সংবাদদাতা, বেলদা: দাঁতনের পাশ দিয়ে বয়ে গিয়েছে সুবর্ণরেখা। আর সেই নদীই নিরন্তর ভেঙে চলেছে পার। সুবর্ণরেখার পারের কৃষি জমি, বসত বাড়ি সহ স্কুল সব গিলে নিচ্ছে। দাঁতনবাসীর কাছ যা ক্রমেই অন্যতম আতঙ্ক হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতি বছর বর্ষা এলেই সুবর্ণরেখা ভয়াল রূপ নেয়। দাঁতনের বেলমুলা, পানশোলা, পলাশিয়া, বালিডাংরি, মহেশপুর, বাগড়া প্রভৃতি এলাকা প্রতি বছর এই করাল গ্রাসের কবলে পড়ে যায়। প্রশাসনের কাছে দীর্ঘদিনের দাবি ও দরবারের পর শেষমেশ সুবর্ণরেখার পারের ভাঙন রোধে বড়সড় পদক্ষেপ করল রাজ্য ।
সেচ দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, আপাতত ৭ কোটি ৪৫ লক্ষ টাকা ব্যয়ে বেলমুলায় নদী পার বাঁধানোর কাজ চলছে। প্রায় ১.৫ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে পাথর, লোহার জাল ও পলিথিনের বস্তা দিয়ে বিজ্ঞানসম্মতভাবে পার বাঁধানোর কাজ হচ্ছে। এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের অভিযোগ, নদীর ওপারে ওড়িশার অংশে আগে থেকেই পাড় বাঁধানো থাকায় জলের তোড় সরাসরি দাঁতনের দিকে এসে পড়ে। ফলে প্রতি বছর বর্ষায় এপারের বিস্তীর্ণ এলাকা ভাঙতে শুরু করে। অবশেষে রাজ্য সরকারের সেচ দপ্তরের তরফে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ হওয়ায় স্বস্তিতে কয়েক হাজার গ্রামবাসী।
শুক্রবার এই নদী পার বাঁধানোর কাজ খতিয়ে দেখতে এলাকায় যান দাঁতন-১ পঞ্চায়েত সমিতির একটি পরিদর্শনকারী দল। পরিদর্শন শেষে পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি কনক পাত্র বলেন, সুবর্ণরেখা নদীর এই পাড় ভাঙন দাঁতনবাসীর কাছে দীর্ঘদিনের ভয়াবহ সমস্যা। আমাদের বিধায়ক ও জনপ্রতিনিধিরা নিরন্তর সরকারের কাছে এই বিষয়ে দাবি জানিয়ে এসেছেন। সেচমন্ত্রী মানস ভুঁইয়া নিজে এলাকা পরিদর্শনের পর রাজ্য সরকার এই ৭ কোটি ৪৫ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করেছে। সেই মোতাবেক কাজ চলছে। আমরা সেটাই খতিয়ে দেখলাম।
অন্যদিকে, গ্রামের দীর্ঘদিনের এই আতঙ্ক দূর হওয়ায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও রাজ্য সরকারকে ধন্যবাদ জানান এলাকার বাসিন্দা কালীপদ সাঁতরা, উত্তম বেরা ও মণিশঙ্কর মিশ্ররা। তাঁরা জানান, ফি বছর বর্ষা এলেই তাঁদের দুশ্চিন্তার শেষ থাকত না। এবার সেই আতঙ্ক থেকে মুক্তি মিলবে বলে তাঁরা আশাবাদী। দাঁতনের বিধায়ক পরেশ মুর্মু জানান, কাজ এখানেই থামছে না। বেলমুলার পর আগামী দিনে মহেশপুর থেকে আমডিহা পর্যন্ত আরও ৪০০ মিটার পার ভাঙন রোধের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যার জন্য রাজ্য সরকার আরও চার কোটি টাকারও বেশি অর্থ বরাদ্দ করতে চলেছে।