Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পুরীর মন্দিরের জগন্নাথ বিগ্রহ বিরাজমান চাকদহে, ৫০০ বছর আগে ঘাড়ে করে বয়ে এনেছিলেন জগদীশ পণ্ডিত

দীঘায় পুরীর আদলে জগন্নাথ মন্দিরের উদ্বোধন নিয়ে সাজো সাজো রব। মুখ্যমন্ত্রী সেই মন্দিরের উদ্বোধন করবেন।

পুরীর মন্দিরের জগন্নাথ বিগ্রহ বিরাজমান চাকদহে, ৫০০ বছর আগে ঘাড়ে করে বয়ে এনেছিলেন জগদীশ পণ্ডিত
  • ১৮ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

দীপন ঘোষাল, রানাঘাট: দীঘায় পুরীর আদলে জগন্নাথ মন্দিরের উদ্বোধন নিয়ে সাজো সাজো রব। মুখ্যমন্ত্রী সেই মন্দিরের উদ্বোধন করবেন। কিন্তু ক’ জন জানেন যে, প্রায় পাঁচশত বছর ধরে এই বাংলার মাটিতে বিরাজ করছেন পুরীর মন্দিরের জগন্নাথদেব? বৈষ্ণবভূমি নদীয়াতেই রয়েছে পুরীর জগন্নাথ বিগ্রহ, যা পাঁচশো বছর আগে ঘাড়ে করে বয়ে এনেছিলেন জগদীশ পণ্ডিত।

Advertisement

চাকদহ স্টেশন থেকে ভাগীরথী রোড ধরে পশ্চিম দিকে যেতে পড়ে নারকেল বাগান। মূল রাস্তার ঠিক বামদিকে নেমে গিয়েছে এঁকে বেঁকে যাওয়া এক সরু পথ। সেই রাস্তা ধরেই এক প্রান্তে পৌঁছলে মিলবে শ্রী চৈতন্য গৌড়ীয় মঠের জগন্নাথ মন্দির। বাইরে বড় করে লেখা ‘শ্রীল জগদীশ পণ্ডিতের শ্রীপাট’। সিংহ দুয়ার পেরিয়ে মূল মন্দিরের সামনে পৌঁছলে প্রথমেই নজর কাড়ে শ্রী জগন্নাথ বিগ্রহ। ঝলমলে পোশাকে সুসজ্জিত সিংহাসনে বিরাজমান তিনি। তবে দু’ পাশে সুভদ্র এবং বলরাম নেই কেন? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়েই বেরিয়ে এল বিগ্রহের ইতিহাস। কারণ এই জগন্নাথ বিগ্রহ নাকি খোদ পুরীধামের! মন্দিরের অন্যতম প্রবীণ এবং প্রধান সেবাইত ভক্তিপ্রিয় ভজনউন্মুখ মহারাজ বলেন, জগদীশ পণ্ডিত ছিলেন মহাপ্রভুর অন্যতম পার্ষদ। টানা প্রায় একমাস ধরে পায়ে হেঁটে তিনি পুরী গিয়েছিলেন। সেখানে জগন্নাথদেবকে দর্শনের পর নাকি মন খারাপ করে জগদীশ পণ্ডিত বলেছিলেন, এবার তিনি বৃদ্ধ হবেন। চাইলেও আর দেবদর্শনে আসতে পারবেন না। কথিত আছে, জগন্নাথদেব তখন জগদীশ পণ্ডিতকে বলেন, সেই বছরই পুরীর মন্দিরের নবকলেবর হবে। তাই স্বাভাবিক নিয়মেই তাঁর নতুন বিগ্রহ প্রতিষ্ঠা হবে। আর পুরনো বিগ্রহটি পুরীর মন্দিরের উত্তর গেট সংলগ্ন তুলসী বাগানে সমাধিস্থ করা হবে। সেই বিগ্রহটি সমাধিস্থ করার পরিবর্তে জগদীশ পণ্ডিত যেন নিয়ে যান। এ কথা শুনে আনন্দিত জগদীশ পুরীর তৎকালীন রাজার অনুমতি নিয়ে জগন্নাথদেবের মূর্তি আনার তোড়জোড় শুরু করেন। কিন্তু এত বড় মূর্তি নিয়ে যাবেন কীভাবে? শোনা যায়, ভক্ত জগদীশের যাতে কষ্ট না হয়, তাই আকারে ছোট হয়ে গিয়েছিলেন জগন্নাথদেব। কিন্তু শর্ত ছিল, কোথাও রাখলেই বিগ্রহ পুনরায় আগের আকারে ফিরে আসবে। দীর্ঘ পথ হাতে লাঠি আর কাঁধে বিগ্রহ নিয়ে হেঁটে এসে চাকদার বর্তমান মন্দিরের কাছে ক্লান্ত জগদীশ বিগ্রহ ধরতে দেন এক সঙ্গীকে। তখন এই মন্দিরের কাছ দিয়েই বয়ে যেত গঙ্গা। তিনি নামেন স্নানে। ব্যাস, বিগ্রহ ভারী লাগায় ভুলে যেই না জগদীশের সঙ্গী সেটি মাটিতে বসিয়েছেন, অমনি তা ফের প্রকাণ্ড রূপ ধারণ করে। এরপর শত চেষ্টাতেও আর তোলা যায়নি সেই মূর্তি। অগত্যা সেখানেই পুরীর জগন্নাথদেবের মূর্তি প্রতিষ্ঠা করা হয়। পুরীর বিগ্রহের চেয়ে এই বিগ্রহে সামান্য একটু তফাৎ রয়েছে বটে। তবে প্রবাদ বলে, বিশ্বাসে মিলায় বস্তু তর্কে বহুদূর। কৃষ্ণনগরের তৎকালীন রাজা নাকি সেই মন্দির তৈরিতে অনেক সাহায্য করেছিলেন। যা আজ শ্রীল জগদীশ পণ্ডিতের শ্রীপাট নামে পরিচিত। আর এটাই কারণ, সুভদ্রা-বলরামহীন জগন্নাথ দেবের উপস্থিতির। শুধু কি তাই? মন্দির ঘিরে আকর্ষণ রয়েছে আরও। মন্দিরের গর্ভগৃহে আজও সংরক্ষিত রয়েছে, জগদীশ পণ্ডিতের সেই লাঠি, যা হাতে নিয়ে তিনি পুরী থেকে হেঁটে এসেছিলেন। -নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ