Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / বিদেশ

সমাধানসূত্র অধরা, ভেস্তে গেল ইরান-আমেরিকার শান্তি বৈঠক, তেহরানের বাকি পরিকাঠামো ধ্বংসের হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

প্রায় ২১ ঘণ্টা ধরে বৈঠক। কিন্তু তারপরেও খুলল না জট। আশা জাগিয়েও আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনা ভেস্তে গেল। দীর্ঘ বৈঠক চালিয়েও সমাধানসূত্র বের করা যায়নি।

সমাধানসূত্র অধরা, ভেস্তে গেল ইরান-আমেরিকার শান্তি বৈঠক, তেহরানের বাকি পরিকাঠামো ধ্বংসের হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের
  • ১৩ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

ইসলামাবাদ: প্রায় ২১ ঘণ্টা ধরে বৈঠক। কিন্তু তারপরেও খুলল না জট। আশা জাগিয়েও আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনা ভেস্তে গেল। দীর্ঘ বৈঠক চালিয়েও সমাধানসূত্র বের করা যায়নি। শেষ পর্যন্ত রবিবার পাকিস্তানের ইসলামাবাদ থেকে নিজেদের দেশে ফিরে গিয়েছে মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধিদল। তার আগে মার্কিন প্রতিনিধিদলের তরফে ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভান্স জানান, পরমাণু কর্মসূচি বন্ধ করার প্রস্তাবে রাজি হয়নি ইরান। শান্তি বৈঠক ভেস্তে যাওয়াকে ইরানের জন্য ‘বিরাট দুঃসংবাদ’ বলেও দাবি করেছেন ভান্স। যদিও পালটা আমেরিকার দিকে আঙুল তুলেছেন ইরানের প্রতিনিধিদলের প্রধান তথা পার্লামেন্টের স্পিকার মহম্মদ বাঘের ঘালিবাফ। তিনি জানান, আমেরিকাকে আগে ঠিক করতে হবে যে তারা ইরানের বিশ্বাস অর্জন করতে চায় কি না। আমেরিকা ‘অতিরিক্ত’ ও ‘বেআইনি’ দাবি করছে বলেও দাবি করেছে ইরানের বিদেশ মন্ত্রক। ইরানের সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, পরমাণু অস্ত্র কর্মসূচি বন্ধ ও হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত করার বিষয়েই ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারেনি দুই দেশ। এক্স হ্যান্ডলে ইরানের বিদেশমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাঘচি জানান, আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে বৈঠক চলাকালীন ভান্সকে ফোন করেন নেতানিয়াহু। তার পরেই গোটা আলোচনার প্রসঙ্গটি বদলে যায়। গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে ইজরায়েলের স্বার্থের দিকটি। আমেরিকা যুদ্ধের মাধ্যমে যা করতে পারেনি, তা বৈঠকের মাধ্যমে হাসিল করার চেষ্টা করছিল।

Advertisement

বৈঠক ভেস্তে যেতেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পালটা পদক্ষেপের কথা জানিয়েছেন। তিনি জানান, হরমুজ প্রণালীতে যে সব জাহাজ ঢুকতে বা বেরতে চাইবে, সেগুলিকে এখন থেকে তাদের আটকে দেবে মার্কিন নৌসেনা। তাঁর স্পষ্ট বার্তা, ইরানকে ‘বেআইনিভাবে’ টাকা দিয়ে কোনো জাহাজ হরমুজ ব্যবহার করতে পারবে না। সেই সব জাহাজ যাতে মূল সমুদ্রে আসতে না পারে, তার ব্যবস্থা করবে নৌসেনা। ইরানের পরিকাঠামোর যেটুকু বাকি রয়েছে, তাও ধ্বংস করে দেওয়া হবে বলেও হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প।
একমাসের বেশি সময় ধরে সংঘাত চলার পর সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছিল ইরান ও আমেরিকা। ইসলামাবাদে শান্তি বৈঠকে বসার বিষয়েও সম্মত হয় তারা। শনিবারই ইসলামাবাদে পৌঁছায় দুই দেশের প্রতিনিধিদল। মধ্যস্থতাকারী হিসাবে উপস্থিত ছিলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ, সেনাপ্রধান আসিম মুনির সহ একাধিক শীর্ষ নেতা-মন্ত্রী। ১৯৭৯ সালে ইরানে ইসলামিক বিপ্লবের পর এই প্রথম তেহরান ও ওয়াশিংটনের শীর্ষকর্তারা মুখোমুখি আলোচনায় বসেছিলেন। তাই, হরমুজ সহ বাকি বিষয়গুলি নিয়ে স্থায়ী সমাধানসূত্র বের হয় কি না, তার দিকে নজর ছিল সকলেরই। কিন্তু রবিবার সকালেই স্পষ্ট হয়ে যায়, আলোচনা আপাতত ব্যর্থ। কিন্তু ২১ ঘণ্টা ধরে আলোচনা চললেও কেন সমাধানসূত্র বের হল না? এই নিয়ে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট বিস্তারিত কিছু বলতে চাননি। তবে ভান্স বলেন, ‘বিষয়টা খুব সহজ। আমারা দেখতে চাই যে ওরা (ইরান) কোনো পরমাণু অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করবে না ও এমন কোনো উপকরণও চাইবে না, যা তাদের দ্রুত পরমাণু অস্ত্র অর্জনে সাহায্য করবে।’ ট্রাম্পেরও এটাই লক্ষ্য বলে জানান তিনি।
অন্যদিকে, ঘালিবাফ লিখেছেন, ‘দেশ হিসাবে ইরানের অধিকার রক্ষার জন্য সামরিক লড়াইয়ের পাশাপাশি কর্তৃত্বমূলক কূটনীতিকেও আমরা অন্যতম মাধ্যম মনে করি। চল্লিশ দিন ধরে লড়াইয়ে আমরা যে সব অর্জন করেছি, সেগুলিকে একজোট করার প্রচেষ্টা থেকে আমরা এক মুহূর্তের জন্যও বিরত হব না।’ ইরানের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র ইসমাইল বাকেয়ি বলেন, ‘৪০ দিনের যুদ্ধের পর এই আলোচনা হচ্ছে। একটি বৈঠকে কোনো চুক্তিতে পৌঁছানোর প্রত্যাশা করা উচিত নয়। আমেরিকা ও ইরানের দৃষ্টিভঙ্গিকে কাছাকাছি নিয়ে আসার চেষ্টা অব্যাহত রাখব।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ