Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

শ্বশুর-শাশুড়িকে পুড়িয়ে খুন, যাবজ্জীবন কারাদণ্ড জামাইয়ের

তিন বছর আগে ঘুমন্ত অবস্থায় শ্বশুর-শাশুড়িকে পুড়িয়ে মারার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডের সাজা দিল হাওড়া আদালত। শুক্রবার হাওড়া এডিজে সেকেন্ড কোর্টের বিচারক সোমেশপ্রসাদ সিনহা গোষ্ঠ মণ্ডলকে এই সাজা শোনান।

শ্বশুর-শাশুড়িকে পুড়িয়ে খুন, যাবজ্জীবন কারাদণ্ড জামাইয়ের
  • ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: তিন বছর আগে ঘুমন্ত অবস্থায় শ্বশুর-শাশুড়িকে পুড়িয়ে মারার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডের সাজা দিল হাওড়া আদালত। শুক্রবার হাওড়া এডিজে সেকেন্ড কোর্টের বিচারক সোমেশপ্রসাদ সিনহা গোষ্ঠ মণ্ডলকে এই সাজা শোনান।

Advertisement

আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, জগৎবল্লভপুরের বাসিন্দা গোষ্ঠ মণ্ডল প্রায়দিনই তার স্ত্রী মালতি মণ্ডলের উপর অত্যাচার করত। স্ত্রী’র বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক রয়েছে সন্দেহ করে মদ্যপ অবস্থায় শ্বশুর হারু হাজরা ও শাশুড়ি তিলকা হাজরাকে প্রায়দিনই প্রাণে মারার হুমকি দিত। শেষ পর্যন্ত ২০২২ সালের ১২ জুলাই মাঝরাতে ঘুমন্ত অবস্থায় থাকা শ্বশুর-শাশুড়ি হারুবাবু ও তিলকাদেবীর উপর কেরোসিন তেল ঢেলে আগুন জ্বালিয়ে দেয়। তাঁদের চিৎকার শুনে ছুটে আসেন বড় ছেলে কার্তিক। স্থানীয় বাসিন্দারা আশঙ্কাজনক অবস্থায় দু’জনকে হাসপাতালে ভর্তি করেন। যেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় তাঁদের। মৃত্যুর আগে জামাইয়ের বিরুদ্ধে পুড়িয়ে মারার অভিযোগ করে যান হারুবাবু। সেই অভিযোগ ভিডিও রেকর্ডিং করা হয়। হারুবাবুর ছেলে কার্তিক হাজরার অভিযোগের ভিত্তিতে গোষ্ঠ মণ্ডলকে গ্রেপ্তার করে জগৎবল্লভপুর থানার পুলিশ। পরে শুরু হয় বিচারপর্ব। গত তিনবছরে মোট ২৩ জন সাক্ষ্য দান করেন। এদিন হাওড়া আদালতের বিচারক আসামি গোষ্ঠ মণ্ডলের বিরুদ্ধে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডের সাজা ঘোষণা করেন। মামলার সরকারি পক্ষের আইনজীবী ছিলেন মুখ্য কৌঁসুলি সোমনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁকে এই মামলায় সহযোগিতা করেন সহকারী কৌঁসুলি পার্থসারথি সাঁতরা। মুখ্য কৌঁসুলি সোমনাথবাবু বলেন, ‘অত্যন্ত নৃশংস ঘটনা। মৃতের পরিবার অবশেষে বিচার পেল। আদালতের উপর আস্থা ছিল তাঁদের।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ