Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সুপ্রিম রায়ে ঝাড়গ্রামের একাধিক স্কুলে পঠনপাঠন নিয়ে অচলাবস্থা

সুপ্রিম রায়ে ঝাড়গ্রামের একাধিক স্কুলে পঠনপাঠন নিয়ে অচলাবস্থা
  • ৫ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: সুপ্রিম কোর্টের রায়ে ঝাড়গ্রামের একাধিক স্কুলের শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীর চাকরি গিয়েছে। বিদ্যালয়গুলিতে শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীর অভাবে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। একাদশ শ্রেণিতে বিজ্ঞান বিভাগে ছাত্রছাত্রীদের ভর্তি করা যাবে কিনা তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। গ্ৰুপ ডি কর্মীর অভাবে স্কুলের অন্যান্য কাজে শিক্ষক ও শিক্ষিকাদের হাত লাগাতে হচ্ছে। 

Advertisement

ঝাড়গ্রামের একাধিক স্কুলে আগে থেকেই যথেষ্ট সংখ্যক শিক্ষক নেই। সুপ্রিম কোর্টের রায় ঘোষণার পর জেলার একাধিক স্কুলের শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীর চাকরি গিয়েছে। চাকরি হারানো শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীরা স্কুলে আসা বন্ধ করে দিয়েছেন। শিক্ষকের অভাবে বিভিন্ন বিষয়ের ক্লাস নেওয়া বন্ধ হয়ে গিয়েছে। গ্ৰুপ ডি কর্মীর অভাবে শিক্ষকদেরই স্কুলের দরজা খোলা থেকে ঘণ্টা বাজানো অবধি সব কাজ করতে হচ্ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় কী করণীয় তা নিয়ে স্কুল কর্তৃপক্ষ জেলা শিক্ষাদপ্তরের সঙ্গে বারবার যোগাযোগ করছেন। একাধিক স্কুলের বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষকদের চাকরি চলে যাওয়ায় একাদশ শ্রেণিতে বিজ্ঞান বিভাগে ছাত্রছাত্রী ভর্তি করা যাবে কি না, তা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ঝাড়গ্রাম ব্লকের মানিকপাড়ার চুবকা এলাকার বল্লা বিদ্যাপীঠের পদার্থ বিজ্ঞান, রসায়ন, কেমিস্ট্রির শিক্ষক ও দুই জন গ্ৰুপ ডি কর্মীর চাকরি গিয়েছে। বিজ্ঞান বিভাগের দু'জন শিক্ষকের চাকরি চলে যাওয়ায় বিজ্ঞান বিষয়ের পঠনপাঠন বন্ধ হয়ে গিয়েছে। স্কুলের প্রধান শিক্ষক পলাশ চন্দা বলেন, দেড় থেকে দুই মাসের মধ্যে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি শুরু হবে। বিজ্ঞান বিভাগে কীভাবে ছাত্রছাত্রী ভর্তি হবে তা আমাদের জানা নেই। জেলা শিক্ষাদপ্তরকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। গ্ৰুপ ডি কর্মী না থাকায় স্কুল খোলা থেকে ঘণ্টা বাজানো শিক্ষকদের করতে হচ্ছে। বিনপুরের কাঁটাপাহাড়ী বিবেকানন্দ বিদ্যাপীঠের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক গুরুদাস চক্রবর্তী বলেন, ২০১৬ সালে আমাদের স্কুল পাঁচজন শিক্ষক ও একজন গ্ৰুপ ডি কর্মী চাকরি পেয়েছিলেন। করোনার সময় একজন শিক্ষক মারা যান। চারজন শিক্ষকের মধ্যে পদার্থ বিজ্ঞান, রসায়ন, বায়োলজি ও ইংরেজি ভাষার শিক্ষক ছিলেন। চারজন শিক্ষক চলে যাওয়ায় স্কুলের পঠনপাঠন চালানো নিয়ে চরম সমস্যা তৈরি হয়েছে। একাদশে বিজ্ঞান বিভাগে পড়ুয়াদের ভর্তি করা নিয়েও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছি। একজন গ্ৰুপ ডি কর্মী দিয়ে স্কুলের সব কাজ করানো সম্ভব নয়। স্কুলের শিক্ষকদেরই সেই কাজ করতে হচ্ছে। বামুন্দী হাইস্কুলের প্রধান স্কুলের প্রধান শিক্ষক অনুপকুমার মাহাত বলেন, গত দু’ বছর ধরে স্কুলের বিজ্ঞান বিভাগে কোনও ছাত্র ভর্তি হয়নি। একজন মাত্র রসায়নের শিক্ষক ছিল। নিচু ক্লাসে পড়াতেন। তিনি চলে যাওয়ায় স্কুলের বিজ্ঞানের পঠনপাঠন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। ঝাড়গ্রাম জেলার ডিআই শক্তিভূষণ গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, জেলার স্কুল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলছি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়গুলো জানানো হয়েছে। উপর মহল থেকে নির্দেশ পেলে পরবর্তী করণীয় কী তা জানিয়ে দেওয়া হবে।-ফাইল চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ