নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: আমাদের যখন চাকরিই নেই, আমরা কেন আর খাতা দেখব? উচ্চ মাধ্যমিকের অধিকাংশ খাতা এখনও দেখা হয়নি। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে খাতা দেখে বোর্ডের কাছে নম্বর জমা করাই এখন চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক-শিক্ষিকাদের কাছে। রায় বেরনোর দিন থেকেই বিদ্যালয় ছেড়েছেন জেলার প্রায় চার হাজার শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মী। এদিকে স্কুলের প্রধান শিক্ষকরা জানাচ্ছেন, শিক্ষকদের চাকরি থেকে বিতাড়িত করার নির্দেশ সরকারি কোনও স্তর থেকে তাঁরা পাননি। পাশাপাশি এত সংখ্যক শিক্ষক-শিক্ষাকর্মী একসঙ্গে স্কুল থেকে বেরিয়ে যাওয়ায় পঠনপাঠনে বিপর্যয় ঘটছে। পরীক্ষা ব্যবস্থা বিঘ্নিত হবে, সর্বোপরি ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যতে অনিশ্চয়তা দেখা দেবে। এমনকী সঠিকভাবে উচ্চ মাধ্যমিকের মূল্যায়ন করাও সম্ভব হবে না।
বহরমপুরের একটি নামী বিদ্যালয়ের চাকরিহারা ইংরেজি শিক্ষক বলেন, আমরা যখন অযোগ্য শিক্ষক, তাহলে আমাদের আর খাতা দেখার কোনও প্রশ্নই নেই। উচ্চ মাধ্যমিকের খাতা অর্ধেক দেখা হয়েছে। ওভাবেই বাড়িতে পড়ে থাকবে। বিদ্যালয়ের প্রয়োজন হলে তারা বাড়ি থেকে এসে খাতা সংগ্রহ করে নিয়ে যাবে। রায় বেরনোর পর থেকে আমরা আর স্কুলে যাচ্ছি না। খাতা পৌঁছে দিয়ে আসার প্রশ্নই নেই। লালগোলার একটি বিদ্যালয়ের বাংলা শিক্ষক বলেন, উচ্চ মাধ্যমিকের খাতা আর দেখব না। খাতা ফেরতও দেব না! সাগরপাড়ার এক রাষ্ট্রবিজ্ঞানের শিক্ষক বলছিলেন, একাদশের খাতা দেখে নম্বর দিয়ে এসেছি। এখন উচ্চ মাধ্যমিকের খাতা দেখছিলাম। এই খাতা ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যৎ। সেটা আর দেখব না। নম্বরও জমা করব না। এর ফলে মহা সমস্যায় পড়েছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে উচ্চ মাধ্যমিকের নম্বর জমা করাই চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে তাঁদের কাছে। কীভাবে বিপুল পরিমাণে জমে থাকা খাতার মূল্যায়ন করা হবে, তা নিয়ে চিন্তিত সকলেই। শক্তিপুরের একটি বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা বলেন, বোর্ডের পরীক্ষার সময় একাধিক ডকুমেন্টে আমাদেরকে সই করতে হয়। এমনকী পরীক্ষা চলাকালীন পড়ুয়াদের খাতাতেও আমরা সাইন করি। এখন যদি আমরা অযোগ্য হই তাহলে ওই সব কনফিডেন্সিয়াল ডকুমেন্টে আমাদের সইও অবৈধ। সমস্ত পরীক্ষা সিস্টেমটাই তো তাহলে অবৈধ। আমরা এতদিন যা নম্বর দিয়েছি, সব বাতিল করা হোক। মাধ্যমিকের খাতা জমা দিয়েছি। সেই খাতায় আমাদের মতো অযোগ্য শিক্ষক-শিক্ষিকাদের দেওয়া নম্বরের কোনও গুরুত্ব নেই। পুনরায় খাতা দেখিয়ে নেওয়া হোক।
উচ্চ মাধ্যমিকের খাতার পাশাপাশি বিদ্যালয়ের সেমিস্টার পরীক্ষার খাতা এবং হলিস্টিক রিপোর্ট কার্ড তৈরিতে সমস্যা দেখা দিয়েছে। নওদার অন্নদামণি বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা সুমর্তভান খাতুন বলেন, পরীক্ষার খাতা দেখা নিয়ে খুব সমস্যা তৈরি হয়েছে। কলেজটির রিপোর্ট কার্ড তৈরি করা যাবে না। আমাদের সাতজন শিক্ষিকার চাকরি বাতিল হল। ওই সাতজনের মধ্যে চারজন অঙ্কের শিক্ষিকা ছিলেন। বর্তমানে একজন মাত্র অঙ্কের শিক্ষিকা থাকলেন। স্কুলের পঠন-পাঠন নিয়ে চিন্তা হচ্ছে। সেমিস্টারের সব খাতা পড়ে আছে।