নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: গোটা রাজ্যে ব্যক্তিগত বাড়িতে এক কোটি ৫৮ লক্ষ শৌচাগার বানানো হয়েছে। মিশন নির্মল বাংলা প্রকল্পে রাজ্যের অধিকাংশ বাড়িতেই শৌচাগার নির্মাণের লক্ষ্যমাত্রা পূরণের পথে। আমাদের লক্ষ্য, রাজ্যে এমন কোনও বাড়ি থাকবে না, যেখানে শৌচাগার নেই। বুধবার এমনই দাবি করলেন পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী বেচারাম মান্না। মুর্শিদাবাদ জেলার পর্যালোচনা বৈঠকে নির্মল বাংলা মিশনের একাধিক বিষয়ে কাজের খতিয়ান তুলে ধরেন তিনি। সভায় হাজির ছিলেন মন্ত্রী আখরুজ্জামান, সভাধিপতি রুবিয়া সুলতানা, জেলাশাসক রাজর্ষি মিত্র, বিধায়ক হুমায়ুন কবির, কানাইচন্দ্র মণ্ডল, বায়রন বিশ্বাস, মহম্মদ আলি প্রমুখ।
এদিন মন্ত্রী বলেন, মুর্শিদাবাদ জেলায় সাত লক্ষ দু’হাজার বাড়িতে শৌচাগার বানিয়ে দেওয়া হয়েছে। রাজ্যে ৯৬২২টি কমিউনিটি টয়লেট হয়েছে। তারমধ্যে এই জেলায় ৭২৪টি কমিউনিটি টয়লেট হয়েছে। আরও উপযুক্ত জায়গা মতো কমিউনিটি টয়লেট বানানো হবে। রাজ্যব্যাপী ৩২ হাজার ৮৭৭টি সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট প্রকল্প গড়ে তোলা হয়েছে। তারমধ্যে এই জেলায় ২০৯টি গ্রাম পঞ্চায়েতে এই প্রকল্প হয়েছে। আরও ৪১টি পঞ্চায়েতে সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট প্রকল্প তৈরি করতে হবে। গ্রে ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট এই জেলায় ১৮৬২টি প্রকল্প হয়েছে। আরও বাড়াতে হবে এই কাজ।
তিনি আরও বলেন, সার্বিকভাবে গ্রাম পঞ্চায়েত ও পঞ্চায়েত সমিতি নির্মল বাংলা মিশনে ভালো কাজ করার চেষ্টা করছে। আমরা ভালো কাজকে স্বীকৃতি দিচ্ছি। এদিনও বেশ কয়েকটি পঞ্চায়েত ও পঞ্চায়েত সমিতিকে ভালো কাজের জন্য পুরস্কার তুলে দিয়েছি। এই রাজ্যে ৮৪টি প্ল্যাস্টিক বর্জ্য ম্যানেজমেন্ট প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে। এই জেলায় ওই প্রকল্প হয়েছে দু’টি। এই জেলার মোট সাড়ে সাত কিলোমিটার পিচ ও প্ল্যাস্টিক দিয়ে রাস্তা নির্মাণ হয়েছে। মন্ত্রী এদিন ঘোষণা করেন, যে পঞ্চায়েত বেশি প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহ করে উপার্জন করবে, ওই পঞ্চায়েতকে রাজ্যস্তরে পুরস্কার দেওয়া হবে। সেই সঙ্গে জেলাস্তরেও পুরস্কার দেওয়া হবে। রাজ্যের পঞ্চায়েত দপ্তর মিশন নির্মল বাংলা প্রকল্পে এই অর্থবর্ষে ২৭০০ কোটি টাকা খরচ করতে পারবে। তাই অর্থের সমস্যা নেই। জন প্রতিনিধি ও সরকারি আধিকারিকদের সদিচ্ছা থাকা প্রয়োজন।
এদিন তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় সরকার আমাদের প্রকল্প মডেল হিসেবে দেখাচ্ছে গোটা দেশজুড়ে। আর একটু সচেতন হলে নির্মল ও মডেল গ্রাম হিসেবে জায়গা পাবে এই জেলার বহু গ্রাম। এই জেলাকে এক নম্বর জেলা হিসেবে তুলে ধরতে হবে আমাদের। এদিন সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট প্রকল্পে পুরস্কার পেয়েছে মণীন্দ্রনগর গ্রাম পঞ্চায়েত। গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান সুষমা ঘোষ বলেন, আমরা অত্যন্ত খুশি। সকলে মিলে চেষ্টা করেছি বহরমপুর শহর লাগোয়া এই গ্রাম পঞ্চায়েতকে সুন্দর করে গড়ে তোলার জন্য। তাই সমস্ত গ্রাম থেকে সব রকমের বর্জ্য পদার্থ আমরা সংগ্রহ করি। সেগুলি পৃথকীকরণ করে তার প্রকল্প গড়ে তোলা হয়েছে। সেটি সঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করাও হচ্ছে। আজ রাজ্যের মন্ত্রীর হাত থেকে পুরস্কার নিতে পেরে আমরা সকলেই খুশি।