Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / সম্পাদকীয়

শ্রীরামকৃষ্ণের নারীভক্তবৃন্দ ও বলরাম মন্দির

শ্রীরামকৃষ্ণের নারীভক্তদের মধ্যে স্বামী প্রেমানন্দের ভগিনী তথা তারাপ্রসাদ ঘোষ ও মাতঙ্গিনী দেবীর জ্যেষ্ঠা কন্যা শ্রীমতী কৃষ্ণভাবিনী শ্রীরামকৃষ্ণের প্রিয় পার্ষদ বলরাম বসুর সহিত পরিণীতা হইয়া সেবা ও ভক্তিগুণে শ্রীরামকৃষ্ণভক্ত সকলের বন্দনীয়া হইয়াছিলেন।

শ্রীরামকৃষ্ণের নারীভক্তবৃন্দ ও বলরাম মন্দির
  • ২৩ অক্টোবর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

শ্রীরামকৃষ্ণের নারীভক্তদের মধ্যে স্বামী প্রেমানন্দের ভগিনী তথা তারাপ্রসাদ ঘোষ ও মাতঙ্গিনী দেবীর জ্যেষ্ঠা কন্যা শ্রীমতী কৃষ্ণভাবিনী শ্রীরামকৃষ্ণের প্রিয় পার্ষদ বলরাম বসুর সহিত পরিণীতা হইয়া সেবা ও ভক্তিগুণে শ্রীরামকৃষ্ণভক্ত সকলের বন্দনীয়া হইয়াছিলেন।
বলরাম ও কৃষ্ণভাবিনীর বিবাহের পর তাঁহারা বহুকাল পর্যন্ত উড়িষ্যা প্রদেশের বালেশ্বর জেলার অন্তর্গত ভদ্রক মহকুমার কাছারি বাড়িতে অথবা ভদ্রকের কয়েক ক্রোশ অন্তরে কোঠার নামক গ্রামের বসতবাটীতে বসবাসপূর্বক শ্যামচাঁদ বিগ্রহের সেবা-পূজা-পাঠে রত থাকিতেন। ফলত বলরাম বসুর অসামান্যা রূপগুণশালিনী পত্নী কৃষ্ণভাবিনী দেবীও তাঁহাকে আন্তরিকভাবে উক্তকার্যে সহায়তা করিতেন। জমিদারির কাজকর্ম বলরাম বসু কখনই দেখিতে পারিতেন না। তাঁহার পিতা রাধামোহন বসু ও ভ্রাতৃবর্গ সেইসব দেখিতেন। নিজ জ্যেষ্ঠা কন্যা ভুবনমোহিনীর বিবাহ উপলক্ষে বলরামবাবু কলিকাতার বাটীতে আগমন করেন এবং শ্রীরামকৃষ্ণের পুণ্যদর্শনলাভে ধন্য হইয়া উড়িষ্যায় আর ফিরিয়া যাইলেন না। প্রথম দর্শনেই তাঁহাকে শ্রীরামকৃষ্ণ পূর্বপরিচিত পরমাত্মীয় ভক্ত বলিয়া চিহ্নিত করিয়াছিলেন। এই মিলনের পর হইতে বলরাম প্রায় প্রত্যহই শ্রীরামকৃষ্ণকে দর্শন করিতে যাইতেন। নিজ স্ত্রী কৃষ্ণভাবিনী, পুত্র রামকৃষ্ণ এবং কন্যাগণ ও আত্মীয়-স্বজনদের লইয়া দক্ষিণেশ্বরে যাইতেন। শ্রীরামকৃষ্ণকে নিজালয়ে লইয়া আসিয়া তাঁহার সহিত আনন্দ করিবার সুযোগ উপস্থিত হইলে তাহা কখনো পরিত্যাগ করিতেন না।
শ্রীরামকৃষ্ণ বালক বাবুরাম ও তাঁহার ভগিনী কৃষ্ণভাবিনীকে বিশেষ স্নেহ করিতেন। তাহার কারণ নির্দেশ করিয়া স্বামী শিবানন্দ লিখিয়াছেন, “বাবুরাম ও তাঁহার ভগিনী ভাবিনী সম্বন্ধে ঠাকুরের উচ্চধারণা ছিল। তাঁহাদের অন্তরে নিঃস্বার্থ ভগবৎপ্রেম দেখিয়া তিনি বলিতেন, ‘উহারা শ্রীমতীর অংশে জন্মগ্রহণ করিয়াছেন।’ এইকথা স্মরণ করিয়াই শ্রীমদ্‌ বিবেকানন্দ স্বামী উত্তরকালে বাবুরাম মহারাজের নাম প্রেমানন্দ রাখিয়াছেন।”
বলরাম বসু সর্বান্তঃকরণে শ্রীরামকৃষ্ণের এবং তাঁহার সন্ন্যাসী-পার্ষদ ও ভক্তবৃন্দের সেবা করিয়াছেন। তাঁহার স্ত্রী কৃষ্ণভাবিনী যথাযথরূপে সেক্ষেত্রে স্বামীর অনুগমন করিয়াছেন। বস্তুতপক্ষে কৃষ্ণভাবিনীর সহযোগিতা ব্যতীত বলরাম বসুর পক্ষে তাহা সম্পন্ন করা সম্ভব ছিল না। তাঁহাদের উভয়ের অন্তরের ভগবৎপ্রেম চিরজাগরুক ছিল। তাহার সহায়ে তাঁহারা শ্রীরামকৃষ্ণের কৃপা ও অশেষ আশীর্বাদলাভ করিয়াছিলেন। বলরাম বসুর ন্যায় কৃষ্ণভাবিনী দেবীও উচ্চবংশ জাত এবং দিব্যগুণশালিনী ছিলেন। অথচ বহিরঙ্গে তাহার কোনরূপ প্রকাশ পরিলক্ষিত হয় নাই। তিনি সম্পূর্ণভাবে অন্তঃপুরচারিণী থাকিয়াও তাঁহার ঐকান্তিক সেবার শ্রীরামকৃষ্ণভক্তমণ্ডলীতে অনন্য স্বীকৃতিলাভ করিয়াছিলেন।

Advertisement

স্বামী শিবপ্রদানন্দ সম্পাদিত ‘শ্রীরামকৃষ্ণ-ভাবতীর্থ বলরাম মন্দির’ থেকে

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ