নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা ও বারাসত: ‘পহেলগাঁওয়ের বদলাতেই থেমে যাওয়া যাবে না। ছিনিয়ে আনা হোক পাক অধিকৃত কাশ্মীর বা পিওকে। অনেক হয়েছে। দেশের ম্যাপটা সম্পূর্ণ হোক।’ ‘অপারেশন সিন্দুর’ নিয়ে প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে কোনওভাবে রক্ষণাত্মক হতে নারাজ কলকাতাবাসী। বরং সোজা ব্যাটে আক্রমণাত্মক স্ট্রাইকে ভারতীয় ম্যাপে থাকা পাক অধিকৃত কাশ্মীর চাইছেন গিরিশ পার্কের বাসিন্দা শংকর সেনগুপ্ত। একই সুরে সুর মিলিয়েছেন ঠাকুরপুকুরের মিতা চক্রবর্তীও। তিনি বলেন, ‘পাকিস্তান যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে গোলাবর্ষণ করছে। তার জবাবে চুপ থাকা কেন। সামরিক শক্তির নিরিখে ভারত তো কোনও অংশে পিছিয়ে নেই। অপারেশন সিন্দুরের পর সরকারি প্রেস বৈঠকই তার প্রমাণ। দেশের মেয়েরাই যথেষ্ট। মহিলা সেনা আধিকারিকদের নেতৃত্বেই অধিকৃত সব জঙ্গি ঘাঁটি নিকেশ করে, কাশ্মীরকে পর্যটনের জাতীয় কেন্দ্র করে তোলার আবেদন জানাচ্ছি সরকারের কাছে’।
মঙ্গলবার গভীর রাতে ২৫ মিনিটের অপারেশন। ব্যস তাতেই থরহরিকম্প পাকিস্তান। পাকিস্তানের কোনও জাতীয় সম্পত্তি নয়, সেনা ছাউনি নয়। পহেলগাঁওয়ে ভারতীয় মহিলাদের সিঁদুর মুছেছিল যারা, বেছে বেছে সেই জয়েশ, লস্কর-ই-তোইবা, হিজবুলদের জঙ্গি ঘাঁটি নিকেশ করে ভারতীয় সেনা। সকালের সংবাদপত্রে সেই খবর পাওয়া মাত্রই চোখ জুড়ায় ভারতবাসীর। বাদ নেই শহরও। বেহালার গৃহবধূ বনানী দাস বলেন, ‘ঠিক হয়েছে। সঠিক জবাব। হিন্দু চিহ্নিত করে নির্মম গণহত্যার এটাই উচিৎ শিক্ষা। ভারতের মানবিকতা রয়েছে বলেই কোনও পাক নাগরিকের উপর হামলা চালানো হয়নি। অ্যাকশন হয়েছে শুধুমাত্র জঙ্গিদের উপর।’ আগামীতে দেশে যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে জেনেও কোনওভাবে আতঙ্কিত নয় শহরবাসী। বরং তাঁরা চাইছেন, পাকিস্তানের জঙ্গি-শক্তি ধ্বংস করতে। পার্লামেন্ট, মুম্বই, উরি, পহেলগাঁওয়ের মতো বারবার দেশবাসীর উপর অতর্কিত হামলার চিরতরে শেষ চাইছেন নেটিজেনরাও।
অন্যদিকে, অপারেশনের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে বুধবার উত্তর ২৪ পরগনা জুড়ে সেলিব্রেশন চলল। বারাসত থেকে হাবড়ায় চলল বাজি ফাটানো থেকে মিষ্টিমুখ। এদিন চাঁপাডালি মোড়ে কয়েকজন যুবক ভারতের জাতীয় পতাকা কাঁধে নিয়ে রাস্তায় নেমে পড়েন। তাদের হাতে মিষ্টির প্যাকেট। পথচলতি মানুষদের হাতে সেই মিষ্টি তুলে দিয়ে পাকিস্তানের ঘাঁটিতে প্রত্যাঘাতের আনন্দ ভাগ করে নিলেন। হাবড়াতেও সাধারণ মানুষ সেনার এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানান। হাবড়া ১ নম্বর গেট এলাকা থেকেই দেশের পতাকা হাতে নিয়ে বিজয় উল্লাসে মাতেন মানুষ। চলে বাজি ফাটানো ও মিষ্ঠিমুখ পর্ব। বারাসতের সাহিদ ইসলাম বলেন, পাকিস্তানের জঙ্গিরা যেভাবে নিরীহ পর্যটকদের খুন করেছে, তাতে মহিলাদের সিঁদুর মোছার প্রত্যাঘাতের অপেক্ষায় ছিলাম। এতদিনে স্বস্তি হল।