নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: পরিযায়ী পাখির ভূস্বর্গ জামবনী ব্লকের কেন্দুয়া গ্ৰাম। বর্ষার আসার দেরি নেই। বৃষ্টির জলে পুকুর, ডোবা, খাল, বিল ভরে উঠবে। কেন্দুয়া গ্ৰামে এবার আগেই হাজির শামুকখোল পাখির দল। পাখি ও পাখির ডিম আগলাতে প্রতিবারের মতো এবারও গ্ৰামবাসীরা রাত জাগবেন।
ঝাড়গ্রাম থেকে জামবনী ব্লকের ঢোকার রাস্তার মুখে সারি সারি বৃহৎ তেঁতুল গাছ। বর্ষায় দল বেঁধে শামুকখোল পাখির দল এই গ্ৰামে উড়ে আসে। তেঁতুল গাছে বাসা বাঁধে। বর্ষার সময়ে এলাকার পুকুর, খাল, বিলে পর্যাপ্ত শামুক, গুগলি, ছোট মাছ মেলে। সেগুলি এই পাখিদের প্রধানতম খাদ্য । শামুকখোল পাখি শব্দ করে ডাকতে পারে না। গায়ের রং সাদা কালো। প্রজননের সময় প্রতিবছর নির্দিষ্ট এলাকায় এসে গাছে বাসা বাঁধে। বর্ষার শেষে এদের প্রজননের সময়। ডিম ফুটে ছানাদের বড় হতে কিছু সময় লাগে। হেমন্তের শুরুতে পাখির দল ডানা মেলা বাচ্চাদের নিয়ে আবার অন্য ডেরায় উড়ে যায়। শামুকখোল পাখির ঠোঁটের বিশেষ বৈশিষ্ট্য রয়েছে। নীচের ঠোঁটের সঙ্গে উপরের ঠোঁটের বড় ফাঁক। ঠোঁটের গড়নের কারণে সহজে শামুক মুখে তুলে চাপ দিয়ে শামুকের ঢাকনা খুলে ভিতরের নরম অংশ খেতে পারে। মূলত শামুকের ঢাকনা খোলার বিশেষ কৌশলের কারণেই এই পাখির নামকরণ শামুকখোল রাখা হয়েছে।
পশ্চিম ভারত ও পূর্ব এশিয়ার দেশগুলি থেকে একসময় শামুকখোল পাখিরা বাংলায় আসত। বর্তমান জলাজমি এলাকায় এদের এখন সারাবছর দেখা যায়। তবে বাচ্চা উড়তে শিখলে এরা অন্য জায়গায় চলে যায়। কেন্দুয়া গ্ৰামের বাসিন্দা বিধান মাহাত বলেন, বাড়ির বড় বড় তেঁতুল গাছের ডালে শামুকখোল পাখিরা প্রতিবার বাসা বাধে। এই বছর আগেই চলে এসেছে। এই পাখিদের দেখতে বহু মানুষ এখানে আসেন। বনদপ্তর থেকেও পাখিদের উপর নজর রাখার জন্য বলা হয়েছে। প্রতিবারের মতো এবারও পাখি ও পাখিদের ছানাদের রক্ষায় গ্ৰামবাসীরা রাতে পাহারা দেবেন। অপর বাসিন্দা বছর তিরিশের বিকাশ পরামাণিক এদিন বলেন, শামুকখোল পাখিদের জন্য এই গ্ৰামের পরিচিতি চারিদিকে ছড়িয়ে পড়েছে। রাজ্য সরকারের তরফেও ঋতু পাখির ভূস্বর্গ বলে গ্ৰামটিকে চিহ্নিত করা হয়েছে। পর্যটকরা এই সময় দূরদূরান্ত থেকে এখানে আসেন। চোরাশিকারিদের বিপদ রয়েছে। শামুকখোল পাখিদের বাঁচাতে আমার সবসময় নজর রাখি। ডিম ফোটার সময় গ্ৰামবাসীরা রাতেও পাহারা দেন।
ঝাড়গ্রাম বন বিভাগের প্রাক্তন কর্তা সমীর মজুমদার বলেন, শামুকখোল পাখিরা একসময় পরিযায়ী পাখি বলে চিহ্নিত ছিল। বছরের নানা সময়ে এদের এখন বিভিন্ন এলাকায় দেখা যায়। শামুকখোল পাখিদের সত্তর শতাংশ খাদ্য শামুক। প্রাকৃতিক বিবর্তন এদের বিশেষ কিছু বৈশিষ্ট্য দিয়েছে। বিশেষ করে ঠোঁট, পায়ের বড় ধারালো নখ ও গলার কাছে উঁচু অংশ। পরিযায়ী থেকে স্থায়ীভাবে থেকে যাওয়ার কারণ নিয়ে গবেষণা হওয়া দরকার । ঝাড়গ্রাম বন বিভাগের এক আধিকারিক বলেন, কেন্দুয়া গ্ৰামে ৯টি প্রজাতির পাখি দেখা যায়। পাখিদের রক্ষায় গ্ৰামবাসীদের ভূমিকা প্রশংসনীয়। -নিজস্ব চিত্র