Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

রাস্তার কাজ নিম্নমানের ক্ষুব্ধ সূতির বাসিন্দারা

প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনার রাস্তা তৈরিতে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে সুতিতে

রাস্তার কাজ নিম্নমানের ক্ষুব্ধ সূতির বাসিন্দারা
  • ২২ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, জঙ্গিপুর: প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনার রাস্তা তৈরিতে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে সুতিতে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, শিডিউল মেনে রাস্তার কাজ হচ্ছে না। রাস্তার কাজের নিম্নমান নিয়ে প্রশাসনকে অথিযোগ জানিয়েও কোনও লাভ হচ্ছে না বলে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সম্প্রতি অরঙ্গাবাদ হাইস্কুল থেকে কাশিমনগর পর্যন্ত একটি ঢালাই রাস্তার কাজ শুরু হয়েছে। বাসিন্দাদের বক্তব্য, অত্যন্ত নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে কাজ করা হচ্ছে। সংস্কার শুরু আগে পুরনো পিচ ও পাথর তুলে ফেলে দিয়ে করাই নিয়ম। কিন্তু তা করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। শিডিউল মেনে না করলে রাস্তার কাজ বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন গ্রামবাসীরা। জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার পিসাই সাহা অবশ্য গ্রামবাসীদের অভিযোগ ফুৎকারে উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, গ্রামবাসীদের অভিযোগ ঠিক নয়। শিডিউল মেনেই কাজ হচ্ছে। এই কাজ তিনটি পর্বে পরীক্ষা হয়। নিয়ম মেনে কাজ না হলে বিল আটকে যাবে। সুতি ২ ব্লকের বিডিও হুমায়ুন চৌধুরী বলেন, কাজটি জেলা পরিষদের তত্ত্বাবধানে চলছে। লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাব। জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার আরও বলেন, ড্রেনের জন্য আউটলেট পাওয়া যাচ্ছে না। ড্রেনেরও কাজ হবে তবে ড্রেনের দৈর্ঘ কমবেশি হবে।

Advertisement

জানা গিয়েছে, সুতি ২ ব্লকের মহেশাইল ও কাশিমনগর এই দুই পঞ্চায়েতের প্রায় দশ কিমি রাস্তার কাজ শুরু হয়েছে। অরঙ্গাবাদ হাইস্কুল থেকে কাশিমনগর পর্যন্ত রাস্তাটি বহুদিন যাবত চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছিল। প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনার আওতায় গত দিন কয়েক থেকে রাস্তাটি সংস্কারের কাজ শুরু হয়। সব মিলিয়ে প্রায় সাড়ে দশ কিমি রাস্তা ঢালাই হবে। রাস্তা বরাবর ড্রেনও তৈরি হবে। এরজন্য প্রায় সাড়ে চার কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে সরকার। ইতিমধ্যে কয়েক শো মিটার রাস্তার কাজ হয়েও গিয়েছে। বাকি অংশের কাজ চলছে। কিন্তু স্থানীয়দের অভিযোগ, রাস্তাটিতে রোলার চালানো হয়নি। কোনওরকমে দায়সারাভাবে ঝাঁটা দিয়ে ধুলো পরিষ্কার করেই রাস্তার কাজ হয়েছে। রাস্তার পুরনো পিচ তুলে ফেলা হচ্ছে না। রাস্তার পুরনো পাথর তুলে ফেলে রোলার না চালিয়েই কাজ করা হচ্ছে। শক্ত ও মজবুত করার জন্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী দেওয়া হচ্ছে না। চার ইঞ্চি ঢালাইয়ের বদলে বড়জোর এক থেকে দুই ইঞ্চি ঢালাই দেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দা তফিজুল ইসলাম বলেন, রাস্তার কাজের মান জঘন্য। দায়সারা ভাবে কাজ হচ্ছে। কাজের বরাত পাওয়া কনট্রাক্টরকে শিডিউল দেখাতে বললেও দেখান না। ইঞ্জিনিয়ারকে ডাকা হলেও তার দেখা মেলে না। নিয়ম মেনে কাজও হচ্ছে না।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ