Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / ব্যবসা

শিল্প টানতে পরিকাঠামো উন্নয়নে জোর

শিল্প টানতে বড়জোড়া শিল্পাঞ্চলের পরিকাঠামো উন্নয়নে জোর দিয়েছে রাজ্য সরকার। সরকারি উদ্যোগে রাস্তাঘাট, আলো, পানীয় জল, নিকাশি ব্যবস্থার উন্নয়ন করা হচ্ছে।

শিল্প টানতে পরিকাঠামো উন্নয়নে জোর
  • ২৭ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: শিল্প টানতে বড়জোড়া শিল্পাঞ্চলের পরিকাঠামো উন্নয়নে জোর দিয়েছে রাজ্য সরকার। সরকারি উদ্যোগে রাস্তাঘাট, আলো, পানীয় জল, নিকাশি ব্যবস্থার উন্নয়ন করা হচ্ছে। তারজন্য ঢালাও অর্থ বরাদ্দ করা হচ্ছে বলে বড়জোড়ার বিধায়ক অলোক মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন। পুরনো রাস্তা আমূল সংস্কারের পাশাপাশি নতুন করেও কিছু রাস্তা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তার ফলে শিল্পাঞ্চলের সামগ্রিক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি হবে বলে বড়জোড়া ব্লক প্রশাসনের আধিকারিকরাও মনে করছেন। 

Advertisement

বিধায়ক বলেন, বড়জোড়া শিল্পাঞ্চলে আগের তুলনায় পরিকাঠামোগত উন্নয়ন বেশি হচ্ছে। রাজ্য পুলিশের সশস্ত্র ব্যাটেলিয়নের বারাকের উল্টোদিকে দুই লেন বিশিষ্ট রাস্তার কাজ প্রায় শেষের পথে। ওই রাস্তার পাশে হাইড্রেন্ট হয়েছে। পথবাতিও বসানো হয়েছে। এছাড়াও শিল্পাঞ্চলে আরও একাধিক রাস্তা, নিকাশি নালার কাজ চলছে। শিল্পাঞ্চলের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য রাজ্য সরকার বেশ কয়েক কোটি টাকা ইতিমধ্যেই বরাদ্দ করেছে। আগামী দিনে আমরা আরও দাবিদাওয়া সরকারের কাছে পেশ করব। 
বড়জোড়া ব্লক প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন, শিল্পপতিরা কোনও এলাকায় কারখানা গড়ে তোলার আগে পরিকাঠামোর হাল খতিয়ে দেখেন। বড়জোড়া-দুর্লভপুর শিল্প করিডর তৈরি হওয়ার ফলে পরিকাঠামোগত উন্নয়ন তরান্বিত হয়েছে। আগামী দিনে আরও উন্নয়নমূলক কাজ হবে। তারজন্য প্রস্তাব জেলাস্তরে পাঠানো হবে। 
উল্লেখ্য, বাম আমল থেকেই মেজিয়া-বড়জোড়া শিল্পাঞ্চলে কারখানা স্থাপিত হয়। তবে ওইসময় স্পঞ্জ আয়রনের মতো দূষণ সৃষ্টিকারী কারখানা বেশি তৈরি হয়েছিল। তারফলে দূষণে এলাকার বাসিন্দারা জেরবার হন। ইস্পাত ও শঙ্কর ধাতু তৈরির বেশকিছু কারখানা বড়জোড়া-মেজিয়া শিল্পাঞ্চলে রয়েছে। পাশাপাশি কাগজকল, ছাপাখানা সহ অন্যান্য ক্ষেত্রের উৎপাদনভিত্তিক শিল্পও গড়ে উঠেছে। বেশিরভাগ কলকারখানা বড়জোড়া-দুর্লভপুর শিল্প করিডরের দু’ পাশে গড়ে উঠছে। বছর দশেক আগে ওই রাস্তা সম্প্রসারিত হয়। আমূল সংস্কারের ফলে বর্তমানে বড় যানবাহন সহজেই ওই করিডর হয়ে চলাচল করতে পারে। মাঝারি কলকারখানার পাশাপাশি গঙ্গাজলঘাটির দুর্লভপুরে ডিভিসির তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র, অন্য সংস্থার সিমেন্ট কারখানা সহ একাধিক শিল্প ইউনিট রয়েছে। দু’টি বড় খোলামুখ কয়লা খনিও রয়েছে। সেখান থেকে উৎপাদিত কয়লা ভিন জেলায় চলে যায়। তারজন্যও সরকারের তরফে সংশ্লিষ্ট এলাকায় পরিকাঠামো উন্নয়ন করা হয়েছে। 
বিধায়ক বলেন, কারখানার কোনও সমস্যা হলে মালিকপক্ষ আমাদের জানায়। আমরা প্রশাসনের সহযোগিতায় সেসব সমাধানের চেষ্টা করি। বিভিন্ন সময়ে শ্রমিকদের দাবিদাওয়া আমরা মালিকপক্ষকে জানিয়ে থাকি। সামান্য কারণে যাতে উৎপাদন বন্ধ বা লকআউটের মতো বড় কোনও সিদ্ধান্ত মালিকপক্ষ না নেয়, সে ব্যাপারেও সকলকে বারবার বলা হয়। শ্রমিকদের বোনাস সহ অন্যান্য সুযোগ সুবিধা কর্তৃপক্ষ যাতে দেয়, সেদিকেও আমরা খেয়াল রাখি।     

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ