সংবাদদাতা, বিষ্ণুপুর: উচ্চমাধ্যমিকে রাজ্যে চতুর্থ এবং মেয়েদের মধ্যে প্রথম হয়েছেন সোনামুখীর সৃজিতা ঘোষাল। তিনি ইঞ্জিনিয়ার হতে চান। শহরের রানিরবাজারের বাসিন্দা সৃজিতা তাঁর স্কুলের গর্ব। কারণ, তাঁর আগে সোনামুখী গার্লস হাইস্কুল থেকে কেউ মেধাতালিকায় স্থান পাননি। তাই বিদ্যালয়ের শিক্ষিকারা ভীষণ খুশি। একই সঙ্গে তাঁর বাবা, মা ও আত্মীয় পরিজনরাও খুশি হয়েছেন।
সৃজিতা ৪৯৪ নম্বর পেয়েছেন। বাংলা, ইংরেজি ও অঙ্কে ৯৮ করে এবং পদার্থ বিজ্ঞান ও জীবনবিজ্ঞানে ১০০ নম্বর করেই পেয়েছেন। কৃতী ওই ছাত্রী বলেন, ভালো রেজাল্ট হবে ভেবেছিলাম। কিন্তু, মেধাতালিকায় স্থান পাব, তা আশা করিনি। রেজাল্ট শুনে প্রথমে বিশ্বাসও করতে পারিনি। তিনি বলেন, বাঁধাধরা নিয়মে পড়িনি। তবে মনোযোগ সহকারে প্রতিটি বিষয় খুঁটিয়ে পড়েছি। বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা এবং গৃহশিক্ষকরা ভীষণভাবে সহযোগিতা করেছেন। সেই সঙ্গে বাবা ও মায়ের অবদান তো রয়েইছে। অবসর সময়ে ছবি আঁকতে ভালো লাগে। সৃজিতার বাবা ভবদাস ঘোষাল স্থানীয় কোচডিহি হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক। তিনি বলেন, সৃজিতা আমার একমাত্র মেয়ে। ভালো ফল করায় আমি ভীষণ খুশি হয়েছি।
সৃজিতার যখন ছ’বছর বয়স তখন তাঁর গর্ভধারিণী মা সঞ্চিতা ঘোষালের মৃত্যু হয়। দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়াশোনা করার সময় তাঁর বর্তমান মা সুচিতা ঘোষাল বাড়িতে আসেন। সুচিতাদেবী বলেন, বাড়িতে আসার পর থেকেই আমি সৃজিতাকে নিজের মেয়ে হিসেবেই দেখেছি। সেই জন্য নিজে সন্তান নিইনি। আমি ও আমার স্বামী দু’জনে মিলে খুব যত্ন করেই মেয়েকে মানুষ করেছি। ও আমাদের পরিশ্রমের মর্যাদা রেখেছে। মেয়ের সাফল্যে খুব খুশি। গর্ববোধ হচ্ছে। সোনামুখী গার্লস হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষিকা গৌরী লাহা বলেন, সৃজিতা পঞ্চম শ্রেণি থেকেই ক্লাসে প্রথম হয়ে আসছে। সে ভালো ফল করবে আশা করেছিলাম। আমাদের বিদ্যালয় থেকে সৃজিতাই প্রথম মেধাতালিকায় স্থান পেয়েছে। বিদ্যালয়ে মোট পরীক্ষার্থী ছিল ৮১জন। তার মধ্যে সৃজিতা ছাড়াও অপর এক ছাত্রী অন্বেষা চৌধুরী ৪৮৬নম্বর পেয়েছে। ২নম্বরের জন্য ও মেধাতালিকায় ঢুকতে পারেনি। ওরা আমাদের স্কুলের নাম উজ্জ্বল করেছে। এদিন সৃজিতাকে মুখ্যমন্ত্রীর পাঠানো শুভেচ্ছাপত্র পৌঁছে দেন বিষ্ণুপুরের মহকুমা শাসক প্রসেনজিৎ ঘোষ। এছাড়াও সোনামুখীর বিডিও প্রিয়াঙ্কা হাটি, সোনামুখী থানার আইসি সুপ্রিয়রঞ্জন মাজি সৃজিতাকে পুষ্পস্তবক দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।