ওয়াশিংটন ও নয়াদিল্লি: রাশিয়া থেকে তেল কেনা নিয়ে হুঁশিয়ারি থেকে চড়া হারে শুল্ক আরোপ। ভারত-মার্কিন সম্পর্কের চলতি শৈত্যে শুধু বাণিজ্যই নয়, প্রভাব প্রতিরক্ষা চুক্তিতেও! ‘বন্ধু’ নরেন্দ্র মোদিকে নিয়ে এবার ডোনাল্ড ট্রাম্পের নয়া মন্তব্যে তাৎপর্যপূর্ণ ইঙ্গিত সামনে আসছে। মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবি, ঝুলে থাকা অ্যাপাচে হেলিকপ্টার সরবরাহ ও শুল্ক ইস্যুতে তাঁর কাছে ব্যক্তিগতভাবে দরবার করতে চেয়েছিলেন স্বয়ং ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদি। তাঁর আর্জি ছিল, ‘স্যার, আমি কি আপনার সঙ্গে দেখা করতে পারি।’ এর আগে পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের যুদ্ধ থামাতে তিনি মধ্যস্থতা করেছেন বলে ট্রাম্প বহুবার দাবি করলেও ভারত তা অস্বীকার করেছে। তবে, মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই নয়া মন্তব্য নিয়ে নয়াদিল্লির কোনও প্রতিক্রিয়া রাত পর্যন্ত সামনে আসেনি। যদিও কটাক্ষ করতে ছাড়েননি লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। এই কংগ্রেস নেতার অভিযোগ, চাপের মুখে ‘আত্মসমর্পণ’ করেছেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর অদম্য নেতৃত্বের প্রশংসা করে মোদিকে বিঁধেছেন তিনি। এক্স হ্যান্ডলে রাহুলের ঠেস, ‘তফাতটা বুঝুন স্যারজি!’
হাউস রিপাবলিকান সদস্যদের রিট্রিটে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘ভারত অ্যাপাচে হেলিকপ্টারের অর্ডার দিয়েছিল। কিন্তু পাঁচ বছরেও তা পায়নি। প্রধানমন্ত্রী মোদি আমার সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, স্যার, আমি কি আপনার দেখা পেতে পারি? হ্যাঁ!’ তবে একইসঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবি, তাঁর সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সম্পর্ক খুবই ভালো। ট্রাম্প আবার একথাও বলেছেন, ‘শুল্ক নিয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদি আমার উপর খুশি নন। আপনারা জানেন, তেল ইস্যুতে ওদের এখন বিশাল পরিমাণে শুল্ক দিতে হচ্ছে। ওরা এখন রাশিয়া থেকে তেল কেনা পর্যাপ্ত পরিমাণে কমিয়েছে।’ তবে প্রধানমন্ত্রী মোদির ওই ব্যক্তিগত প্রচেষ্টাতেই অবশেষে বহু বছর ধরে ঝুলে থাকা অ্যাপাচে জট খোলার ইঙ্গিত দিয়েছেন ট্রাম্প। মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবি, ভারত ৬৮টি অ্যাপাচে হেলিকপ্টারের অর্ডার দিয়েছিল। মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবি, শুল্কের কারণে আমাদের সম্পদ বৃদ্ধি হচ্ছে। ট্যারিফের হাত ধরেই আমেরিকায় সব মিলিয়ে ৬৫ হাজার কোটি ডলার এসেছে বা শীঘ্রই আসতে চলেছে। তবে অ্যাপাচে ইস্যুতে মোদি প্রসঙ্গে ট্রাম্পের ‘স্যার, আপনার সঙ্গে দেখা করতে পারি’ মন্তব্যকে বুধবার হাতিয়ার করেছেন রাহুল গান্ধী। তাঁর ঠেস, ‘এই বিজেপি-এরএসএসের লোকজনকে এখন ভালোই চিনি। সামান্য চাপ দিলেই ভয়ে পালাবে। ট্রাম্প ওখান থেকে ফোনে সংকেত দিতেই নরেন্দ্র ইয়েস স্যার বলে আত্মসমর্পণ করেছেন। নরেন্দ্র মোদিজি ট্রাম্পের পাঠানো সংকেত অনুসরণ করেছেন।’ ১৯৭১ সালের যুদ্ধে মার্কিন চাপ সত্ত্বেও ভারত যে মাথা নত করেনি, সেই প্রসঙ্গ টেনে রাহুল লিখেছেন, ‘নিশ্চয় মনে আছে একটা সময় ছিল যখন ফোন আসত না— এসেছিল (মার্কিন) সপ্তম নৌবহর। এসেছিল অস্ত্র, এয়ারক্র্যাফ্ট ক্যারিয়ার। কিন্তু ইন্দিরা গান্ধীজি বলেছিলেন, আমার যেটা করার সেটাই করব। এটাই তফাত।’