নিজস্বপ্রতিনিধি, রানাঘাট: মিলল ভূমিদপ্তরের পদস্থ কর্তাদের আশ্বাস। শান্তিপুর শহর থেকে সরছে না সাব রেজিস্টার অফিস। তবে আর ডাকঘর মোড়ের ভাড়াবাড়িতে নয়, ঝাঁ চকচকে সাব রেজিস্টার অফিস তৈরি করতে জায়গা দেবে পুরসভাই। প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে তৈরি হতে চলা পুর ভবন লাগোয়া দ্বিতল ভবনেই আগামীদিনে হবে রেজিস্ট্রি অফিসের ঠিকানা। যার ফলে উপকৃত হবেন কমবেশি প্রায় ৫ লক্ষাধিক মানুষ।
দীর্ঘদিন ধরেই শান্তিপুরের সাব রেজিস্টার অফিসটি রয়েছে শহরের প্রাণকেন্দ্রে। ব্যস্ত ডাকঘর মোড়ের একটি ভাড়াবাড়িতে চলছে সরকারি দপ্তরটি। শান্তিপুর শহর তো বটেই, আশপাশের আরও ১০টি অঞ্চল, অর্থাৎ গোটা শান্তিপুর বিধানসভা এলাকার বাসিন্দাদের জমি-বাড়ির রেজিস্ট্রির কাজ হয় সেই অফিস থেকেই। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরেই রেজিস্ট্রি অফিস ভাড়াবাড়িতে চলার কারণে অসুবিধার সম্মুখীন হতে হচ্ছে কর্তাদের। এছাড়াও ভাড়া বাবদ গুনতে হচ্ছে মোটা টাকা। তাই সাব রেজিস্ট্রি অফিসটি অন্যত্র কোনও সরকারি ভবনে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা শুরু করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরটি। প্রাথমিক পর্যালোচনায় ঠিক হয়, ফুলিয়াতে বিএলআরও অফিসের কাছে সরকারি ভবনে স্থানান্তরিত করা হবে দপ্তরটি। কিন্তু রেজিস্ট্রি অফিস ফুলিয়ায় স্থানান্তরিত হলে শান্তিপুর বিধানসভার অন্তর্গত শহরের মানুষ এবং আশপাশের আরও দশটি অঞ্চলের বাসিন্দাদের রেজিস্ট্রির জন্য ছুটতে হবে ফুলিয়া। এরমধ্যে শান্তিপুর শহরের তিন লক্ষাধিক মানুষ, এবং আশপাশের অঞ্চল মিলিয়ে ২ লক্ষাধিক মানুষের প্রত্যক্ষ সমস্যা হবে। তাই পুরসভার চেয়ারম্যান সুব্রত ঘোষ এবং পুরবোর্ড রেজিস্ট্রি অফিসটি শান্তিপুর শহরেই রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কাছে একাধিকবার দরবার করে। কিন্তু ভাড়াবাড়িতে রেজিস্ট্রি অফিস রাখতে চাইছিল না দপ্তর। ফলে সমস্যা চলছিলই। সম্প্রতি পুরসভা ঠিক করে, রেজিস্ট্রি অফিসের জন্য প্রয়োজনীয় জায়গা সরকারি ভবনেই করে দেওয়া হবে। দপ্তরের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল। পুরসভার পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রয়োজনে সরকারি ভবনের ব্যবস্থা করে দেবে তারাই। এরজন্য পুরসভা চত্বরেই নির্মীয়মাণ একটি দ্বিতল ভবনের একতলায় রেজিস্ট্রি অফিস স্থানান্তরের প্রস্তাব দেওয়া হয়। আনুমানিক প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে সেই দ্বিতল ভবনটি তৈরি করছে পুরসভা। শান্তিপুর শহর থেকে সাব রেজিস্টার অফিস সরানোর পরিবর্তে ন্যূনতম ভাড়ায় সেই সরকারি ভবনে সরকারি দপ্তরটি গড়ে তোলার আর্জিতে অবশেষে সাড়া দেয় ভূমিদপ্তর। জায়গা পরিদর্শনের জন্য সোমবার রাজ্যের ইনসপেক্টর জেনারেল অফ রেজিস্ট্রেশন উমাশঙ্কর, নদীয়ার ডিআর নওশাদ সয়েদ এবং এডিস শান্তিপুর লুইস রায়ের একটি সম্মিলিত প্রতিনিধি দল। সূত্রের খবর, নির্মীয়মাণ পুরসভার ভবনটিতে রেজিস্ট্রি অফিস স্থানান্তরের আর্জিতে প্রাথমিক সম্মতি দিয়েছেন পরিদর্শক কর্তারা। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় ভবনটির কাজ শেষ করার কথা বলা হয়েছে পরিদর্শক দলটির তরফে।
শান্তিপুর পুরসভার চেয়ারম্যান সুব্রত ঘোষ বলেন, বহু মানুষের সমস্যা হবে রেজিস্ট্রি অফিস শান্তিপুর শহর থেকে সরে গেলে। জমি বাড়ির রেজিস্ট্রি করতে প্রবীণ মানুষদের পক্ষে দূরে যাওয়া সম্ভব নয়। আমরা চাইছিলাম রেজিস্ট্রি অফিস যাতে শান্তিপুর শহরেই থাকে। পুরসভা তার জন্য উপযুক্ত জায়গা দেবে বলেও আমরা দপ্তরের কাছে আবেদন করেছিলাম। সেইমতো রাজ্যের এক পদস্থ কর্তা সহ পরিদর্শক দল এসেছিল। আমরা তাঁদের জায়গা দেখিয়েছি। রেজিস্ট্রি অফিস পুরসভার জায়গায় স্থানান্তরের প্রাথমিক সম্মতিও দিয়ে দিয়েছেন কর্তারা। এটা আমরা বলতেই পারি, সাব রেজিস্ট্রি অফিস শান্তিপুর শহরেই থাকবে।