গান্ধীনগর: ‘প্রতিদিনের মতো বুধবারও মহিসাগর নদীতে মাছ ধরতে গিয়েছিলাম। আমার সঙ্গে আরও কয়েকজন ছিল। হঠাৎ একটা বিকট শব্দ। তাকিয়ে দেখি গম্ভীরা সেতুর একাংশ ভেঙে পড়েছে। গাড়িগুলি একের পর এক খেলনার মতো নদীতে পড়ছে। একমুহূর্তের জন্য হাত-পা ঠান্ডা হয়ে গিয়েছিল। কী করব, কিছুই বুঝতে পারছিলাম না।’ কাঁপা কাঁপা গলায় গুজরাতের সেতু ভাঙার ভয়াবহ দৃশ্যের কথা বলছিলেন স্থানীয় মৎস্যজীবী নরেন্দ্র মালি। তবে আতঙ্কের ঘোর কাটিয়ে তৎক্ষণাৎ উদ্ধার কাজে ঝাঁপিয়ে পড়েন নরেন্দ্র। দ্রুত নৌকা নিয়ে এগিয়ে যান তিনি। তাঁর কথায়, নৌকা ঘুরিয়ে ওইদিকে এগিয়ে যাই। দেখি দুটো ট্রাক, একট গাড়ি, একটি পিক-আপ ভ্যান ও আরও বেশ কয়েকটি বাইক নদীতে পড়েছে। আমার বাকি বন্ধুরাও উদ্ধার কাজে হাত লাগায়। বেশ কয়েকজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়।
দুর্ঘটনায় স্বামী ও দুই শিশু সন্তানকে হারিয়েছেন সোনালবেন পাধিয়ার। স্বামী-সন্তানকে বাঁচানোর জন্য তাঁর আর্তির একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। দেখা যাচ্ছে, গুজরাতি ভাষায় তিনি চিৎকার করে বলছেন, আমার বাচ্চারা ডুবে যাচ্ছে, স্বামী ডুবে যাচ্ছে। দয়া করে ওদের বাঁচান। কিন্তু উদ্ধারকারীরা যখন সেখানে পৌঁছন তখন সব শেষ। জলে ডুবে মৃত্যু হয় তাঁদের। সোনালবেন জানান, তাঁদের গাড়িতে সাত জন ছিলেন। তাঁরা পুজো দিতে যাচ্ছিলেন। তিনি নিজে বসেছিলেন পিছনের দিকে। ব্রিজে ভেঙে তাঁদের গাড়ি নদীতে পড়ে। পিছনের দিকে থাকায় তিনি বেরিয়ে আসতে পেরেছিলেন। কিন্তু স্বামী-সন্তানরা সামনে ছিলেন। আর গাড়ির পাশেই পড়েছিল একটি বড় ট্যাঙ্কার। ফলে তাঁরা বেরতে পারছিলেন না। সোনালবেনের অভিযোগ, এক ঘণ্টা ধরে আকুতি জানালেও সময়ে আসেনি উদ্ধারকারীরা।