Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

আইপিএস, আইএএস পরিচয় দিয়ে প্রতারণা ধৃত বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী হলদিবাড়ির পাচারকারী

সোশ্যাল মিডিয়ায় নাম ভাঁড়িয়ে এভাবেই প্রতারণার জাল বিস্তার করে ধৃত আলবেরুণী সরকার।

আইপিএস, আইএএস পরিচয় দিয়ে প্রতারণা ধৃত বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী হলদিবাড়ির পাচারকারী
  • ২৪ মে, ২০২৫ ১৬:০৫
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি ও সংবাদদাতা, হলদিবাড়ি: আইপিএস থেকে আইএএস! সিবিআই থেকে ‘র’ এজেন্ট! সোশ্যাল মিডিয়ায় নাম ভাঁড়িয়ে এভাবেই প্রতারণার জাল বিস্তার করে ধৃত আলবেরুণী সরকার। শুধু প্রতারণা নয়, ধৃত যুবক নাবালিকার উপর যৌন নির্যাতন ও বন্যপ্রাণীর অঙ্গ পাচারেও অভিযুক্ত। ছ’দিন ধরে প্রধাননগর থানার পুলিস ধৃতের বিরুদ্ধে তদন্ত চালিয়ে এমন তথ্য পেয়েছে। শুক্রবার পুলিস ধৃতের হলদিবাড়ির বাড়ি ও তার অ্যাকাউন্ট থাকা ব্যাঙ্কে হানা দেয়। ধৃতের কাছ থেকে একটি সোনার চেন ও গাড়ি বাজেগাপ্ত করেছে। 

Advertisement

প্রধাননগর থানার আইসি বাসুদেব সরকার বলেন, ধৃত প্রতারকের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। তাকে সহযোগিতা করার অভিযোগে ধৃতের ‘গার্লফ্রেন্ড’ বর্ণা রায়কেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গোটা ঘটনা গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। 
গত ১৮ মে প্রধাননগর থানায় আলবেরুণীর বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ করে একটি কেন্দ্রীয় স্কুলের এক শিক্ষিকা। ওই দিনই পুলিস তদন্তে নেমে হলদিবাড়ি থেকে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, দক্ষিণ দিনাজপুরে বাড়ি হলেও কর্মসূত্রে শিলিগুড়িতে থাকেন ওই শিক্ষিকা। ২০২৩ সালে তাঁর সঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়ায় আলবেরুণীর পরিচয়। সেই সময় সে নিজেকে আইএএস অফিসার বলে শিক্ষিকার কাছে পরিচয় দেয়। নিজের নাম বলে সুরজিৎ রায়। রাজগঞ্জে বাড়ি। এতেই গলে যান ওই শিক্ষিকা। তাদের সম্পর্ক গাঢ় হয়। এরপর মা’র চিকিৎসার নাম করে এক বছরে শিক্ষিকার কাছ থেকে সে ৪২ লক্ষ টাকা এবং একটি সোনার চেন হাতিয়েছে বলে অভিযোগ। 
মোবাইল ফোনের টাওয়ার লোকেট করে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে প্রধাননগর থানার পুলিস। আদালতের নির্দেশে ধৃত এখন পুলিস হেফাজতে। টানা ছ’দিন ধরে ধৃতের বিরুদ্ধে তদন্ত চালিয়ে পুলিস চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে। পুলিস সূত্রে খবর, নিজের ধর্ম, নাম, ঠিকানা পাল্টে আইপিএস, আইএএস, সিবিআই ও ‘র’ এজেন্ট পরিচয় দিয়ে সে প্রতারণার জাল বিস্তার করত। তার সফ্ট টার্গেট ছিল মহিলারা। ওই শিক্ষিকাকে ফাঁদে ফেলতে ধৃতকে সহযোগিতা করেছে তার বান্ধবী। সে ওই শিক্ষিকার স্কুলের চতুর্থ শ্রেণির কর্মী। এজন্য আলবেরুণীর পাশাপাশি তার বান্ধবীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর আগে সে এভাবে এক নাবালিকাকে ফাঁদে ফেলে যৌন নির্যাতন চালায় বলে অভিযোগ। ধৃতের বিরুদ্ধে পকসো আইনি মামলা রয়েছে। এছাড়া, সীমান্তে চোরাচালান ও বন্যপ্রাণীর অঙ্গ পাচারেও সে অভিযুক্ত। 
এদিন প্রধাননগর থানার পুলিস হলদিবাড়িতে ধৃতের বাড়িতে তল্লাশি অভিযান চালায়। পুলিস সূত্রে খবর, ধৃত ও তার গার্লফ্রেন্ডের মিলিয়ে ছ’টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে শিক্ষিকার টাকা লেনদেন হয়েছে। সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টগুলির তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। ধৃতের পাঁচটি মোবাইল ফোন সহ ন’টি সিম কার্ড, সোনার চেন ও চারচাকা গাড়ি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। ধৃত যুবক বিবাহিত।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ