নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: আচমকা চাকরি চলে যাওয়ায় স্কুলের পঠনপাঠন এবং প্রশাসনিক কাজে প্রভাব পড়ছে। তাই ২৬ হাজার শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীর চাকরি বাতিলের রায় পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আর্জি জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করল রাজ্য সরকার এবং স্কুল সার্ভিস কমিশন। ২০১৬ সালের নিয়োগ প্রক্রিয়া। ফলে এতদিন চাকরি করার পর আচমকা তা হারাতে হলে সামাজিক প্রেক্ষিতেও তার প্রভাব পড়ে। তাই ‘যোগ্য’ শিক্ষকদের বাছাই করে যেভাবে আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত কাজ চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ সুপ্রিম কোর্ট করে দিয়েছে, একইভাবে শিক্ষাকর্মীদের ক্ষেত্রেও অন্তত সেরকম কোনও উপায় বের করা যায় কি না, তার আর্জি জানানো হয়েছে বলেই খবর। চলতি মে মাসের মধ্যেই বিষয়টি স্পষ্ট করে নিতে চায় রাজ্য সরকার।
গত ৩ এপ্রিল ২৫ হাজার ৭৫২ জনের চাকরি বাতিলের ‘রায়’ দিয়েছিল দেশের প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খান্না এবং বিচারপতি সঞ্জয় কুমারের বেঞ্চ। সেই রায়দানের চারদিনের মাথায় সাময়িক সুরাহা চেয়ে ‘মিসলেনিয়াস অ্যাপ্লিকেশন’ করে পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ। কিন্তু প্রধান বিচারপতি খান্নার নির্দেশ ছিল—চলতি মে মাসে বিজ্ঞাপন প্রকাশ এবং ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন করে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ—এই পুরোটাই সেরে ফেলতে হবে। আগামী ১৩ মে তিনি অবসর নিচ্ছেন। তাই হাতে আর মাত্র ছ’দিন। তাঁর অবসরের পরেও রায় পুনর্বিবেচনার শুনানি হতেই পারে। তবে রাজ্য চায়, বিচারপতি খান্না পদে থাকাকালীনই যাতে এ ব্যাপারে একটা সুরাহা হয়ে যায়। শুনানির তারিখ অবশ্য চূড়ান্ত হয়নি। রায় পুনর্বিবেচনা মামলার শুনানি প্রকাশ্য আদালতে (ওপেন কোর্ট) হয় না। বিচারপতিদের চেম্বারে হয়। রিভিউয়ের ক্ষেত্রে আগের অবস্থান সম্পূর্ণ বদলে দেওয়ার সুযোগও থাকে কম। তবুও চেষ্টার ত্রুটি রাখতে চায় না পশ্চিমবঙ্গ সরকার এবং স্কুল সার্ভিস কমিশন। উল্লেখ্য, সুপ্রিম কোর্টে ‘রিভিউ’ পিটিশন খারিজ হলে শেষ চেষ্টা ‘কিউরেটিভ পিটিশনে’রও সুযোগ রয়েছে।
নতুন নিয়োগ না হওয়া তথা চলতি শিক্ষাবর্ষ শেষ না হওয়া পর্যন্ত চাকরিহারাদের সবাইকেই বহাল রাখা হোক—এই ছিল রাজ্যের আর্জি। সেই আবেদনে আংশিক সাড়া দিয়েছিলেন বিচারপতি সঞ্জীব খান্না। গত ১৭ এপ্রিল তিনি জানিয়ে দেন, সহকারী-শিক্ষকের অভাবে নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির পড়ুয়ারা যাতে পড়াশোনায় অসুবিধার মুখে না পড়ে (সাফার), সেকথা মাথায় রেখেই এই নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু শিক্ষাকর্মীদের কোনও সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। এবার সেই অংশের পাশাপাশি সামগ্রিক রায় পুনর্বিবেচনার আর্জি জানাল রাজ্য সরকার এবং স্কুল সার্ভিস কমিশন। অপেক্ষা কবে হয় শুনানি। কী হয়?