নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: উচ্চ মাধ্যমিকের ফল প্রকাশের পর বেশ কয়েকদিন কেটে গিয়েছে। কিন্তু কলেজগুলিতে ভর্তির বিজ্ঞপ্তি কবে প্রকাশ হবে, তা ছাত্রছাত্রীদের জানা নেই। কলেজগুলিতেও সেই তথ্য নেই। স্বাভাবিকভাবে পড়ুয়াদের পাশপাশি কলেজের আধিকারিকরাও বিভ্রান্তিতে রয়েছেন। শিক্ষাদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, ওবিসি সংরক্ষণ নিয়ে মামলা চলছে। সেই কারণে ভর্তি প্রক্রিয়া নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। গত শিক্ষাবর্ষে কেন্দ্রীয় পোর্টালের মাধ্যমে ভর্তি করা হয়েছিল। তাতে অনিয়ম অনেকটা কমে যায়। এবারও পোর্টালের মাধ্যমে ভর্তি করা হবে বলে আধিকারিকদের দাবি। পড়ুয়াদের দাবি, ভর্তি প্রক্রিয়া সময়ে শুরু না হলে সিলিবাস শেষ করা যাবে না। কলেজের এক অধ্যক্ষ বলেন, ভর্তির দিনক্ষণ নিয়ে আমরাও ধোঁয়াশার মধ্যে রয়েছি। জুনের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে ভর্তির প্রক্রিয়া শেষ করা না গেলে সবার ক্ষেত্রেই সমস্যা হবে। ভর্তিতে এখন কলেজগুলির তেমন ভূমিকা থাকে না। কেন্দ্রীয়ভাবে ভর্তি করা হয়। কোনও নির্দেশ কলেজে আসেনি।
মেমারির ছাত্র সুমন্ত দাস বলেন, স্থানীয় একটি কলেজে গিয়ে দু’বার খোঁজ নিয়েছি। কেউ কিছু বলতে পারছেন না। সংস্কৃত অনার্স নিয়ে পড়াশোনা করার ইচ্ছে রয়েছে। কিন্তু ভর্তির প্রক্রিয়া শুরু না হওয়ায় ধোঁয়াশায় রয়েছি। কোনও কারণে অনার্স না পাওয়া গেলে সমস্যা তৈরি হবে। অন্য একটি কলেজের অধ্যক্ষ বলেন, ভর্তি প্রক্রিয়া দেরিতে শুরু হলে অনেক কলেজে সব বিষয়ে ছাত্রছাত্রী পাওয়া যায় না। অনেক আসন ফাঁকা থেকে যাবে। দেরিতে ভর্তি হলে পড়ুয়ারা প্রথাগত শিক্ষার বাইরে অন্য বিষয় নিয়ে ভর্তি হবে। বেসরকারি কলেজগুলিতে পড়ুয়া বাড়বে। গত বছরও বহু নামী কলেজে আসন ফাঁকা ছিল। বিজ্ঞান বিভাগের বিষয়গুলিতেও পড়ুয়া পাওয়া যায়নি। এবছর ওবিসির জট কবে কাটবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। সময়ে ভর্তি প্রক্রিয়া চালু করা গেলে ছাত্রছাত্রীরা পড়াশোনা শুরু করতে পারবে। ক্লাসে যেতে না হওয়ায় পড়াশোনার অভ্যাসও অনেকে হারিয়ে ফেলবে।
তৃণমূল ছাত্র পরিষদের রাজ্যের সাধারণ সম্পাদক মহম্মদ সাদ্দাম বলেন, শিক্ষাদপ্তর এই বিষয়টি যথেষ্টই গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। কিছুদিনের মধ্যেই ভর্তি প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যাবে। ছাত্রছাত্রীদের পড়াশোনার ক্ষতি হবে না। গত বছরও জুন মাসে ভর্তি শুরু হয়েছিল। বর্ধমানের বাসিন্দা অভিভাবক গৌরাঙ্গ ভট্টাচার্য বলেন, ছেলের ইচ্ছে শহরের একটি নামী কলেজে বাংলা অনার্স নিয়ে পড়াশোনা করার। ফলাফল বেরনোর পর একবার কলেজে খোঁজ নিতে গিয়েছিলাম। কিছুই জানতে পারিনি। ছেলে পড়াশোনাও শুরু করতে পারছে না। বেশিদিন পড়াশোনা বন্ধ থাকলে উৎসাহ হারিয়ে ফেলবে। দ্রুত ভর্তি প্রক্রিয়া শুরু করা দরকার। না হলে অনেক ছাত্রছাত্রীর সমস্যা হবে। যারা টেকনিক্যাল বিষয় নিয়ে বেসরকারি কলেজে ভর্তি হবে, তাদের সমস্যা নেই। প্রতীকী ছবি