নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: বাল্যবিবাহ রোধ করাই এই মূহূর্তে বীরভূম জেলা প্রশাসনের কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। অভিযোগ, বহু ক্ষেত্রেই শহরাঞ্চল থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত গ্রামীণ এলাকাগুলিতে একের পর এক নাবালিকার বিয়ে হচ্ছে। যদিও বেশিরভাগ খবরই জেলা প্রশাসনের কর্তাদের কানে এসে পৌঁছচ্ছে না। ঘটনায় আধিকারিকদের একাংশ যথেষ্টই উদ্বিগ্ন। এই পরিস্থিতিতে এবার জেলার নানা প্রান্তের স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্যদের কাজে লাগানো হচ্ছে। মূলত বাল্যবিবাহের খবর জেলা প্রশাসনের কর্তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়াই তাঁদের কাজ। এক্ষেত্রে প্রয়োজনে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্যের নাম গোপন রাখার সিদ্ধান্তও চূড়ান্ত হয়েছে। সেইসঙ্গে বাল্যবিবাহ রোধে আর্থিক পুনর্বাসনের উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। জেলার পাঁচ নাবালিকা এই সুবিধা পাচ্ছে। এব্যাপারে জেলা শিশু সুরক্ষা দপ্তরের আধিকারিক নিরুপম সিনহা বলেন, বহুক্ষেত্রে বাল্যবিবাহের খবর আমাদের কাছে এসে পৌঁছচ্ছে না। এবার জেলাজুড়ে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্যদের কাজে লাগানো হচ্ছে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২৫সালের এপ্রিল থেকে জুন মাস পর্যন্ত তিন মাসে ১৯০টি বাল্যবিবাহ রোধ করা সম্ভব হয়েছে। যদিও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই চুপিসারে নাবালিকার বিয়ে হয়ে যাচ্ছে। বিয়ের পর নাবালিকারা গর্ভবতী হতেই বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসছে। এক্ষেত্রে নাবালিকা গর্ভবতীর সংখ্যা জেলা প্রশাসনের কর্তাদের চোখ কপালে তুলে দিয়েছে। সরকারি তথ্য অনুসারে মাত্র তিন মাসে প্রায় সাড়ে তিন হাজার নাবালিকা গর্ভবতী হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বাল্যবিবাহ রোধ করতে জেলা প্রশাসন ইতিমধ্যে একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। স্কুলস্তরে নিয়মিত প্রচার চালানোর পাশাপাশি এলাকাভিত্তিক সচেতনতা বৃদ্ধির কাজও চলছে। যদিও বহুক্ষেত্রে নাবালিকাদের বিয়ে হলেও সেই খবর প্রশাসন পাচ্ছে না। অনেক ক্ষেত্রেই ভয়ের কারণে স্থানীয় বাসিন্দারা সব জেনেও চুপ করে থাকেন বলে অভিযোগ। এই পরিস্থিতিতে এবার জেলা প্রশাসন স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্যদের কাজে লাগাতে সচেষ্ট হয়েছে।
নির্দিষ্ট রোডম্যাপ তৈরি করে এবার বাল্যবিবাহ রোধে পথে নেমেছে জেলা প্রশাসন। শনাক্তকরণ, হস্তক্ষেপ, পুনর্বাসন সহ মোটি সাতটি ধাপের শুরুতেই স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্যদের ভূমিকা থাকছে। সেইসঙ্গে অঙ্গনওয়াড়ি, আশাকর্মীদেরও কাজে লাগানো হচ্ছে। স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনেরও সাহায্য নেওয়া হচ্ছে। এছাড়াও কোনও ক্ষেত্রে নাবালিকার বিয়ে রোখা সম্ভব হলে তার পরিবারের আর্থিক অবস্থা বিবেচনা করে পুনর্বাসন দেওয়ার বন্দোবস্ত করা হয়েছে। এক্ষেত্রে ১৮বছর না হওয়া পর্যন্ত নাবালিকাদের প্রতি মাসে চার হাজার টাকা করে দেওয়া হবে। সেইসঙ্গে নির্দিষ্ট ওই পরিবারকে আর্থিকভাবে চাঙ্গা করে তুলতে কর্মসংস্থানের বন্দোবস্তও করবে জেলা প্রশাসন। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সরকারি প্রকল্পের সুযোগ সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রেও জেলা প্রশাসন অগ্রণী ভূমিকা নেবে। তবে জেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগ আদৌ কতটা কাজে আসবে তা অবশ্যই সময় বলবে।