Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বাড়তি চাপ সামলেও তালা খোলা, ঘণ্টা বাজানো সব করছেন শিক্ষকরা

স্কুলের প্রধান শিক্ষকের পদ ফাঁকা রয়েছে অনেক দিন ধরে। এছাড়াও সহ শিক্ষকের পদ খালি রয়েছে আটটি

বাড়তি চাপ সামলেও তালা খোলা, ঘণ্টা বাজানো সব করছেন শিক্ষকরা
  • ৭ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, করিমপুর: গত ছয় মাস ধরেস্কুলেকোনও গ্রুপডি কর্মী নেই। ফলে স্কুলের গেটবন্ধ করা, তালা দেওয়া থেকে ঘণ্টা বাজানোর কাজ করতে হয় শিক্ষকদের। ছাত্রছাত্রীদের ক্লাসে পড়ানোর পাশাপাশি প্রতিদিন গ্রুপডি কর্মীর কাজ করতে হচ্ছে করিমপুর ১ ব্লকের হোগলবেড়িয়া আদর্শ শিক্ষা নিকেতনের সহ শিক্ষকদের। স্কুল সূত্রে জানা গিয়েছে, স্কুলে বর্তমানে পঞ্চম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত প্রায় এক হাজার ছ’শো পড়ুয়া রয়েছে। স্কুলের প্রধান শিক্ষকের পদ ফাঁকা রয়েছে অনেক দিন ধরে। এছাড়াও সহ শিক্ষকের পদ খালি রয়েছে আটটি। দেড় হাজারেরও বেশি ছাত্রছাত্রীকে পড়ানোর জন্য সাকুল্যে ২৫ জন শিক্ষক শিক্ষিকা রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে একজন দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আর ঠিক সেই সময় গত ৩ এপ্রিল সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশে চাকরিহারা শিক্ষকদের তালিকায় এই স্কুলের পাঁচজন শিক্ষকের নাম রয়েছে। স্কুলে দুই জনের জায়গায় একজন করণিক আছেন, কিন্তু একজনও গ্রুপডি কর্মী নেই। 

Advertisement

স্কুলের দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী প্রধান শিক্ষক কল্যাণ মণ্ডল বলেন, পঞ্চম শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত ৩টি করে বিভাগ রয়েছে। এছাড়াও একাদশ, দ্বাদশ মিলিয়ে স্কুলে মোট ২০টি ইউনিট রয়েছে। স্বল্প সংখ্যক শিক্ষক-শিক্ষিকা নিয়ে সব ক্লাস চালানো অসম্ভব হয়ে উঠেছে।
স্কুলে যতগুলি ইউনিট রয়েছে তত সংখ্যক শিক্ষকই নেই। ফলে প্রতি ক্লাস সঠিকভাবে চালানো সম্ভব হচ্ছে না। ক্লাস নেওয়া থেকে পরীক্ষায় গার্ড দেওয়া এবং পরীক্ষার খাতা দেখা সব কিছুই করতে হচ্ছে এই কয়জন শিক্ষক শিক্ষিকাকে।অন্যদিকে এতদিন স্কুলে ৩ জন গ্রুপডি কর্মীর থাকার কথা হলেও একজন ছিলেন। তিনি গত বছরে অবসর নেওয়ার পর থেকে গ্রুপডি কর্মীর পদ শূন্য। তাই বাধ্য হয়েই এখন ক্লাসে পড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে স্কুলের ঘণ্টা বাজানো বা অন্য কাজ আমরা শিক্ষকরাই করছি। সমস্যার কারণে স্থানীয় একজনকে সামান্য বেতনে কাজের জন্য রাখা হয়েছে। টিচার ইনচার্জ দেবেন্দ্র নাথ হাঁসদা বলেন, স্কুলের তালা খোলা থেকে শুরু করে ক্লাস বা পরীক্ষা শেষে ঘণ্টা দেওয়া, স্কুল শেষে ক্লাসরুম বন্ধ করা  সবই করতে হচ্ছে সহ শিক্ষকদের। একদিকে স্কুলের কর্মী না থাকায় শিক্ষকদের ঘণ্টা বাজাতে হচ্ছে। 
কয়েকজন শিক্ষক বলেন, সম্প্রতি পঞ্চম থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত ৩টি বিভাগকে একত্র করে দু’টি করা হয়েছে, যাতে সকল শ্রেণিতে শিক্ষকেরা বাড়তি ক্লাস নিতে পারেন। এভাবে কতদিন চালাতে পারব, জানি না। আগামী দিনে শিক্ষক নিয়োগ এবং গ্রুপডি কর্মী না এলে তার প্রভাব পড়বেপড়ুয়াদের পড়াশোনার উপরে। করিমপুর চক্রের অবর বিদ্যালয় পরিদর্শক সোমদেব মজুমদার জানান, ওই স্কুলে এটি বিরাট সমস্যা। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ