Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

অন্নদাতা ব্যবসায়ীকে চিনিয়ে মিলেছিল ১০ হাজার টাকা

প্রাপ্তি বলতে মাত্র দশ হাজার টাকা! সেই লোভেই সার্প শ্যুটারদের কাছে নিজের অন্নদাতাকে চিনিয়ে দিয়েছিল রাজু মির্ধা

অন্নদাতা ব্যবসায়ীকে চিনিয়ে মিলেছিল ১০ হাজার টাকা
  • ৭ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, রামপুরহাট: প্রাপ্তি বলতে মাত্র দশ হাজার টাকা! সেই লোভেই সার্প শ্যুটারদের কাছে নিজের অন্নদাতাকে চিনিয়ে দিয়েছিল রাজু মির্ধা। রামপুরহাটে পাথর ব্যবসায়ী সুদীপ বাস্কে খুনে জড়িত ছিল বলে তদন্তে উঠে আসে। তার খোঁজে তল্লাশিও চলছিল। সোমবার রাতে রামপুরহাটের ঝাড়খণ্ড সীমানা লাগোয়া এলাকা থেকে রাজুকে গ্রেপ্তার করে পুলিস। তার বাড়ি ঝাড়খণ্ডের শিকারিপাড়া থানার আস্তাকাঁদর গ্রামে। সে নিহত সুদীপের ডাম্পাসের খালাসি ছিল। ভালো টাকা বেতনও পেত প্রতি মাসে। রাজুকে মঙ্গলবার রামপুরহাট আদালতে তোলা হয়। পুলিস দশদিনের হেফাজত চেয়ে আবেদন জানায়। সরকারি আইনজীবী সৈকত হাটি বলেন, ‘বিচারক আবেদন মঞ্জুর করেছেন।’ তবে, এই খুনের ঘটনায় মূল ষড়যন্ত্রকারী এখনও অধরা। 

Advertisement

গত ২৭ এপ্রিল ঝাড়খণ্ড সীমানা লাগোয়া রামপুরহাটের পাথর শিল্পাঞ্চল নিরিষা গ্রামের চায়ের দোকানের সামনে প্রকাশ্যে গুলি করে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে টাকা ভর্তি ব্যাগ ছিনিয়ে ঝাড়খণ্ডের দিকে চম্পট দেয় দুষ্কৃতীরা। গুলিতে মৃত্যু হয় সুদীপের। তাঁর বাড়ি রামপুরহাটের সুলঙ্গা গ্রামে। পুলিস তদন্তে নেমে জানতে পারে, শুধুমাত্র ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে খুন নয়। নেপথ্যে রয়েছে পাথর ব্যবসায় দখলদারি নিয়ে বিবাদ। মৃতের পরিবারও পুলিসকে জানিয়েছিল, গ্রামেরই কয়েকজন লোক সুদীপকে মারার হুমকি দিত। সেইমতো পুলিস ঘটনার তিনদিন পর সুলঙ্গা গ্রামের অলড্রেন বাস্কি, রাজেন টুডু,অক্ষয় মির্ধা ও অমিত টুডুকে গ্রেপ্তার করে। তাঁদের জেরা করে পুলিস জানতে পারে, সুদীপকে খুন করতে ঝাড়খণ্ডের শার্প শ্যুটার সনাতন মারিয়া ওরফে বাঘীকে নিয়োগ করা হয়েছিল। শনিবার রাতে ঝাড়খণ্ডের মহেশপুর থানার ডুমুরঘাঁটি গ্রামের এক আত্মীয়র বাড়ি থেকে বাঘীকে গ্রেপ্তার করে আনে পুলিস। আদালতের নির্দেশে ধৃতরা সকলেই এখন পুলিস হেফাজতে। তাদের জেরা করে পুলিস রাজুর হদিশ পায়। সে ঝাড়খণ্ড সীমানা সংলগ্ন একটি গোপন ডেরায় আশ্রয় নিয়েছিঢ়। গতকাল রাতে সেখানে হানা দিয়ে পুলিস তাকে গ্রেপ্তার করে। 
পুলিস জানিয়েছে, রাজুর নামে এর আগে কোনও ক্রিমিন্যাল রেকর্ড নেই। জেরায় সে জানিয়েছে, বাঘীর এক শাগরেদকে বাইকের পিছনে চাপিয়ে ওই চায়ের দোকানে নিয়ে এসে সুদীপকে চিনিয়ে দিয়েছিল। বিনিময়ে মিলেছিল  মাত্র দশ হাজার টাকা। ঘটনার দিন রাজু দুবার ওই চায়ের দোকানে এসে রেকি করে যায়। সুদীপ সেখানে রয়েছে, সেটা নিজের চোখে দেখে গিয়ে শ্যুটারদের খবর দেয়। শ্যুট আউটের বেশ কিছুক্ষণ আগে সে চায়ের দোকানেও চলে আসে। সুদীপ সম্পর্কে দুষ্কৃতীদের খবরাখবর দিতে থাকে। শ্যুট আউটের ঠিক পরই রাজু এলাকা ছেড়ে ঝাড়খণ্ডে চলে যায়। সৈকতবাবু জানিয়েছেন, ডাম্পাসের খালাসি থাকার সুবাদে সুদীপের গতিবিধি নখদর্পনে ছিল রাজুর। প্রতি রবিবার সুদীপ কালেকশনের জন্য নিরিষা গ্রামে যায়, সেটাও জানত সে। ঘটনার দিন ওই চায়ের দোকানে শ্যুটারদের আনতে সাহায্য করেছিল রাজু। 
পুলিস জানিয়েছে, সুদীপ খুনে এই চারজনই যড়যন্ত্রকারী নয়। পিছনে রয়েছে আরও এক মাথা। সে পাথর শিল্পাঞ্চল এলাকায় তোলাবাজি ও  দাদাগিরির রাশ নিজের হাতে পেতে সুদীপকে খুনের পরিকল্পনা করে অনেক আগে থেকেই। সেই মতো সুদীপ বিরোধী অমিত, অক্ষয়, রাজেন, অলড্রেনকে নিজের কাছে টানে। পুলিসের দাবি, এই পাঁচজন বসে কুখ্যাত বাঘীকে সুপারি কিলার হিসেবে নিযুক্ত করেছিল। মূল ষড়যন্ত্রকারী এখন এলাকা ছাড়া। পুলিস তার খোঁজে ঝাড়খণ্ড পুলিসেরও সাহায্য নিচ্ছে। 
 ধৃত রাজু মির্ধাকে  আদালতে তোলা হচ্ছে। নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ