীপ সিংহ বলেন, ষাঁড়েশ্বর মন্দিরের সংস্কারের কাজ এখনও সম্পূর্ণ হয়নি। তবে ভক্তদের আবেগের কথা মাথায় রেখে কেবল মাত্র দেবদর্শনের জন্য এদিন থেকে মন্দিরের দরজা খোলা হয়েছে। গাজনের সময় পুলিসি নিরাপত্তায় ভক্তরা পর্যায়ক্রমে দেব দর্শন করতে পারবেন। 
সাংসদ সৌমিত্র খাঁ বলেন, ষাঁড়েশ্বর মন্দির সংস্কারের কাজ শেষ হওয়ার পরেই যাতে লাগোয়া শৈলেশ্বর মন্দিরেরও সংস্কার করা হয় সে ব্যাপারে আমি ইতিমধ্যে আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়া কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছি। দুই মন্দিরকে এক চাতালের মধ্যে রেখে সৌন্দর্যায়ন ঘটানো হবে। 
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বিষ্ণুপুর ডিহর গ্রামে ঐতিহাসিক ষাঁড়েশ্বর মন্দিরটি আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়ার অধীনে রয়েছে। বাংলা ১৩৪৬সালে বিষ্ণুপুরের ৩৭তম রাজা পৃত্থি মল্ল ডিহর গ্রামে ল্যাটেরাইট পাথর দিয়ে ষাঁড়েশ্বর মন্দির তৈরি করেন। লাগোয়া একটি কানা নদীর জলের তোড়ে মন্দিরের গোড়ার অংশ ক্ষয়ে যায়। তাতে মন্দিরে ফাটল সৃষ্টি হয়। পরবর্তীকালে ভূমিকম্পের জেরে সেই ফাটল বৃদ্ধি পায়। তারপর থেকেই মন্দির সংস্কারের দাবি জোরালো হয়। ২০২০ সালে আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়া কর্তৃপক্ষ তাতে সংস্কারের কাজে হাত দেয়। ওড়িশা থেকে কারিগর আনা হয়। কিন্তু, পরবর্তীতে কোনও অজানা কারণে তা থমকে যায়। 
২০২১ সালে পরবর্তী পর্যায়ে পুনরায় কাজ শুরু হয়। পুরনো পাথর খুলে তা পালিস করে নতুন করে লাগানো হয়। বর্তমানে সংস্কারের কাজ প্রায় শেষের মুখে। তবে দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে সাধারণ ভক্তরা দেব দর্শনের সুযোগ পাননি। তাই এবারের গাজনে যাতে ভক্তরা দেব দর্শন করতে পারেন, তার জন্য বিভিন্ন তরফ থেকে দাবি তোলা হয়। সেই মতো কয়েকদিন আগে বিষ্ণুপুরের মহকুমা শাসক প্রসেনজিৎ ঘোষ ও বিধায়ক তন্ময় ঘোষ মন্দির পরিদর্শন করেন। পরে প্রশাসনের তরফে মন্দির কর্তৃপক্ষের কাছে দেব দর্শনের সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়। সেইমতো সোমবার মন্দিরের দরজা খুলে দেওয়া হয়। তবে সাধারণ ভক্তরা পুজো দিতে পারবেন না। -নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ