Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬

ভর্ৎসনা করলেও অধ্যাপককে জামিন সুপ্রিম কোর্টের, ‘বাক স্বাধীনতা রয়েছে মানেই যা খুশি বলা যায় না’

অপারেশন সিন্দুর নিয়ে একের পর এক বিতর্কিত পোস্ট করে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন অধ্যাপক আলি খান মেহমুদাবাদ। বুধবার তাঁকে জামিন দিল সুপ্রিম কোর্ট।

ভর্ৎসনা করলেও অধ্যাপককে জামিন সুপ্রিম কোর্টের, ‘বাক স্বাধীনতা রয়েছে মানেই যা খুশি বলা যায় না’
  • ২২ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নয়াদিল্লি: অপারেশন সিন্দুর নিয়ে একের পর এক বিতর্কিত পোস্ট করে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন অধ্যাপক আলি খান মেহমুদাবাদ। বুধবার তাঁকে জামিন দিল সুপ্রিম কোর্ট। তবে অশোকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই অধ্যাপকের বিরুদ্ধে তদন্তে স্থগিতাদেশ দেয়নি শীর্ষ আদালত। বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ইনসপেক্টর জেনারেল (আইজি) পদমর্যাদার আধিকারিকের নেতৃত্বে তিন সদস্যের কমিটি তৈরি করতে হবে। হরিয়ানার ডিরেক্টর জেনারেলকে এমনই নির্দেশ দিয়েছে বিচারপতি সূর্যকান্ত ও বিচারপতি এন কোটিসার সিংয়ের বেঞ্চ। আদালত জানিয়েছে, অধ্যাপক মেহমুদাবাদকে পাসপোর্ট জমা রাখতে হবে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত পহেলগাঁও জঙ্গি হামলা, ভারত-পাক সম্পর্ক নিয়ে কোনও রকম পোস্ট করতে পারবেন না। আদালতের পর্যবেক্ষণ, সকলেই বাক ও মত প্রকাশের স্বাধীনতার কথা বলছে। কিন্তু, এই অধিকার রয়েছে মানেই যা খুশি বলা যায় না।

Advertisement

এদিন শুনানিতে অধ্যাপককে কার্যত ভর্ৎসনা করেছে সুপ্রিম কোর্ট। অপারেশন সিন্দুরের পরেই ওই পোস্টগুলির শব্দ চয়ন, প্রাসঙ্গিকতা, সময় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে দুই সদস্যের বেঞ্চ। তারা জানিয়েছে, সকলেই নিজের মত প্রকাশ করতে পারেন। কিন্তু, দেশ এক কঠিন সময়ের মুখোমুখি। অন্য জায়গা থেকে কয়েকজন দৈত্য এসে নিরীহ মানুষকে হত্যা করেছে। এর প্রেক্ষিতে গোটা দেশ এককাট্টা। এই সময় এধরনের মন্তব্যের কারণ কী? সস্তার জনপ্রিয়তা পেতেই কী এসব বলা হয়েছিল? আদালত আরও জানিয়েছে, ইচ্ছাকৃতভাবে অন্যকে অপমান করতে, অস্বস্তিতে ফেলতেই সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে বিতর্কিত শব্দগুলি ব্যবহার করা হয়েছে। অভিযুক্ত একজন অধ্যাপক। তাই তাঁর শব্দভাণ্ডার কম, এমনটা বলা যাবে না। তাঁকে অন্যদের ভাবাবেগকে সম্মান জানাতেই হবে। একই বিষয় সহজভাবে অন্য কাউকে আঘাত না করেও বলা যেত। 
 সম্প্রতি অশোকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই অধ্যাপককের বিরুদ্ধে সোশ্যাল মিডিয়ায় দেশের সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতার পক্ষে ক্ষতিকর মন্তব্য করার অভিযোগ উঠেছিল। তার জেরে দায়ের হয় দু’টি এফআইআর। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে মেহেমুদাবাদকে গ্রেপ্তার করে হরিয়ানা পুলিস। ২০ মে সোনিপতের একটি আদালত তাঁকে ২৭ মে পর্যন্ত বিচারবিভাগীয় হেফাজতের নির্দেশ দেয়। তার বিরুদ্ধে শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয় ওই অধ্যাপক। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ