সমীর সাহা, নবদ্বীপ: প্রায় দু’বছর আগে নতুনভাবে নবদ্বীপ শহরের বাসস্ট্যান্ড তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। কিন্তু সেই কাজ অত্যন্ত ধীর গতিতে চলায় বেজায় ক্ষুব্ধ যাত্রী, স্থানীয় বাসিন্দা থেকে শুরু করে বাস চালক ও কর্মীরা। বাসস্ট্যান্ডের ঢোকার পথ থেকে বেরনোর রাস্তার একাধিক জায়গায় ছোটবড় গর্ত তৈরি হয়েছে। তবে, সেই জায়গাগুলিতে মাঝে মধ্যে মাটি ফেলে কোনওরকম মেরামতি করা হচ্ছে। তবে, কয়েক দিন যেতেই আবারও সেই সব জায়গায় গর্ত হয়ে যাচ্ছে। এমনকী, স্ট্যান্ডে বাস ঢোকা ও বেরনোর সময় এই ভাঙাচোরা জায়গা থেকে ধুলো উঠছে। এই বাসস্ট্যান্ডটি সম্পূর্ণভাবে বাস চলাচলের উপযুক্ত করে তোলা হোক, এমনটাই চান বাসকর্মী ও যাত্রীরা।
প্রসঙ্গত, নবদ্বীপ পুরসভা যাত্রী সাধারণের কথা ভেবে অনেক আগে থেকে এই বাসস্ট্যান্ডকে নতুনভাবে সাজিয়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়েছিল। ২০২৪ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি ভার্চুয়ালি এই বাসস্ট্যান্ডের কাজের সূচনা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ২ কোটি ৬৮ লক্ষ টাকার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কয়েক মাস কাজ চলার পর সেই কাজ বন্ধ হয়ে যায়। এরপর ফের কাজ শুরু হলেও খুবই ধীর গতিতে চলছে।
নবদ্বীপ পুরসভার চেয়ারম্যান বিমানকৃষ্ণ সাহা বলেন, ওই বাসস্ট্যান্ডের পুনঃনির্মাণের কাজ চলছে। এখনও সময় লাগবে। এটা হেরিটেজ শহর, আধুনিক চিন্তাভাবনার প্রতি সামঞ্জস্য রেখে নতুন নতুন নির্মাণের কাজ হচ্ছে। সেই কারণে এই বাসস্ট্যান্ডের কাজ শেষ হতে বিলম্ব হচ্ছে। এই কাজের জন্য প্রায় ২ কোটি ৬৮ লক্ষ টাকার অনুমোদন হয়েছে। ঠিকাদারকে বলে দেওয়া হয়েছে দ্রুত কাজ শেষ করতে হবে।
উল্লেখ্য, এটি নবদ্বীপ ধাম স্টেশন রোড সংলগ্ন এলাকায় শহরের একমাত্র বাসস্ট্যান্ড। এখান থেকে দক্ষিণবঙ্গের বর্ধমান, আসানসোল, দুর্গাপুর, বাঁকুড়া, কালনা, কাটোয়া, তারকেশ্বর ছাড়াও উত্তরবঙ্গের, কোচবিহার, বালুরঘাট, শিলিগুড়ির বাসও ছাড়ে। নবদ্বীপ থেকে কৃষ্ণনগরের মধ্যে বেশকিছু লোকাল বাসও যাতায়াত করে। নবদ্বীপ বেনাচিতি রুটের বাস চালক বিশ্বজিৎ মুখোপাধ্যায় বলেন, আমরা চাই দ্রুত কাজ শেষ করা হোক। চারিদিকে বড় বড় গর্ত হয়ে রয়েছে। খুবই সমস্যা হচ্ছে গাড়ি চালাতে। নদীয়া জেলা বাস পরিবহণ কর্মী ইউনিয়নের নবদ্বীপ বাসস্ট্যান্ডের সম্পাদক সুজিত সরকার বলেন, ১৯৮৯ সালে এই বাসস্ট্যান্ডের উদ্বোধন হয়েছে। পরবর্তী সময়ে কোনও সংস্কারের কাজ হয়নি। ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে দীর্ঘ দিন পর কাজটা শুরু হয়েছিল। কিন্তু কাজটা খুবই ধীর গতিতে চলছে। এব্যাপারে আমরা পুরসভার চেয়ারম্যানকে একাধিক বার বলেছি। তিনি ঠিকাদারদের ডেকে দ্রুত কাজ শেষ করতে বলেছেন। সেই মতো আবার কাজ শুরু হয়েছে।
ঠিকাদার রামচন্দ্র ঘোষ বলেন, কিছু অফিসিয়াল জটিলতার কারণে এই কাজ কিছু দিন বন্ধ ছিল। পরবর্তীতে পুনরায় কাজ শুরু হয়। এখন বাসস্ট্যান্ডের কাজ প্রায় শেষের পথে। এখানে ১৬টি বাস রাখার প্ল্যাটফর্ম তৈরির কাজও শেষ। এই বাসস্ট্যান্ডের উপর একটি অত্যাধুনিক অনুষ্ঠান হল ও মার্কেট তৈরি হবে। সেই জন্য সিঁড়িও তৈরি হয়ে গিয়েছে। বাসস্ট্যান্ডটি আরও উঁচু করে চারিদিকে ব্লক পেপার দিয়ে সুন্দরভাবে মুড়ে দেওয়া হবে। যাত্রীদের বসার জায়গাগুলি রংবেরঙের সুন্দর টাইলসের মাধ্যমে তৈরি করা হবে। আগামী ছ’মাসের মধ্যে এই কাজ শেষ হয়ে যাবে।