নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: জাল ওষুধের শিকড় কতদূর পর্যন্ত ছড়িয়ে গিয়েছে, তা এখনও কেউ জানে না। এবার জেলায় সেই জাল ওষুধ বিক্রি রুখতে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করল বীরভূম জেলা ড্রাগ কন্ট্রোল। জেলা ড্রাগ কন্ট্রোলের তরফে জানা গিয়েছে, এবার প্রতিটি ওষুধের দোকানে ‘নট অফ স্ট্যান্ডার্ড কোয়ালিটি’ তালিকা ঝোলানো বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। জেলা বিসিডিএ-র (বেঙ্গল কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট অ্যাসোসিয়েশন) সদস্যদের সহযোগিতায় এই কাজ করা হবে। সেইসঙ্গে জাল ওষুধের বিক্রি রুখতে গোটা জেলায় টাস্ক ফোর্সের তরফে নিয়মিত অভিযানও চলছে। জেলা ড্রাগ কন্ট্রোলের তরফে জানা গিয়েছে, কোনও ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে জাল ওষুধ বিক্রির অভিযোগ প্রমাণিত হলে দোকানের লাইসেন্স বাতিল করা হবে। এবিষয়ে জেলা ড্রাগ কন্ট্রোল আধিকারিক অভীক দাস বলেন, জাল ওষুধের বিক্রি রুখতে জেলাজুড়ে আমাদের কড়া নজরদারি রয়েছে। এক্ষেত্রে নিয়মিত অভিযানও চালানো হচ্ছে। তবে কোনও ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে নির্দিষ্ট ওষুধের দোকানের লাইসেন্স বাতিল করা হবে। এছাড়াও নির্দিষ্ট দোকান মালিকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সম্প্রতি জাল ওষুধ নিয়ে জেলা বিসিডিএর সদস্যরা উষ্মা প্রকাশ করেছিলেন। সংগঠনের সদস্যরা আশঙ্কা করছিলেন, বাইরে থেকে জেলার নানা প্রান্তে জাল ওষুধ আমদানি করা হচ্ছে। মূলত ভিন রাজ্য থেকে জাল ওষুধের আমদানি হয়। এই পরিস্থিতিতে জেলা টাস্ক ফোর্সের সদস্যরা যথেষ্ট সতর্কতামূলক পদক্ষেপ অবলম্বন করেছেন। ড্রাগ কন্ট্রোলের নিয়মিত অভিযান চলছে জেলাজুড়ে। অন্যদিকে, ‘নট অফ স্ট্যান্ডার্ড কোয়ালিটি’ ওষুধ সম্পর্কে ড্রাগ কন্ট্রোলের তরফে ব্যবসায়ীদের নিয়মিত সজাগ করা হচ্ছে। সেইসঙ্গে এবার ক্রেতাদেরও সজাগ করতে জোর তৎপরতা শুরু হয়েছে। সেই লক্ষ্যে জেলার প্রতিটি লাইসেন্সপ্রাপ্ত ওষুধের দোকানে ‘নট অফ স্ট্যান্ডার্ড কোয়ালিটি’ তালিকা ঝোলানোর কথা স্পষ্ট করল জেলা ড্রাগ কন্ট্রোল। বিসিডিএর সদস্যদের সহযোগিতা নিয়ে এই কাজ গোটা জেলাজুড়ে করা হবে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে। ইতিমধ্যে জেলার একাধিক ওষুধের দোকানে সেই তালিকা লাগানো হয়েছে বলেও প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে। ওই তালিকা অনুসারে ক্রেতারা জাল ওষুধ সম্পর্কে অবগত হতে পারবেন। অন্যদিকে, বিসিডিএর তরফেও আমজনতাকে সচেতন করে তুলতে নিরন্তন প্রচার চালানো হচ্ছে।
বীরভূম জেলায় ৩৭৫০টি লাইসেন্সপ্রাপ্ত ওষুধের দোকান রয়েছে। নিয়ম করে প্রতিটি দোকানের উপর নজর রাখছে টাস্ক ফোর্স। সেইসঙ্গে ড্রাগ কন্ট্রোলের তরফেও নজরদারি চলছে। অন্যদিকে, বিসিডিএর তরফেও নিয়মিত ব্যবসায়ীদের সতর্ক করার কাজ চলছে। এবিষয়ে বিসিডিএর জেলা সম্পাদক পরিতোষ পাত্র বলেন, ড্রাগ কন্ট্রোলের এই সিদ্ধান্তকে আমরা স্বাগত জানাচ্ছি। জাল ওষুধের বিক্রি রুখতে এ ধরনের সচেতনতামূলক পদক্ষেপ খুবই উল্লেখযোগ্য। তার আরও সংযোজন, ড্রাগ কন্ট্রোলের প্রতিটি তথ্য আমরা ব্যবসায়ীদের জানাই। জেলার প্রতিটি ব্যবসায়ী জাল ওষুধ সম্পর্কে সচেতন রয়েছেন। এছাড়া টাস্কফোর্সের এই অভিযান ক্রেতা-বিক্রেতা উভয় পক্ষের কাছেই স্বস্তিদায়ক।