Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / চতুষ্পর্ণী

চুলে অস্থায়ী রং

অর্চনা আজ গাঢ় সবুজ পোশাক পরেছে। সঙ্গে রং মিলিয়ে চুলের সামনের লকস দুটোও সবুজের শেডে রাঙিয়ে ফেলেছে। কানে সবুজ পাথর বসানো ঝুমকো।

চুলে  অস্থায়ী  রং
  • ১ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

বিয়ের মরশুম আসছে, একটু ভিন্ন সাজে সেজে উঠতে চান? চুল রাঙিয়ে নিন পোশাকের সঙ্গে ম্যাচ করে। এখন বাজারে অনেক অস্থায়ী রং পাওয়া যায় যেগুলো এক বা দু’বারের ওয়াশেই উঠে যাবে। পরামর্শ দিলেন রূপবিশেষজ্ঞ শেহনাজ হুসেন।

Advertisement

অর্চনা আজ গাঢ় সবুজ পোশাক পরেছে। সঙ্গে রং মিলিয়ে চুলের সামনের লকস দুটোও সবুজের শেডে রাঙিয়ে ফেলেছে। কানে সবুজ পাথর বসানো ঝুমকো। ব্যস, সাজের ষোলোআনা কমপ্লিট। কিন্তু আজ সবুজ পোশাক পরেছে বলেই কালও যে পরবে এমন তো কোনও কথা নেই। তাহলে চুলের রঙের কী হবে? দুষ্টু মিষ্টি হাসি হেসে অর্চনার জবাব, অস্থায়ী চুলের রঙে এটাই তো সবচেয়ে সুবিধে। ফ্যাশনের সময় রং লাগান, আর কাজ ফুরলে শ্যাম্পু করে নিলেই, রং গায়েব। এই ধরনের রং কীভাবে লাগাবেন? তাতে চুলের কোনও ক্ষতি হয় কি না, জানালেন রূপবিশেষজ্ঞ শেহনাজ হুসেন।
অস্থায়ী রং 
নামেই স্পষ্ট চুলের এই রংটির স্থায়িত্ব নেই। আজ লাগিয়ে কাল শ্যাম্পু করে নিন। রং উঠে যাবে। এই ধরনের রং চুলের গোড়ায় গিয়ে বসে না। বাইরে থেকে একটা হালকা কোটিং দেয় চুলের উপর, সেই কারণেই এই রঙের স্থায়িত্ব থাকে না। কোটিং চুল ধোয়ার সঙ্গে সঙ্গেই উঠে যায়। স্থায়িত্বের প্রয়োজন নেই বলে কোনও কেমিকেলও ব্যবহার করা হয় না এই ধরনের টেম্পোরারি হেয়ার কালার বা অস্থায়ী চুলের রঙে। ফলে বিভিন্ন সময় চুলে নানারকম অস্থায়ী রং ব্যবহার করলেও চুলের বিশেষ ক্ষতি হয় না। এই ধরনের রং একটু চড়া বা গাঢ় হয়। সাধারণত টিনএজার বা কুড়ি বাইশের মহিলারা এই ধরনের রং ব্যবহার করে। 
রঙের ধরন
অস্থায়ী রঙের কয়েকটা জনপ্রিয় ধরন আছে। লালের শেডের মধ্যে গোলাপি, ফুশিয়া পিংক, চেরি ইত্যাদি বেশি জনপ্রিয়। এছাড়া সবুজের মধ্যে গাঢ় সবুজের চাহিদা বেশি। নীলের মধ্যে উজ্জ্বল নীল বেশি খোলে, নেভি ব্লু বা গাঢ় নীল তুলনায় কম। এছাড়া বেগুনির হালকা শেড তরুণীদের মধ্যে জনপ্রিয়। কিন্তু যে ধরনের রং স্থায়ী হেয়ার কালার হিসেবে ব্যবহৃত হয় সেগুলোর চাহিদা অস্থায়ী রঙের ক্ষেত্রে একেবারেই নেই। অর্থাৎ খয়েরি, বার্গেন্ডি, বাদামি এই ধরনের রং অস্থায়ী ক্যাটেগরিতে পাবেন না। গোল্ডেন রংটি অনেকে ভালোবাসেন তবে সেটাও তুলনায় কম জনপ্রিয়।
ব্যবহারের নিয়ম
এই রংগুলো নানারকম স্টাইলে বাজারে বিক্রি হয়। এতদিন সবচেয়ে জনপ্রিয় ছিল টেম্পোরারি স্প্রে কালার। পারফিউমের মতো শিশিতে পাওয়া যায় এই রংগুলো, সঙ্গে স্প্রে করার ব্যবস্থা থাকে। পাকা চুলের অংশে স্প্রে করে নিলেই চুল হয়ে উঠবে নিমেষে রঙিন। কিন্তু এই রঙের ব্যবহারিক কিছু অসুবিধা ছিল। চুলের যে অংশ রং করতে চাইছেন তা বাদেও অন্যত্রও গিয়ে পড়ত এই স্প্রে কালার। নিয়ন্ত্রণ করা বেশ কঠিন হয়ে উঠেছিল। ফলে এর বিকল্প হিসেবে চক অ্যান্ড মাস্কারা স্টিক এল বাজারে। অস্থায়ী রঙের এই ধরনটি অনেকটা মোটা পেন্সিলের মতো। চুলের উপর বুলিয়ে নিতে হয়। এতে কাঙ্ক্ষিত ফল অনেকাংশেই বেশি পাওয়া যাচ্ছিল। কারণ যেটুকু জায়গায় রং করা দরকার সেটুকুই শুধু রঙিন করা সম্ভব হয় এই পেন্সিল বা স্টিক দিয়ে। এই স্টিক দিয়ে চুলের গোছা ধরে রং করাও সহজ। 
তবে অনেকটা অংশ যদি একবারে রাঙিয়ে তুলতে চান তাহলে হেয়ার স্পঞ্জ ব্যবহার করুন, বললেন শেহনাজ। এই ক্ষেত্রে একটা বাটিতে চুলের রং নিয়ে তার উপর স্পঞ্জ রেখে সেটাকে চুলে বুলিয়ে নিতে হবে। স্পঞ্জ অনেকটা অংশ জুড়ে চুলে রং বুলিয়ে দিতে পারে। সেটা এর বিশেষত্ব। শুধু ফ্যাশন বা স্টাইলের জন্যই নয়, অনেকে তো পাকা চুল ঢাকার জন্য‌ও টেম্পোরারি হেয়ার কালার ব্যবহার করেন। তাঁদের ক্ষেত্রে স্পঞ্জ কালার খুবই উপযোগী। হয়তো খুব তাড়ায় রয়েছেন, কোনও পার্টি বা নেমন্তন্ন যেতে হবে, এদিকে চুলে কালার করা, তা এক বা দেড় ঘণ্টা রেখে দেওয়া এবং তারপর শ্যাম্পু করে চুল ধুয়ে নেওয়ার সময় পাচ্ছেন না, তখন এই ধরনের টেম্পোরারি হেয়ার কালার কাজে লাগে। স্পঞ্জ বুলিয়ে রাঙিয়ে নিন চুল, একটা টা঩চেই কেল্লা ফতে।
বয়স অনুযায়ী রং বাছুন
টেম্পোরারি হেয়ার কালার একটু ফাংকি লুক আনার জন্য অনেকেই আজকাল করছেন। কিন্তু একটা বয়সের পর এই ধরনের রং করাতে গেলে নির্বাচন করুন সতর্কভাবে। অর্থাৎ, খুব চড়া রং, উজ্জ্বল রং ইত্যাদি বাছবেন না। বরং একটু সোবার কালার বেছে নিন। এছাড়াও আপনার সাজ পোশাক, ব্যক্তিত্ব ইত্যাদির সঙ্গেও আপনার চুলের রং যেন ম্যাচ করে সেদিকেও খেয়াল রাখবেন।
কয়েকটা উদাহারণ দিলেন শেহনাজ। তিনি বললেন, বয়স্ক মহিলারা এক্ষেত্রে মোটামুটি দু’তিনটে রঙের মধ্যেই ঘোরাফেরা করুন। বার্গেন্ডি, চেরি ব্রাউন আর ডার্ক ব্রাউন। কৃষ্ণবর্ণ মেয়েদের ক্ষেত্রে আর্দি শেডস চুলের জন্য মানানসই। যেমন বার্গেন্ডি, ব্রাউন ইত্যা঩দি। তাঁরা কখনও পিংক, গ্রিন, ইয়েলো চুলে লাগাবেন না। যদি টেম্পোরারি হাইলাইটস চান তাহলে চেরি বার্গেন্ডি বাছতে পারেন। ফর্সা মুখে বিভিন্ন রং মানিয়ে যায়। শকিং পিংক, ব্লু, ডার্ক গ্রিন ইত্যাদি খারাপ লাগবে না। তবে চোখ যদি কালো হয় তাহলে ইয়েলোর শেড না বাছাই ভালো। একটু খয়েরি দিকে চোখের মণি হলে হলুদ, সোনালি, লালের যে কোনও শেড বেশি ভালো লাগবে।
চুলের যত্ন
টেম্পোরারি হেয়ার কালার যেহেতু ক্ষণস্থায়ী তাই চুলের উপর তার প্রভাবও কম। কিন্তু তাই বলে এই ধরনের রং যদি বারবার ব্যবহার করতে চান তাহলে চুলের কিছু যত্নও নিতে হবে বইকি। যেমন, প্রতিবার শ্যাম্পু করার পর চুলে কন্ডিশনার ও হেয়ার সিরাম লাগাতে ভুলবেন না। পনেরো দিনে অন্তত একবার চুলে হট অয়েল মাসাজ করিয়ে নেবেন। এক্ষেত্রে সঙ্গে সঙ্গে শ্যাম্পু করবেন না। সারা রাত তেলটা মাথায় বসিয়ে পরের দিন চুল শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। যদি কারও অয়েলি স্ক্যাল্প হয় তাহলে অবশ্য হট অয়েল মাসাজ নেওয়া উচিত নয়। সেক্ষেত্রে হেয়ার জেল মাসাজ নিন। ভালো কোনও ওয়াটার বেসড জেল দিয়ে চুলে এক ঘণ্টা মাসাজ করুন। তারপর তা সারা রাত রেখে পরের দিন শ্যাম্পু করে নিন। তাহলে চুল ভালো থাকবে।      
কমলিনী চক্রবর্তী

 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ