স্বার্ণিক দাস, কলকাতা; লাক্ষাদ্বীপে ত্রাণসামগ্রী পরিবহণের জন্য দেশের মধ্যে সর্বপ্রথম মালবাহী ড্রোন আসে বায়ুসেনার হাতে। একইসঙ্গে সেই ড্রোনের মাধ্যমে চালানো হয় নজরদারিও। কিন্তু, এখনও পর্যন্ত দেশের কোনো পুলিশবাহিনীর কাছে মালবাহী ড্রোন নেই। তার নিরিখে এবার নয়া ইতিহাস তৈরি করছে পশ্চিমবঙ্গ।
নজরদারির পাশাপাশি মালবহন করতে সক্ষম, এমন ড্রোন কিনছে রাজ্য পুলিশ। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর্বের পর মালবাহী ড্রোন কেনার বিষয়টি চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছে। ভবানীভবন সূত্রের খবর, প্রাথমিকভাবে তিনটি অত্যাধুনিক প্রযুক্তিসম্মত ড্রোন কেনা হচ্ছে। এই মর্মে দরপত্রও ডাকা হয়েছে। তিনটি ড্রোন কিনতে খরচ পড়বে আনুমানিক ৫০ লক্ষ টাকা। রাজ্যে বন্যাপরিস্থিতি তৈরি হলে দুর্গতদের ত্রাণসামগ্রী ও ওষুধপত্র পাঠাতে বিশেষ কার্যকরী হবে এই ড্রোন।
রাজ্য পুলিশ জানিয়েছে, ড্রোনগুলি ব্যাটারি চালিত। উড়ন্ত যন্ত্রটি একবারের ফুলচার্জে ৬০ মিনিট পর্যন্ত মাল নিয়ে উড়তে সক্ষম। এই যন্ত্রে থাকছে দুটি ব্যাটারি। তবে দুটিই একসঙ্গে কাজ করে না, একটি কাজ করে। কোনো কারণে ব্যাটারির ক্ষমতা ফুরিয়ে এলে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে ‘অ্যাক্টিভেট’ হয়ে যাবে দ্বিতীয় ব্যাটারি। তিন কেজি পর্যন্ত মাল বহনক্ষমতা রয়েছে এই ড্রোনের। এটি মালসমেত ৬ কিমি পর্যন্ত অতিক্রম করতে পারবে। তবে নজরদারি চালানোর সময় প্রায় ১০ কিমি দূরত্ব যেতে সক্ষম এই ড্রোন। অভিনব ড্রোনটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে আড়াই কিমি উচ্চতা পর্যন্ত উড়তে সক্ষম। মাল না-থাকলে সেক্ষেত্রে উচ্চতা আরও কিছুটা বাড়তে পারে।
এই ড্রোন মাল নিয়ে একস্থান থেকে অন্যত্র কীভাবে যাবে? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ড্রোনের একেবারে তলার দিকে চারটি হাতল। রিমোটের সুইচ টিপলে সেগুলি স্বয়ংক্রিয়ভাবে খুলে যাবে। চার হাতলের মাঝে রাখতে হবে সামগ্রী। ফের সুইচের মাধ্যমেই সেই হাতল আটকে যাবে। প্রস্তুতি শেষ হলে ড্রোন উড়ে যাবে গন্তব্যে। গোটা যাত্রাপথ আকাশ থেকে নজরদারি করা যাবে এলইডি ডিসপ্লেতে। আধিকারিকরা তার মাধ্যমে গোটা যাত্রাপথ তদারকি করতে পারবেন।
ভবানীভবনের একটি সূত্র জানিয়েছে, দিন-রাত নির্বিশেষে কাজ করতে সক্ষম উচ্চক্ষমতার এই ড্রোন। ফোরকে, ৩০ ফ্রেম/সেকেন্ড পর্যন্ত ভিডিয়ো রেকর্ডিং করবে মালবাহী ড্রোন। কিন্তু, রাতের বেলায় দৃশ্যমানতা কম থাকলেও দিকভ্রান্ত হবে না এই উড়ন্ত যান। উন্নত প্রযুক্তি হিসেবে ড্রোনে থাকছে ইনবিল্ট ‘লেজার ফাইন্ডার’। তার মাধ্যমে দিকনির্দেশ করা যাবে। গন্তব্যে পৌঁছানোর আগে ব্যাটারির ক্ষমতা শেষ হয়ে গেলেও ভেঙে পড়বে না। লেজারের মাধ্যমে নিকটবর্তী জমি খুঁজে নিয়ে ল্যান্ড করবে স্বয়ংক্রিয়ভাবে।