নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: গতবছর ডিসেম্বরে ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পের প্রথম কিস্তির টাকা ছাড়তে শুরু করেছিল প্রশাসন। বছর ঘুরে হাজির আরও এক ডিসেম্বর। ‘বাংলার বাড়ি’ তৈরির কাজ প্রায় ৯০ শতাংশ শেষ বীরভূম জেলায়। দীর্ঘদিন ধরে কেন্দ্রীয় বঞ্চনার পর মাথার উপর ছাদ পেয়ে যারপরনাই খুশি বাসিন্দারা। তবে, এখনও মাথার উপর ছাদ নেই জেলার কয়েক হাজার পরিবারের। কবে পাকা বাড়ি মিলবে সেই অপেক্ষার প্রহর গুনছেন তাঁরা। জেলাশাসক ধবল জৈন বলেন, বাংলার বাড়ি তৈরির কাজ প্রায় ৯০ শতাংশের কাছাকাছি সম্পন্ন হয়েছে। বাকি বাড়ি তৈরির কাজ যাতে শীঘ্রই সম্পন্ন হয় তার উপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
জেলা প্রশাসন সূত্রের খবর, বিভিন্ন ঝাড়াই বাছাইয়ের পর বীরভূম জেলায় প্রায় ৫৩হাজার ২৮০জন উপভোক্তার নামে ‘বাংলার বাড়ি’ বরাদ্দ হয়। প্রথম কিস্তির টাকা পাওয়ার পর প্রায় ৪৫হাজার ৭১৩জনকে দ্বিতীয় কিস্তির টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। সেইসমস্ত উপভোক্তা বাড়ি তৈরির কাজ ইতিমধ্যেই সম্পন্ন করেছেন। উপভোক্তাদের একাংশের দাবি, বাড়ি তৈরির কাজ আরও আগেই সম্পন্ন হত। তবে বালির ব্যাপক সংকটের কারণে তা সম্ভব হয়নি। জেলা প্রশাসনের এক কর্তার দাবি, উপভোক্তাদের বাড়ি তৈরির কাজ যাতে কোনওভাবেই থেমে না থাকে তারজন্য বালির সংকট দ্রুত মিটিয়ে ফেলার সবরকম চেষ্টা করা হয়েছে। তারই সুফল মিলছে।
সরকারি পাকা বাড়ির জন্য দিন গুনছিলেন জেলার খেটে খাওয়া দুঃস্থ মানুষজন। কিন্তু রাজ্যের প্রতি কেন্দ্রের প্রতিহিংসাপরায়ণ মনোভাবের জন্য চোখের জল ফেলতে হয়েছে তাঁদের। আবাস প্রাপকরা মনে করাচ্ছেন, ২০২২সালের শেষের দিকে একবার বাড়ি তৈরির তোড়জোড় শুরু হয়েছিল জোরকদমে। ২০২৩ সালের মার্চের মধ্যেই নতুন বাড়ি তৈরি হয়ে যাওয়ার কথা ছিল। মাথার উপর ছাদ না থাকা গরিব মানুষজন আশার আলো দেখছিলেন। কিন্তু বাসিন্দাদের সেই আশায় জল ঢেলে দেয় কেন্দ্র। বন্ধ করে দেয় বরাদ্দ। প্রাপ্য আদায়ের জন্য কেন্দ্রের কাছে অনুনয়-অনুরোধ-আন্দোলন সবই করেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। কিন্তু তাতে লাভ হয়নি।
গতবছরই লোকসভা নির্বাচনের আগে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, কেন্দ্রের মুখাপেক্ষী হয়ে বসে থাকবে না রাজ্য। কেন্দ্র টাকা না দিলে রাজ্যের তরফেই বাড়ি তৈরি করে দেওয়া হবে বলে ঘোষণাও করেন। যেমন কথা, তেমন কাজ। ভোট মিটতেই শুরু হয়ে যায় সার্ভে। গতবছর ২০ডিসেম্বর থেকে প্রথম কিস্তির টাকা ছাড়তে শুরু করে রাজ্য। বীরভূম জেলায় প্রায় ৫৩হাজার ২৮০ জন উপভোক্তাকে প্রথম কিস্তির টাকা দেওয়া হয়। যাঁরা লিনটেল পর্যন্ত বাড়ি তৈরি করে ফেলেছিলেন, তাঁদের মিটিয়ে দেওয়া হয়েছে দ্বিতীয় কিস্তির টাকা। বাড়িও সম্পন্ন করে ফেলেছেন তাঁরা। সবমিলিয়ে প্রায় ৯০ শতাংশ উপভোক্তার বাড়ি তৈরির সম্পন্ন করেছে বলে দাবি প্রশাসনের।
জেলা তৃণমূলের সহ সভাপতি মলয় মুখোপাধ্যায় বলেন, কথা দিয়ে কথা রাখার নামই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কেন্দ্রীয় বঞ্চনার জেরে রাজ্যের অর্থাভাব থাকা সত্ত্বেও আবাস উপভোক্তাদের এক টাকাও আটকাননি তিনি। এতে স্পষ্ট, গরিব মানুষের কথা একমাত্র মমতাদিদিই ভাবেন।