বিশ্বজিৎ দাস, কলকাতা: ফোন স্মার্ট হয়েছে। ঘড়িও হয়েছে স্মার্ট। সুতরাং স্বাস্থ্যক্ষেত্রই বা পিছিয়ে থাকবে কেন? এবার রাজ্যজুড়ে তৈরি হতে চলেছে স্মার্ট আউটডোর বা সরকারি পরিভাষায় ‘স্মার্ট ওপিডি’। এমনই সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্বাস্থ্যদপ্তর।
বিশ্বজিৎ দাস, কলকাতা: ফোন স্মার্ট হয়েছে। ঘড়িও হয়েছে স্মার্ট। সুতরাং স্বাস্থ্যক্ষেত্রই বা পিছিয়ে থাকবে কেন? এবার রাজ্যজুড়ে তৈরি হতে চলেছে স্মার্ট আউটডোর বা সরকারি পরিভাষায় ‘স্মার্ট ওপিডি’। এমনই সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্বাস্থ্যদপ্তর।
এখন প্রশ্ন আসছে দু’টি। প্রথম প্রশ্ন হল, কী এই স্মার্ট আউটডোর? দ্বিতীয়টি হল, সরকারি হাসপাতাল, মেডিক্যাল কলেজ এবং স্বাস্থ্যকেন্দ্র মিলিয়ে প্রায় ১৪ হাজার চালু সরকারি পরিকাঠামো থাকার পরও কেন হঠাৎ প্রয়োজন পড়ল স্মার্ট আউটডোরের। নাকি এ শুধু গিমিক।
স্বাস্থ্যদপ্তর সূত্রের খবর, স্মার্ট ওপিডি’র প্রধান উদ্দেশ্য হল সরকারি হাসপাতালের আউটডোরে আসা মানুষের ভোগান্তি কমানো। বর্তমানে বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালের আউটডোরে ডাক্তার দেখানোর পর ভোগান্তির সীমা পরিসীমা থাকে না রোগী ও পরিজনদের। তার কারণ হল, এক জায়গায় ডাক্তার দেখানো তো সেখান থেকে বেশ খানিকটা দূরে রোগপরীক্ষা বা রক্তপরীক্ষার জায়গা। সেখানেই দুর্ভোগের শেষ নয়, শেষকালে আবার ওষুধ নেওয়ার জন্য আরও দূরের কোনও বাড়ি বা একই বাড়ির অন্য তলাতে ফার্মাসির খোঁজ করা এবং সেখান থেকে ওষুধ নেওয়া। সবমিলিয়ে রোগীকে নিয়ে একবার এই বাড়ি, একবার সেই বাড়ির অমুক ঘর তমুক ঘরে ছোটাছুটি করতে গিয়ে কাহিল অবস্থা হয় তাঁর। সেই ভোগান্তি কমাতে একই ছাদের নীচে পাশাপাশি ঘরে ডাক্তার দেখানো, রোগ ও রক্ত পরীক্ষার ব্যবস্থা রাখা এবং শেষে ফার্মাসি থেকে বিনা পয়সায় ওষুধ নিয়ে বাড়ি ফেরা। এটাই স্মার্ট আউটডোর।
স্বাস্থ্যভবন এবং বিভিন্ন জেলা সূত্রের খবর, রাজ্য প্রাথমিকভাবে দ্বিতীয় স্তরের বা সেকেন্ডারি লেভেল হাসপাতালগুলির আউটডোরকে স্মার্ট ওপিডিতে পরিণত করতে চাইছে। দ্বিতীয় স্তরের হাসপাতালগুলির মধ্যে রয়েছে ১৪টি জেলা হাসপাতাল, ৩৪টি মহকুমা হাসপাতাল এবং ২৭টি স্টেট জেনারেল হাসপাতাল।
সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই বারাকপুরের সাংসদ পার্থ ভৌমিকের সাংসদ তহবিলের অর্থসাহায্যে উত্তর ২৪ পরগনার ভাটপাড়া এবং নৈহাটি স্টেট জেনারেল হাসপাতালে তৈরি হচ্ছে স্মার্ট আউটডোর। সাংসদ তহবিল থেকে দু’টি হাসপাতালের জন্য ২ কোটি করে মোট ৪ কোটি টাকা দিয়ে পরিকাঠামো তৈরি হচ্ছে। বাকি অর্থ দেওয়ার কথা স্বাস্থ্যদপ্তরের। জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ সমুদ্র সেনগুপ্ত বলেন, আশা করছি, এই বছরের শেষদিকে এই দুই হাসপাতালের স্মার্ট ওপিডি চালু হয়ে যাবে।
স্মার্ট ওপিডি’র ধাঁচেই স্মার্ট ক্লিনিক তৈরির সিদ্ধান্ত হয়েছে স্কুল অব ট্রপিক্যাল মেডিসিনেও। সেখানকার একতলার ম্যালেরিয়া ক্লিনিকটিকে স্মার্ট ক্লিনিকে রূপান্তরিত করা হচ্ছে। একই ছাদের নীচে ম্যালেরিয়ার জন্য রক্ত সংগ্রহ করা, রক্ত পরীক্ষা এবং পজিটিভ হলে ওষুধ দেওয়া—সবই একই দিনের মধ্যে করা হবে।