নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: উত্তর সিকিমে তিস্তা নদীর কাছে পাহাড়ে ভয়াবহ ধস নামল রবিবার ভোরে। চিয়াকুং নদীর উপর পাহাড়ের একটি বিশাল অংশ ধসে নদীখাতে গিয়ে পড়ে। ধসের জেরে তিস্তার স্বাভাবিক জলপ্রবাহ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে এই নদীর বিস্তীর্ণ এলাকাগুলিতে উচ্চ সতর্কতা জারি করেছে প্রশাসন।
ঘটনার পরপরই তৎপর হয়ে ওঠে জেলা প্রশাসন এবং জরুরি প্রতিক্রিয়া দল। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য চুংথাং থানা ও থেং চেক পোস্ট থেকে পুলিশকর্মীদের ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয়েছে। ধসের জেরে কোথাও জল আটকে রয়েছে কি না এবং সেই জলের গতিবিধি কী, তা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, ধসের পরবর্তী কয়েক ঘণ্টায় সাংকালং এবং ফিদাং আউটপোস্ট এলাকায় তিস্তার জলস্তর আপাতত স্বাভাবিক রয়েছে। তবে নদীর জল অত্যন্ত ঘোলা হয়ে গিয়েছে। তবে সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ তৈরি হয়েছে ধসের ধ্বংসাবশেষকে ঘিরে। পাহাড় থেকে নেমে আসা মাটি ও পাথর তিস্তার সঙ্গে সংযোগস্থলের কাছে একটি নদীতে প্রাকৃতিক বাঁধের মতো বাধা তৈরি করেছে। ওই এলাকা রিয়াং কংমা থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দূরে এবং রংপো থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।
আধিকারিকদের আশঙ্কা, এই প্রাকৃতিক বাধার কারণে জল জমতে থাকলে পরবর্তী সময়ে জল নির্গমনের পরিমাণ আচমকা বেড়ে যেতে পারে। যা প্রথমে সিকিমের তিনিটি এলাকাকে প্রভাবিত করতে পারে। সিকিমের পুলিশ কন্ট্রোল রুম সক্রিয় করা হয়েছে এবং তিস্তা নদী অববাহিকার নিম্নাঞ্চলের ঝুঁকিপূর্ণ বসতিগুলির জন্য উচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। জনসাধারণ, শ্রমিক, মৎস্যজীবী এবং যানবাহন চালকদের নদীর তীর থেকে দূরে থাকতে, মাছ ধরা থেকে বিরত থাকতে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নদীর ধারের ঝুলন্ত সেতু ও ফুটপাত পারাপার এড়িয়ে চলতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
যদিও বর্তমানে তিস্তা নদীর জলপ্রবাহ স্বাভাবিক হয়েছে, তবে তিস্তা ও চিয়াকুং দুই নদীতেই জল জমে রয়েছে। ধস কবলিত অংশ দিয়ে এখনও আংশিকভাবে নদীর জল প্রবাহিত হচ্ছে। এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় কোনও প্রাণহানি বা আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। ধসের কারণে সম্পত্তির কোনও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে জেলা প্রশাসন।