নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: পড়ুয়াদের জন্মমাস উদযাপনে উৎসবের পরিবেশ বিদ্যালয়জুড়ে। প্রতি মাসে যেসব পড়ুয়ার জন্মদিন থাকে তা পালন করা হয় বেলডাঙার ৩০নম্বর আণ্ডিরণ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। গত সাত বছর ধরে একইভাবে তা করা হচ্ছে। শনিবার ১১জন খুদে পড়ুয়ার জন্মদিন পালন করা হয়। তাদের সকলকে নিয়ে কেক কেটে পায়েস খাওয়ানো হয়। শাঁখ বাজিয়ে, ধান-দুর্বা ও চন্দনের ফোঁটা দিয়ে সকলকে বরণ ও আশীর্বাদ করলেন প্রধান শিক্ষক বিশ্বজিৎ দত্ত ও তিনজন সহকারী শিক্ষক। শিশুদের জন্মদিন পালনের এই অভিনব কর্মসূচির জন্য ২০১৯সালে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিশ্বজিৎ দত্ত জাতীয় শিক্ষকের সম্মান পেয়েছেন। বিদ্যালয়ও সমাজ ও পরিবারের অংশ। এই ভাবনায় বহু কর্মসূচি গ্রহণ করেছেন তিনি। তারমধ্যে মাসভিত্তিক পড়ুয়াদের জন্মদিন পালন অন্যতম। শিশুদের স্কুলমুখী করতে এই ধরনের কর্মসূচির ভূমিকা উল্লেখযোগ্য বলেই মনে করছেন শিক্ষাবিদরা।
আশপাশের বেশকিছু স্কুল পড়ুয়াদের বিদ্যালয়মুখী করতে নাজেহাল হচ্ছে। আণ্ডিরণ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রতিদিন পড়ুয়াদের হাজিরা থাকে ৯৯-১০০ শতাংশ। এদিন সকাল থেকে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ছিল সাজো সাজো রব। বেলুন ও রংবেরঙের পতাকা দিয়ে সাজানো হয়। বড় কেক কেটে একে অন্যকে খুশিতে খাইয়ে দেয় পড়ুয়ারা। নাচ, গান ও আবৃত্তি পরিবেশন করে সকলে। বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে সকলকে শুভেচ্ছাপত্র তুলে দেন শিক্ষক রাজেন্দ্র প্রামাণিক ও অর্ণব সরকার। সবশেষে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর রাঁধুনি ও সহশিক্ষক অমিত রায়ের তত্ত্বাবধানে প্রত্যেকের থালায় সাজিয়ে দেওয়া হয় জন্মদিনের খাবার। প্রধান শিক্ষক বিশ্বজিৎ দত্ত বলেন, বিদ্যালয়ে শিশুদের জন্মদিন পালন একটি সুন্দর ও শিক্ষামূলক কার্যকলাপ। যা শিশুদের মধ্যে আনন্দ ও উৎসাহ তৈরি করতে পারে। শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং অন্যান্য ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে জন্মদিন পালন করায় শিশুদের মধ্যে সামাজিকতা ও বন্ধুত্বের সম্পর্ক তৈরি হয়। আমাদের নানাবিধ কার্যকলাপে অভিভাবকরাও ছাত্রছাত্রীদের বিদ্যালয়ে আসার জন্য উৎসাহ দিচ্ছেন।