Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বিধায়ক ও পুলিসের উদ্যোগে সাফল্য, ওড়িশায় আটকে থাকা বাঙালি ফিরলেন ঘরে

আমতার বাইনান গ্রামের বাসিন্দা সেখ মনিহার ইসলাম। বাঙালি হওয়ার ‘অপরাধে’ তাঁকে তিনদিন ওড়িশার একটি ক্যাম্পে আটকে রাখার অভিযোগ উঠল ওড়িশা পুলিসের বিরুদ্ধে।

বিধায়ক ও পুলিসের উদ্যোগে সাফল্য, ওড়িশায় আটকে থাকা বাঙালি ফিরলেন ঘরে
  • ২ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, উলুবেড়িয়া: আমতার বাইনান গ্রামের বাসিন্দা সেখ মনিহার ইসলাম। বাঙালি হওয়ার ‘অপরাধে’ তাঁকে তিনদিন ওড়িশার একটি ক্যাম্পে আটকে রাখার অভিযোগ উঠল ওড়িশা পুলিসের বিরুদ্ধে। যদিও পরে আমতার বিধায়ক সুকান্ত পালের তৎপরতায় এবং জেলা পুলিস প্রশাসনের উদ্যোগে সোমবার রাতে বাড়ি ফিরেছেন মনিহার। তাঁর দাবি, ওই ক্যাম্পে এখনও শতাধিক বাঙালিকে আটকে রাখা হয়েছে।

Advertisement

মনিহার ইসলাম তিন বছরের বেশি সময় ধরে ওড়িশার ভুবনেশ্বরে কাঠের কাজ করছিলেন। ১০ জুন তিনি বাইনান থেকে ওড়িশায় কাজে যান। এরপরে গত বুধবার ওড়িশার পুলিস তাঁকে আটক করে। মনিহার ইসলাম জানান, গত বুধবার রাতে সাড়ে ১২টা নাগাদ বারাঙ্গি থানার পুলিস আমাদের বহুতলের আটতলায় এসে বলে, আপনাদের ‘ভেরিফিকেশন’ হবে। নীচে চলুন। বড়সাহেব অপেক্ষা করছেন। আমি এবং আমার এক সঙ্গী নীচে নেমে দেখি, সেখানে আরও ন’জন বাঙালিকে আনা হয়েছে। মনিহার জানান, তবে আমাদের ঘরেই চারজন ওড়িশার লোক ছিলেন। কিন্তু পুলিস তাঁদের ছেড়ে দেয়।
তিনি জানান, এরপর আমাদের থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। ভোর সাড়ে তিনটে পর্যন্ত আমাদের কাগজপত্র পরীক্ষা করার পর সকালে আমাদের ছেড়ে দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছিল। কিন্তু সকালে আমাদের কাছে জমির দলিল ও পরচা দেখতে চাওয়া হয়। অনেকে দেখালেও আমরা দু’জন তা দেখাতে না পারায় আমাদের অন্য একটি থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। পরে আমাদের মেডিক্যাল পরীক্ষা করে বাসে করে একটি শিবিরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে অনেকের সঙ্গে আমাকেও আটকে রাখা হয়।
মনিহার জানান, পুলিস আমাদের ফোন কেড়ে নিয়েছিল। তাই আমরা পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারিনি। পরে অনেক কষ্টে যোগাযোগ করি এবং বিধায়ক সুকান্ত পাল ও প্রশাসনের সহযোগিতায় উকিলের সাহায্যে রবিবার দুপুরে ক্যাম্প থেকে ছাড়া পাই। পরে ছবি, হাতের ছাপ নেওয়ার পর রাত সাড়ে ৯টা নাগাদ আমাকে থানা থেকে ছাড়া হয়। কী কারণে বাঙালিদের এভাবে হেনস্তা করা হচ্ছে, সেটা বুঝতে পারছেন না মনিহার। তবে তাঁর দাবি, ওড়িশায় বাঙালিদের টার্গেট করা হচ্ছে। ওড়িশা থেকে রোজ ১৫০ বাস এই রাজ্যে যাতায়াত করে। তবুও কেন বাঙালিদের প্রতি এমন আক্রোশ, তা নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন তিনি। তাঁর একটাই আবেদন, রাজ্য সরকার যেন ওড়িশায় আটকে থাকা বাঙালিদের এই রাজ্যে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে উদ্যোগী হয়। বিধায়ক সুকান্ত পাল বলেন, এলাকার মানুষ বিপদে পড়েছে এটা শুনে একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছি। এজন্য গর্ববোধ করছি। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ