Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬

পাকিস্তানের হয়ে ‘চরবৃত্তি’, পাঠানকোটে আটক কিশোর

সন্ত্রাসের জাল ভারতজুড়ে বিছোচ্ছে পাকিস্তানি গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই। নাবালকদের পর্যন্ত চরবৃত্তির কাজে নামাতেও তারা পিছপা হচ্ছে না।

পাকিস্তানের হয়ে ‘চরবৃত্তি’, পাঠানকোটে আটক কিশোর
  • ৭ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নয়াদিল্লি: সন্ত্রাসের জাল ভারতজুড়ে বিছোচ্ছে পাকিস্তানি গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই। নাবালকদের পর্যন্ত চরবৃত্তির কাজে নামাতেও তারা পিছপা হচ্ছে না। এমনই অভিযোগে মঙ্গলবার পাকড়াও করা হল এক কিশোরকে।  ১৫ বছর বয়সি ওই কিশোরের নাম সঞ্জীব কুমার। মঙ্গলবার পাঞ্জাবের পাঠানকোট থেকে তাকে আটক করা হয়েছে। হরিয়ানার আম্বালা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৩১ বছরের সুনীল ওরফে সানি নামে এক ব্যক্তিকেও। নিরাপত্তা আধিকারিকরা জানাচ্ছেন, দু’জনেই সেনার অবস্থান, গতিবিধির মতো স্পর্শকাতর তথ্য পাকিস্তানি হ্যান্ডলারদের হাতে তুলে দিয়েছে।  আইএসআই যেভাবে তাদের নেটওয়ার্ক ভারতীয় কিশোরদের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে পেরেছে, তাতে উদ্বেগের যথেষ্ট কারণ দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। 

Advertisement

পাঞ্জাব পুলিশ জানিয়েছে, সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমেই কিশোরকে ফাঁদে ফেলেছিল আইএসআইয়ের মদতপুষ্ট হ্যান্ডলাররা। অন্তত এক বছর ধরে তাকে চরবৃত্তির কাজে ব্যবহার করা হয়েছে। আদতে জম্মুর সাম্বার বাসিন্দা সঞ্জীব। তার মোবাইল ফোনের উপর নজরদারি এবং টেকনিক্যাল অ্যানালিসিসের পরই আটকের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পাঠানকোটের সিনিয়র সুপারিন্টেন্ডেন্ট অব পুলিশ (এসএসপি) দলজিন্দর সিং ধিলোঁ জানিয়েছেন, ওই কিশোরের বাবার আগেই মৃত্যু হয়েছে। তাকে খুন করা হল বলে ভুল বুঝিয়েছিল পাকিস্তানি হ্যান্ডলাররা। কেন ওই কিশোরকেই বাছা হল? এসএসপির দাবি, ‘সঞ্জীব মানসিকভাবে বিধ্বস্ত, দুর্বল চিত্ত। তাই বাবার খুনের কথা বুঝিয়ে মগজ ধোলাই করে তাকে দিয়ে নানা কাজ করানো হয়েছে।’ ওই কিশোরের সঙ্গে সীমান্তে সক্রিয় মাদক সিন্ডিকেটের অপারেটর সাজিদ ভাট্টির যোগসাজশ মিলেছে। সে এখন পুলিশি হেপাজতে। পুলিশ জানাচ্ছে, সঞ্জীব টেক স্যাভি। ফোন ক্লোনিংয়ের মাধ্যমে তার থেকে তথ্য সংগ্রহ করত পাকিস্তানে বসে থাকা হ্যান্ডলাররা। সঞ্জীবের পাঠানো তথ্যের গুরুত্ব বিচার করে আইনি পদক্ষেপ করা হবে। তদন্তকারীদের সন্দেহ, সঞ্জীবের বয়সি অনেকেই এই কাজে যুক্ত। তাদের খোঁজ শুরু করেছে পুলিশ।  
হরিয়ানায় ধৃত সুনীল ওরফে সানিকে জেরা করে অবশ্য সামনে এসেছে হানিট্র্যাপের বিষয়টি। তাতে ফেঁসে গিয়েই প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত তথ্য সে তুলে দিয়েছে পাকিস্তানের হাতে। ২০২০ সালে সে আম্বালার বায়ুসেনার ঘাঁটিতে এক কন্ট্রাক্টরের অধীনে মেরামতির কাজ করত সানি। সেই সুবাদে আম্বালা ঘাঁটির খুঁটিনাটি সে ভালোই জানে। তদন্তকারীরা জানাচ্ছেন, এক তরুণীর নামে ভুয়ো ফেসবুক অ্যকাউন্ট খুলে সুনীলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। এরপর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি করে শুরু হয় ইমোশনাল ব্ল্যাকমেল। বায়ুসেনা ঘাঁটির স্পর্শকাতর এলাকায় ছবি তুলে পাঠানোর দায়িত্ব দেওয়া হয় তাকে। পূর্ব পরিচিতিকে কাজে লাগিয়ে সে স্পর্শকাতর এলাকার ছবি এবং ভিডিও পাঠিয়েছে। আম্বালা ক্রাইম ডিএসপি বীরেন্দ্র কুমার বলেন, ‘সানি একা কাজ করত, নাকি আর কেউ তার সঙ্গে ছিল, আমরা এখন তা জানার চেষ্টা করছি। জিজ্ঞাসাবাদের পর আরও কিছু তথ্য বেরিয়ে আসবে।’  

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ