নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ডেটিং অ্যাপে টার্গেট ধনী যুবকরাই। টোপ দেওয়া হত লাস্যময়ীদের সঙ্গে ‘বন্ধুত্বে’র। তারপর কখনও হোটেলে ডাকা, কখনও আলাপ জমে ওঠার পর নগ্ন ভিডিও পাঠানো... যে কোনও উপায়ে ফাঁদ পেতে শুরু ‘ব্ল্যাকমেল’! এটিএম কার্ড কেড়ে নিয়ে বা জোর করে অনলাইন ট্রান্সফারের মাধ্যমে আদায় করা হত মোটা টাকা। এহেন নিখুঁত পরিকল্পনার পান্ডা দু’জনই—তরুণী কমল সাহা ও তার লিভ-ইন পার্টনার ধ্রুব মিত্র। কিন্তু চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট আদর্শ লোসালকাকে ফাঁদে ফেলতে গিয়েই সব গোলমাল হয়ে যায়। যদিও কসবার হোটেলে তাঁকে খুনের পর এটিএম কার্ডের পিন বদলে কয়েক হাজার টাকা হাতিয়ে নেয় দুই মূল অভিযুক্ত। রবিবার তাদের গ্রেফতারের পরই তদন্তে এসেছে নয়া মোড়। ধৃতদের জেরা করেই জানা গিয়েছে, সোশ্যাল মিডিয়া ভালোভাবে ঘাঁটার পর তারা বুঝে যায়, ডেটিং অ্যাপই হল ব্ল্যাকমেলিংয়ের উপযুক্ত মাধ্যম। সেই কারণেই দু’জনে মিলে খুলে ফেলে এমন একটি অ্যাপ। সেই র্যাকেটে অনেক লাস্যময়ী মহিলাকে নিয়োগও করেছিল অভিযুক্ত তরুণী।
কসবার হোটেলে আদর্শকে খুনের কথা জেরায় স্বীকারও করেছে দুই মূল অভিযুক্ত। রবিবার রাতভর জেরা করা হয় দু’জনকে। তাতেই জানা গিয়েছে, টাকা নিয়ে গোলমালের সময় ধ্রুব হোটেলের ঘরে ঢুকে আদর্শের গালে সপাটে থাপ্পড় মারে। তাতেই নাকের হাড় ভেঙে যায় ওই যুবকের। কিন্তু তারপরও তিনি বাধা দিতে থাকলে, তাঁকে খুন করতে বাধ্য হয় কমল-ধ্রুব। তখন রাত প্রায় বারোটা। এরপর গোটা ঘটনা কীভাবে ধামাচাপা দেবে তার পরিকল্পনা শুরু করে দু’জন। কিন্তু শেষপর্যন্ত কোনও উপায় না দেখে আদর্শের ফোন, এটিএম কার্ড, পার্স হাতিয়ে তারা পালিয়ে যায়।
পুলিস সূত্রে খবর, অ্যাপ বাইক ধরে কমল-ধ্রুব উল্টোডাঙ্গা পৌঁছয় রাত তিনটে নাগাদ। আদর্শের ফোনের সিম খুলে নিজের মোবাইলে ঢোকায় কমল। তারপর ওই এলাকার একটি এটিএমে ঢুকে প্রথমে পিন চেঞ্জ করে। নতুন পাসওয়ার্ড দিয়ে হাজার তিনেক টাকা তোলে। এরপর ওই তরুণী ট্রেন ধরে সঙ্গীকে নিয়ে চলে যায় বারাকপুরে নিজের বাড়িতে। সেখানে থাকা নিরাপদ নয় বুঝেই কয়েকঘণ্টা কাটিয়ে বেরিয়ে পড়ে। একটি এটিএম থেকে হাজার ছয়েক টাকা তুলে ট্রেন ধরে চলে যায় কৃষ্ণনগরে। সেখানেও ডেরা রয়েছে ওই তরুণীর। কৃষ্ণনগর শহরের এটিএম থেকে দু’হাজার তুলে রাতভর মদ্যপান করে দু’জনে। এরপর আদর্শের সিম খুলে ফেলে দেয়। সেখান থেকে আবার কলকাতায় চলে আসে এক আইনজীবীর পরামর্শমতো।
পুলিশের অবশ্য দাবি, আদর্শের সিম ব্যবহার করাই কাল হয় কমলের। তার সূত্র ধরেই তাদের তাড়া করে পুলিশ। আর সেই চাপ সামলাতে না পেরে শেষপর্যন্ত ধরা পড়ে যায় কমল-ধ্রুব। সোমবার দুই অভিযুক্তকে আলিপুর আদালতে তোলা হয়। সরকারি আইনজীবী সৌরিন ঘোষাল বলেন, ঘটনার পুনর্নির্মাণ এবং সিমটি উদ্ধারের জন্য ধৃতদের পুলিশি হেপাজতে নেওয়া দরকার। সওয়াল শেষে বিচারক দু’জনকেই ২ ডিসেম্বর পর্যন্ত পুলিশি হেপাজতে পাঠিয়েছেন।