নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আজ রাজ্যজুড়ে স্কুল সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমিক লেভেলের শিক্ষক নিয়োগের পরীক্ষা। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে এই পরীক্ষা হচ্ছে। দেশের সর্বোচ্চ আদালত নির্দেশ দিয়েছে, ‘দাগি’রা এই পরীক্ষায় বসতে পারবেন না। সেই কথা মাথায় রেখে এবার প্রতিটি কেন্দ্রে ডিভিওগ্রাফি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন। কলকাতা পুলিসের প্রতিটি ডিভিশনের ডিসিদের ভিডিওগ্রাফির বিষয়টি নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। কলকাতায় মোট ৪১টি পরীক্ষাকেন্দ্র হচ্ছে। কলকাতা পুলিস সূত্রে খবর, মূলত ‘দাগি’ এবং যোগ্য পরীক্ষার্থীদের আলাদা করার কথা মাথায় রেখেই ভিডিওগ্রাফির সিদ্ধান্ত। সেই সঙ্গে পরীক্ষা নিয়ে আগামী দিনে কোনও বিতর্ক দেখা দিলে এই ভিডিও রেকডিং আদালতগ্রাহ্য প্রমাণ্য নথি হিসেবে কাজে আসবে। মূলত, পরীক্ষার্থীদের তল্লাশি, পরীক্ষা কেন্দ্রে ঢোকা-বেরনোর ভিডিও করার কথা রয়েছে। তবে পরীক্ষা চলাকালীন হলের ভিতরে কোনও ভিডিও করা হবে কি না, তা এখনও পরিষ্কার নয়।
এবার প্রতিটি পরীক্ষাকেন্দ্রে কার্যত মাছি গলার জায়গা রাখতে চাইছে না রাজ্য প্রশাসন। তাই পরীক্ষাকেন্দ্রের ১০০ মিটারের মধ্যে বাহিরাগতদের ঢোকার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে। এমনকী, সাংবাদিকদের ঢোকার ক্ষেত্রেও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। পাশাপাশি, প্রতিটি পরীক্ষাকেন্দ্রের ১০০ মিটারের মধ্যে ফটোকপি বা জেরক্সের দোকান বন্ধ রাখা হবে। নিরাপত্তার প্রশ্নে এবার এতটাই কড়াকড়ি থাকছে যে ডিউটিতে থাকা পুলিসকর্মীরাও জরুরি পরিস্থিতি ছাড়া মোবাইল ব্যবহার করতে পারবেন না। পরীক্ষাকেন্দ্রগুলিতে মোবাইল, স্মার্ট ওয়াচ, ইলেকট্রনিক গ্যাজেট নিয়ে ঢোকা যাবে না। এর জন্য কমিশন প্রতিটি কেন্দ্রে ক্লক রুমের ব্যবস্থা করছে। প্রতিটি পরীক্ষাকেন্দ্রে একজন এসআই, একজন এএসআই, চারজন কনস্টেবল, দু’জন মহিলা পুলিসকর্মী মিলিয়ে মোট আটজন পুলিসকর্মী মোতায়েন করা হবে। পাশাপাশি, সংশ্লিষ্ট থানার ওসি, এসি, ডিভিশনের ডিসি এবং পিসিআরভি ভ্যান নজরদারি চালাবে। কলকাতা পুলিসের গোয়েন্দা প্রধান রূপেশ কুমারকে প্রতিটি পরীক্ষাকেন্দ্রের বাইরে লালবাজারের বাছাই করা গোয়েন্দাদের নিয়ে নজরদারির ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে। তাছাড়া, কলকাতার যুগ্ম কমিশনার ইন্টেলিজেন্সকে পরীক্ষা কেন্দ্রগুলিতে সাদা পোশাকে গোয়েন্দাদের নজরদারি চালানোর জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।



